আইপিএল ইতিহাসে শার্দুল ঠাকুরের বিরল রেকর্ড: ১৫ বছর পর পাঞ্জাবের বিপক্ষে নতুন ইতিহাস
আইপিএল ইতিহাসে শার্দুল ঠাকুরের বিরল কীর্তি
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে বল হাতে আগুন ঝরালেন শার্দুল ঠাকুর। ১৪ মে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ১২তম ম্যাচে শার্দুলের বোলিং তোপে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল প্রতিপক্ষ। ৪ ওভার বল করে মাত্র ৩৯ রানের বিনিময়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি নিজের নামের পাশে যোগ করলেন এক বিশেষ মাইলফলক। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ইতিহাসে দীর্ঘ ১৫ বছর পর পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে এমন কীর্তি গড়া প্রথম বোলার হিসেবে নাম লেখালেন।
ম্যাচের নাটকীয় মুহূর্ত ও শার্দুলের বোলিং জাদু
ম্যাচের ১২তম ওভারে শার্দুল ঠাকুরের বোলিং ছিল দেখার মতো। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলেই তিনি প্রভসিমরন সিংকে সাজঘরে ফেরান। প্রভসিমরন ৩২ বলে ৫৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন, যার ক্যাচটি লুফে নেন করবিন বশ। এরপর সেই ওভারের চতুর্থ বলে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারকে আউট করে পাঞ্জাবের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান শার্দুল। আইয়ার তার ইনিংসের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শুভসূচনা করলেও শার্দুলের কৌশলী বোলিংয়ের সামনে টিকতে পারেননি।
শার্দুলের শিকার এখানেই শেষ হয়নি। ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রাজ বাওয়ার ক্যাচ বানানোর মাধ্যমে তিনি তার তৃতীয় উইকেটটি তুলে নেন। এরপর ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মার্কো জানসেনকে আউট করে তিনি নিজের চার উইকেট পূর্ণ করেন। শার্দুলের এই নিয়ন্ত্রিত বোলিং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করে।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ঐতিহ্যের তালিকায় শার্দুল
আইপিএলের ইতিহাসে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ৪ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া তৃতীয় বোলার হলেন শার্দুল ঠাকুর। এর আগে ২০১০ সালে লাসিথ মালিঙ্গা এবং ২০১১ সালে মুনাফ প্যাটেল এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। মালিঙ্গা ২০১০ সালে মুম্বাইয়ের ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়ামে এই রেকর্ড গড়েছিলেন, আর মুনাফ প্যাটেল ২০১১ সালে মোহালিতে ৫ উইকেট নেওয়ার নজির স্থাপন করেছিলেন।
পরিসংখ্যানের আয়নায় মুম্বাই বনাম পাঞ্জাব লড়াই
নিচে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বোলারদের সেরা বোলিং ফিগারগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো:
- মুনাফ প্যাটেল: ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৫ উইকেট (২০১১, মোহালি)
- লাসিথ মালিঙ্গা: ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৪ উইকেট (২০১০, মুম্বাই)
- শার্দুল ঠাকুর: ৪ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট (২০২৬, ধরমশালা)
- হরভজন সিং: ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট (২০১৩, মুম্বাই)
- জাসপ্রিত বুমরাহ: ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট (২০১৮, মুম্বাই)
ম্যাচের অন্যান্য দিক
এই ম্যাচে শার্দুল ঠাকুরের পাশাপাশি দীপক চাহার ২টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া করবিন বশ এবং রাজ অঙ্গদ বাওয়া একটি করে উইকেট নিজেদের ঝুলিতে পুরেছেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের পরেও পাঞ্জাব কিংস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। শার্দুলের এই বিধ্বংসী বোলিং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পেস আক্রমণের গভীরতা ও ধার আবারও প্রমাণ করল। আইপিএলের এই মৌসুমে শার্দুলের ধারাবাহিকতা মুম্বাই ভক্তদের জন্য বড় স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। এমন অভিজ্ঞ ও কার্যকরী বোলার দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, যা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে টুর্নামেন্টের সামনের ম্যাচগুলোতে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
