‘Rajat Patidar got quite annoyed with me….’: RCB boss shares dressing-room sto – আইপিএল ২০২৬: রজত পাতিদারের ‘স্পিন-ব্যাশার’ তকমা নিয়ে কেন চটেছিলেন আরসিবি অধিনায়ক?
আইপিএল ২০২৬-এর নতুন নায়ক রজত পাতিদার
আইপিএল ২০২৬-এর প্লে-অফ পর্যায়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) যে দাপট দেখাচ্ছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অধিনায়ক রজত পাতিদার। কোয়ালিফায়ার ১-এ গুজরাট টাইটান্সের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে তার ম্যাচ জেতানো ইনিংস আবারও প্রমাণ করে দিল কেন তিনি বর্তমানে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ব্যাটার। দলের প্রয়োজনে কীভাবে ইনিংস গড়তে হয় এবং কখন গিয়ার পরিবর্তন করে আক্রমণাত্মক হতে হয়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
‘স্পিন-ব্যাশার’ মন্তব্যে কেন চটেছিলেন পাতিদার?
ম্যাচ শেষে আরসিবির ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট মো ববাত এক মজার তথ্য শেয়ার করেন। তিনি জানান, গত মরসুমে একবার তিনি রজত পাতিদারকে ‘স্পিন-ব্যাশার’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ববাতের উদ্দেশ্য ছিল পাতিদারের স্পিন খেলার দক্ষতার প্রশংসা করা, কিন্তু পাতিদার এই মন্তব্যে কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলেন। সম্ভবত তিনি নিজেকে শুধু স্পিন খেলার বিশেষজ্ঞ হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি, বরং পেস এবং স্পিন—উভয় ক্ষেত্রেই নিজের আধিপত্য প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। ববাতের মতে, সেই ঘটনাটি পাতিদারের জন্য এক প্রকার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
খেলার মোড় ঘোরানোর ক্ষমতা
গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুটা খুব একটা সহজ ছিল না। দলের ওপেনারদের ভালো শুরুর পর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল আরসিবি। সেই মুহূর্তে উইকেটে এসে পাতিদার প্রথমে নিজেকে থিতু করার চেষ্টা করেন। ১১ বলে মাত্র ১৬ রান করার পর তিনি যেভাবে রানের গতি বাড়িয়েছেন, তা ছিল দেখার মতো। ববাতের ভাষায়, পাতিদার এখন পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে শিখে গেছেন। তিনি জানেন কখন রক্ষণাত্মক হতে হবে আর কখন বোলারদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
পরিসংখ্যানের আয়নায় পাতিদার
আইপিএল ২০২৬-এ রজত পাতিদার এখন আরসিবির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এখন পর্যন্ত ৪৮৩ রান করেছেন তিনি, যার স্ট্রাইক রেট চোখ কপালে তোলার মতো—১৯৬.৭৬। ববাত বলেন, ‘রজত এখন যে ধরনের শট খেলছে, তা অবিশ্বাস্য। সে তার খেলার বেসিক ঠিক রেখে প্রতিটি বল ব্যাটের মাঝখানে নিতে জানে, যা একজন সফল ব্যাটারের প্রধান লক্ষণ।’
নেতৃত্বে পরিপক্কতা
অধিনায়ক হিসেবেও পাতিদার নিজের ছাপ রাখছেন। ববাতের মতে, একজন অধিনায়ক যখন নিজে ফর্মে থাকেন, তখন পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। দীনেশ কার্তিক এবং অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের সাথে কঠোর পরিশ্রমের ফল এখন মাঠের পারফরম্যান্সে পরিষ্কার। আইপিএল ২০২৬-এর এই আসরে পাতিদারের খেলার ধরন কেবল আগ্রাসী নয়, বরং বেশ চিন্তাশীল ও কৌশলী। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ম্যাচের উদাহরণ টেনে ববাত জানান, চাপের মুখে ইনিংস টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা পাতিদারকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
ভবিষ্যতের হাতছানি
রজত পাতিদারের এই ধারাবাহিকতা এবং নির্ভীক ব্যাটিং ভঙ্গি তাকে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের ভাবনায় নিয়ে এসেছে। তার এই পারফরম্যান্স কেবল আরসিবি ভক্তদেরই নয়, বরং ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদেরও মুগ্ধ করেছে। কোয়ালিফায়ার ১-এ জয়ের পর আরসিবি এখন ফাইনালে। আর এই ফাইনালে পাতিদারের ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে থাকবেন কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী। ববাতের আশা, পাতিদার তার এই ফর্ম ধরে রাখবেন এবং সামনের দিনগুলোতে ভারতীয় ক্রিকেটের সম্পদ হয়ে উঠবেন।
রজত পাতিদারের এই রূপান্তর প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন খেলোয়াড় নিজেকে কতটা উঁচুতে নিয়ে যেতে পারেন। ‘স্পিন-ব্যাশার’ তকমা ঝেড়ে ফেলে তিনি এখন বিশ্বমানের একজন অল-রাউন্ড টি-টোয়েন্টি ব্যাটার।
