Babar returns while understrength Australia look to 2027 and beyond – বাবর আজমের প্রত্যাবর্তন ও অস্ট্রেলিয়ার তরুণ দল: পাকিস্তান বনাম অস্ট্রেলিয়া ওডিআই সিরিজ
ভবিষ্যতের পথে দুই দল: পাকিস্তানের লক্ষ্য ও অস্ট্রেলিয়ার চ্যালেঞ্জ
২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপ এখনো ১৬ মাস দূরে থাকলেও, উভয় দলের জন্য ওডিআই ম্যাচগুলো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দুই সপ্তাহে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য ছয়টি ম্যাচসহ অস্ট্রেলিয়ার হাতে আছে মাত্র ১৫টি ওডিআই। যদিও উপমহাদেশের কন্ডিশন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপের সাথে সরাসরি মিলবে না, তবুও সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে বের করার জন্য এই সুযোগগুলো দুই দলের কাছেই মূল্যবান।
পাকিস্তানের অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা
বাংলাদেশ সফরের ব্যর্থতার পর পাকিস্তান তাদের দলে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। বাবর আজম, নাসিম শাহ এবং শাদাব খানের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা দলে ফিরেছেন। বিশেষ করে বাবর আজমের উপস্থিতি দলের ব্যাটিং লাইনআপকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, মোহাম্মদ রিজওয়ানকে দলে না রাখাটা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলের তরুণ মুখ হিসেবে রোহাইল নাজির, আরাফাত মিনহাজ এবং আহমেদ দানিয়ালের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চোট ও অসুস্থতার কারণে সাইম আইয়ুব ও ফখর জামানের মতো খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
অস্ট্রেলিয়ার তারুণ্য নির্ভর স্কোয়াড
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া তাদের মূল দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে পাচ্ছে না। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাজলউড বিভিন্ন কারণে সফরে নেই। মিচেল মার্শের চোটের কারণে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে জশ ইংলিসের কাঁধে। তরুণ অলি পিক এবং অলরাউন্ডার লিয়াম স্কটকে দলে নেওয়া হয়েছে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে। সাত বছর পর বিলি স্ট্যানলেকের ফেরা অস্ট্রেলিয়ার গতিময় বোলিং লাইনআপে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
বাবর আজম ও ক্যামেরন গ্রিন: নজরে যারা
বাবর আজম সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। পিএসএল-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তিনি ওডিআই দলে ফিরেছেন। নিজের প্রিয় ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করার দারুণ সুযোগ তার সামনে। অন্যদিকে, ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে। তাকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বিকল্প হিসেবে ফিনিশার হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। বোলিংয়েও তার অবদান দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে আশা করছেন কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড।
পিচ ও পরিবেশের প্রভাব
রাওয়ালপিন্ডির আবহাওয়া এবং শিশির বড় প্রভাব ফেলতে পারে ম্যাচের ফলাফলে। বিকেল ৪:৩০টায় ম্যাচ শুরু হলেও সন্ধ্যার পর শিশিরের কারণে বোলারদের জন্য বল গ্রিপ করা কঠিন হতে পারে। তাই টস জেতাটা এই সিরিজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিরিজের কিছু পরিসংখ্যান
- পাকিস্তান তাদের শেষ দুটি ওডিআই সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতেছে। ১৯৯৮ সালের পর অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তানে কোনো ওডিআই সিরিজ জিততে পারেনি।
- আর মাত্র একটি ওডিআই সেঞ্চুরি করলেই সাঈদ আনোয়ারকে ছাড়িয়ে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়বেন বাবর আজম।
- অলি পিক যদি এই সিরিজে অভিষেক করেন, তবে তিনি হবেন অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ ওডিআই ক্রিকেটার।
লিয়াম স্কট তার প্রথম আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, ‘আমি দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাছ থেকে যতটা সম্ভব শিখতে চাই। আমরা সবাই মিলে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ার এই লড়াইটি নিঃসন্দেহে ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য একটি উপভোগ্য সিরিজ হতে চলেছে।
