‘I’m going to try some grip tech now’ – Sai Sudharsan is hit wicket again – আইপিএল ইতিহাসে বিচিত্র রেকর্ড: পরপর দুই ম্যাচে হিট উইকেট সাই সুদর্শন
অবিশ্বাস্য এক হ্যাটট্রিক: সাই সুদর্শনের বিচিত্র রেকর্ড
ক্রিকেট মাঠের লড়াইয়ে অনেক অদ্ভুত ঘটনাই ঘটে, কিন্তু গুজরাট টাইটান্সের ব্যাটার সাই সুদর্শনের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা আইপিএল ইতিহাসের পাতায় এক বিস্ময়কর অধ্যায় হয়ে থাকবে। পরপর দুই ম্যাচে হিট উইকেটের কবলে পড়ে আউট হওয়া যেকোনো ব্যাটারের জন্যই হতাশাজনক, তবে সুদর্শন এই ঘটনাকে নিয়েছেন বেশ হাস্যরসের সাথেই। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে কোয়ালিফায়ার ২-এ জয়ের পর তিনি নিজের এই অদ্ভুত আউট নিয়ে মজা করতে ছাড়েননি।
কীভাবে ঘটল সেই অদ্ভুত ঘটনা?
কোয়ালিফায়ার ১-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে প্রথমবার তিনি যখন হিট উইকেট হন, তখন ব্যাট হাত থেকে ছিটকে গিয়ে স্টাম্পে আঘাত করে। সেই শোক কাটতে না কাটতেই কোয়ালিফায়ার ২-এ রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে একই দৃশ্যের অবতারণা। ২১৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সুদর্শন যখন ৫৪ বলে ৫৮ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলছিলেন, তখন ব্রিজেশ শর্মার একটি লো ফুল টস ড্রাইভ করতে গিয়ে আবারও তার হাত থেকে ব্যাট ফসকে যায় এবং সজোরে গিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। সঙ্গী শুভমান গিল সেই মুহূর্তে বিস্ময়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন।
সুদর্শনের হাস্যরস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সুদর্শন জানান, তিনি নিজের ব্যাটিং গ্রিপ নিয়ে নতুন কোনো প্রযুক্তি বা পদ্ধতি ব্যবহারের কথা ভাবছেন। তিনি মজা করে বলেন, ‘আমি মনে হয় এবার থেকে গ্রিপ নিয়ে কাজ শুরু করব। শেষ ম্যাচে ব্যাট কয়েকবার বাউন্স হয়ে স্টাম্পে লেগেছিল, কিন্তু এই ম্যাচে যেন ব্যাটটি সরাসরি স্টাম্পের দিকেই গেল!’ তিনি স্বীকার করেছেন যে, কেন এমন ঘটছে তার কোনো নির্দিষ্ট উত্তর তার কাছে নেই। তবে এই বিচিত্র রেকর্ডের তালিকায় আন্দ্রে রাসেল এবং শোয়েব মালিকের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারদের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
শুভমান গিলের সাথে সফল জুটি
ব্যক্তিগত আউটের হতাশাকে ছাপিয়ে গুজরাট টাইটান্সের জন্য বড় স্বস্তির খবর হলো সুদর্শন ও শুভমান গিলের দুর্দান্ত পার্টনারশিপ। কোয়ালিফায়ার ২-এ তারা ১৬৭ রানের একটি অসাধারণ জুটি গড়েন, যা দলকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা পালন করে। গিল জানান, তাদের সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো পারস্পরিক বোঝাপড়া। তারা দুজনেই একে অপরের খেলার ধরন খুব ভালোভাবে জানেন এবং কোন বোলারকে আক্রমণ করা উচিত, তা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা থাকে সুনির্দিষ্ট।
বছরের সেরা জুটি
আইপিএল ২০২৬ মরসুমে গিল ও সুদর্শন জুটি এখন পর্যন্ত চারটি সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ গড়েছেন এবং দুজনেই ব্যক্তিগতভাবে ৭০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করেছেন। তাদের এই রসায়ন গুজরাট টাইটান্সকে শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। সুদর্শন মনে করেন, গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা তাকে অনেক পরিণত করেছে এবং তিনি প্রতিনিয়ত নিজের উন্নতির জায়গাগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে এই জুটির ওপর বড় ভরসা থাকবে গুজরাট শিবিরের।
ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা ও শিক্ষা
সাই সুদর্শনের এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মাঠের পারফরম্যান্স কেবল টেকনিক নয়, অনেক সময় ভাগ্যের ওপরও নির্ভর করে। টানা দুবার হিট উইকেট হয়ে আউট হওয়া ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে বিরল হলেও, সুদর্শন যেভাবে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন, তা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি শিক্ষার বিষয়। বড় মঞ্চে নার্ভাস না হয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং সতীর্থের প্রতি আস্থার কারণেই আজকের গুজরাট টাইটান্স এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার পালা, ফাইনালের মঞ্চে সুদর্শন নতুন কোনো ‘গ্রিপ টেক’ ব্যবহার করেন কি না, অথবা ব্যাট হাতে নতুন কোনো রূপকথার জন্ম দেন কি না।
