Cricket News

Rishabh Pant’s Release To IPL Auction Pool All But Confirmed – আইপিএল নিলামে ঋষভ পন্ত: লখনউ সুপার জায়ান্টস কি বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছে?

Hassan Raza · · 1 min read
Share

আইপিএলে ঋষভ পন্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন

লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG) জার্সিতে ঋষভ পন্তের সময়টা খুব একটা সুখকর ছিল না। অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর মাত্র একদিনের মাথায় এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাকে আগামী মিনি নিলামের আগে ছেড়ে দেওয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ২৭ কোটি টাকার বিশাল অংকের বিনিময়ে দলে থাকা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ম্যানেজমেন্ট তাকে নিয়ে আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি, তবে পন্তের নিলামের পুলে ফেরার সম্ভাবনা এখন প্রায় নিশ্চিত।

অধিনায়কত্ব থেকে সরে আসা এবং পরিসংখ্যানের ব্যর্থতা

গত ২৯ মে লখনউ সুপার জায়ান্টস আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে যে, ঋষভ পন্ত স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। টানা দুটি হতাশাজনক মৌসুমের পর তার এই সিদ্ধান্তকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে। তবে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা পরিসংখ্যানগুলো বেশ উদ্বেগজনক। অধিনায়ক হিসেবে ২৮টি ম্যাচে পন্ত মাত্র ১০টিতে জয় পেয়েছেন, যা তার জয়ের হারকে মাত্র ৩৫.৭১ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ব্যাট হাতেও তার পারফরম্যান্স ছিল মলিন—২৭ গড়ে মাত্র ৫৮১ রান। ২০২৬ সালের মৌসুমটি ছিল দলের জন্য বিপর্যয়কর, যেখানে ১৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৪টিতে জিতে লখনউ পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে শেষ করে।

কেন পন্তকে ছেড়ে দিতে চাইছে লখনউ?

ফ্র্যাঞ্চাইজির অভিজ্ঞ কোচিং প্যানেল—যাদের মধ্যে জাস্টিন ল্যাঙ্গার, কেন উইলিয়ামসন এবং টম মুডি রয়েছেন—তারা মনে করছেন পন্তের পারফরম্যান্স তার বিশাল পারিশ্রমিকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দলের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, ম্যানেজমেন্ট এখন দল পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। তাদের মতে, ২৭ কোটি টাকা একজন খেলোয়াড়ের পেছনে ব্যয় করা লখনউয়ের মতো একটি দলের জন্য আর টেকসই নয়। এই বিশাল বাজেট দিয়ে দলের একাধিক দুর্বল জায়গা পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

বাজেটের চাপে পিষ্ট এলএসজি

আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল খেলোয়াড় হিসেবে ঋষভ পন্তের পারফরম্যান্স দলের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে নিকোলাস পুরানের মতো তারকা খেলোয়াড়রা তাদের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে দলে টিকে থাকার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন, সেখানে পন্তের ধারাবাহিকতার অভাব লখনউকে কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এখন বুঝতে পারছে যে, একটি বড় চুক্তির পেছনে বিনিয়োগ না করে ভারসাম্যপূর্ণ দল তৈরি করা বেশি জরুরি।

নিলামের বাজারে পন্তের অবস্থান

যদি ঋষভ পন্তকে রিলিজ করা হয়, তবে তিনি আসন্ন মিনি নিলামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় নামগুলোর একটি হবেন। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে পন্তের অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজির আগ্রহের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, লখনউ সুপার জায়ান্টস নতুন করে দল সাজানোর সুযোগ পাবে। ২০২২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে দলটি চার মৌসুমের মধ্যে মাত্র দুবার প্লে-অফে উঠতে পেরেছে। এখন তাদের লক্ষ্য এমন একজন অধিনায়ক এবং কোর গ্রুপ খুঁজে বের করা, যারা ধারাবাহিক সাফল্য আনতে সক্ষম হবে।

উপসংহার

লখনউ সুপার জায়ান্টস এবং ঋষভ পন্তের সম্পর্কের এই অবনতি আইপিএলের আগামী মৌসুমে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পন্তকে কি লখনউ পুনরায় কম দামে কেনার চেষ্টা করবে, নাকি অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে দলে নেবে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের আগামী নিলাম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি পরিষ্কার যে, আধুনিক ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের মানদণ্ড ছাড়া শুধুমাত্র নামের ওপর ভরসা করে বিশাল অংকের চুক্তি বজায় রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।