কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ: জেমি পোর্টারের দুর্দান্ত হাফ-সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়ালো এসেক্স
এসেক্সের ত্রাণকর্তা জেমি পোর্টার
রদসেই কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে লিসেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচটি এসেক্সের জন্য শুরু থেকেই বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে দলের ব্যাটিং লাইনের অভিজ্ঞদের ব্যর্থতার দিনে অসাধ্য সাধন করলেন বোলার জেমি পোর্টার। চেলমসফোর্ডে ক্যারিয়ারের প্রথম প্রথম-শ্রেণীর হাফ-সেঞ্চুরি করে তিনি দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। লিসেস্টারশায়ারের করা ৩৩৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে এসেক্স এক সময় চরম বিপাকে পড়েছিল, কিন্তু পোর্টারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তারা লড়াইয়ে ফিরেছে।
বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
ম্যাচের শুরুটা এসেক্সের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। লিসেস্টারশায়ারের বোলারদের দাপটে মাত্র ৩৯ রানেই এসেক্স তাদের প্রথম চার উইকেট হারিয়ে বসে। ডিন এলগার এবং পল ওয়াল্টারের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটাররা দ্রুত সাজঘরে ফিরলে দলের ওপর পাহাড়সম চাপ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ক্রিজে আসা জেমি পোর্টার যেন অন্য এক প্রতিজ্ঞায় মাঠে নেমেছিলেন। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ক্রিজে টিকে থেকে তিনি দলের ইনিংস মেরামত করেন।
পোর্টারের ঐতিহাসিক হাফ-সেঞ্চুরি
৩২ বছর বয়সী এই পেসার সাধারণত বোলিংয়ের জন্য পরিচিত হলেও এদিন তার ব্যাটিং ছিল দেখার মতো। এর আগে তার সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৩৪ রান, যা তিনি ১১ বছর আগে কার্ডিফে করেছিলেন। এদিন সব ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে তিনি ১১৭ বল মোকাবিলা করে ৫২ রান করেন। তার এই ইনিংসটি এসেক্সকে লিসেস্টারশায়ারের লিড কমাতে সাহায্য করেছে। চার্লি অ্যালিসনের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে তিনি ৯৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন, যা দলকে ফলো-অনের লজ্জা থেকে বাঁচায়।
অ্যালিসন ও মুল্ডারের লড়াই
জেমি পোর্টারের পাশাপাশি চার্লি অ্যালিসনও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। তিনি ১০৩ বলে ৭২ রান করে দলের রান এগিয়ে নিতে সহায়তা করেন। এছাড়া উইয়ান মুল্ডার দিনের শেষভাগে এসে অপরাজিত ৭০ রান করে এসেক্সকে ব্যাটিং পয়েন্ট পাইয়ে দেন। বোলারদের পিচে লিসেস্টারশায়ারের হয়ে বেন মাইক ৩টি উইকেট শিকার করে এসেক্সের ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিলেন। তবে দিনশেষে এসেক্স ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮১ রান সংগ্রহ করে লিসেস্টারশায়ারের চেয়ে ৫২ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত পরিস্থিতি
লিসেস্টারশায়ার তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৩৩ রান করেছিল, যেখানে বাডিংগার ৮৯ এবং ওয়েদারাল্ড ৬১ রান করেন। এসেক্সের হয়ে রিকি স্যানেটার ৩টি এবং উইয়ান মুল্ডার ৩টি উইকেট নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে আলোকস্বল্পতার কারণে আম্পায়াররা খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন। পোর্টার যখন প্যাভিলিয়নে ফিরছিলেন, তখন পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানায়। দলের বিপদের দিনে এমন পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
উপসংহার
জেমি পোর্টারের এই ইনিংস কেবল সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি ছিল দলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। এসেক্সের সিনিয়র ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে পোর্টার প্রমাণ করেছেন যে ধৈর্যের সাথে লড়াই করলে কঠিন পিচেও রান করা সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, ম্যাচের বাকি অংশগুলোতে এসেক্স তাদের এই মোমেন্টাম বজায় রাখতে পারে কি না। বোলারদের আধিপত্যের এই ম্যাচে এখন দুই দলের জন্যই প্রতিটি সেশন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
