সিলেট টেস্ট: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চালকের আসনে বাংলাদেশ
সিলেটে পাকিস্তানের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং পরবর্তী সময়ে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সুবাদে সফরকারী পাকিস্তানকে বড় চাপে ফেলেছে স্বাগতিকরা। দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ ১৫৬ রানে এগিয়ে থেকে জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে।
প্রথম ইনিংসে লড়াই ও লিটন দাসের বীরত্ব
ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানে অলআউট হয়। দলের চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে লিটন দাস এক মহাকাব্যিক ইনিংস উপহার দেন। ১৫৯ বলে ১২৬ রানের সেই ঝকঝকে ইনিংসটি না থাকলে বাংলাদেশের সংগ্রহ হয়তো অনেক আগেই থমকে যেত। তার এই সেঞ্চুরিই স্বাগতিকদের ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। পাকিস্তানের হয়ে খুররাম শাহজাদ চার উইকেট এবং মোহাম্মদ আব্বাস তিন উইকেট শিকার করেন।
পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয় ও বাংলাদেশের বোলিং
জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে পাকিস্তানও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। বাংলাদেশ বোলারদের তোপের মুখে তারা ২৩২ রানে গুটিয়ে যায়। দলের পক্ষে বাবর আজম সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন এবং সাজিদ খান দ্রুত কিছু রান যোগ করে দলকে ৩৮ পর্যন্ত নিয়ে যান। বাংলাদেশের বোলাররা পুরো সময় জুড়ে দুর্দান্ত শৃঙ্খলা বজায় রাখেন। নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম তিনটি করে উইকেট নেন এবং তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং
৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম দুই অঙ্কের কোটা পার করতে ব্যর্থ হন। তবে মাহমুদুল হাসান জয় ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ব্যাট করে অর্ধশতক তুলে নেন। জয় এবং মুমিনুল হক ৭৬ রানের একটি কার্যকরী জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। জয় ৬৪ বলে ৫২ রান করে আউট হন।
জয়ের বিদায়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ক্রিজে এসে মুমিনুলের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। তবে দিনের শেষভাগে মুমিনুল হক ৩০ রান করে খুররাম শাহজাদের দ্বিতীয় শিকার হন। স্টাম্পস ডাকার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১১০ রান ৩ উইকেটে। নাজমুল হোসেন শান্ত ১৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
ম্যাচের বাকি অংশ ও প্রত্যাশা
বর্তমানে ১৫৬ রানের লিড থাকায় বাংলাদেশ এখন দারুণ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত আরও কিছু রান যোগ করে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করা। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ যেভাবে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে নুইয়ে পড়েছে, তাতে টাইগারদের জয় পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দর্শকরা এখন অপেক্ষায় আছে তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের বোলাররা আবারও একইভাবে জ্বলে ওঠে কিনা তা দেখার জন্য। শান্তর অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ দল যেভাবে প্রতিটি সেশনে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সব মিলিয়ে সিলেট টেস্টে এখন বাংলাদেশের জয়জয়কার।
