পাঞ্জাব কিংস কি ডব্লিউপিএল টিম কিনছে? মোহিত বর্মনের বড় ঘোষণা | PBKS WPL Team
উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাঞ্জাব কিংস
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি পাঞ্জাব কিংস (PBKS) এবার নারী ক্রিকেটের আঙিনায় পা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। দলের সহ-মালিক মোহিত বর্মন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগে (WPL) একটি দল কেনার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে ডব্লিউপিএল পাঁচটি শক্তিশালী দল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, দিল্লি ক্যাপিটালস, ইউপি ওয়ারিয়র্জ এবং গুজরাট জায়ান্টস অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রথম তিনটি দলের মালিকানা রয়েছে সেই একই গ্রুপের হাতে যারা তাদের পুরুষ আইপিএল দল পরিচালনা করে।
মোহিত বর্মন জানান যে, পাঞ্জাব কিংস শুরু থেকেই নারী ক্রিকেটের সম্ভাবনার ওপর বিশ্বাস রাখে। যদিও গত বছর ডব্লিউপিএল-এর মেগা অকশন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অরুণ সিং ধুমাল আগেই জানিয়েছিলেন যে আগামী এক বা দুই বছরের মধ্যে লিগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা কম, তবুও পাঞ্জাব কিংস ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখছে।
মোহিত বর্মনের চোখে নারী ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ
পিটিআই-এর সাথে আলাপকালে মোহিত বর্মন নারী ক্রিকেটের ব্যাপক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ডব্লিউপিএল খুব অল্প সময়ের মধ্যে নারী ক্রিকেটের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নারী ক্রিকেটের এই অভাবনীয় উত্থান দেখাটা সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি।”
প্রাথমিক পর্যায়ে কেন তারা দল কেনেননি, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “যেকোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রতিটি গ্রুপ তাদের কৌশলগত অগ্রাধিকার, সঠিক সময় এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক দিকগুলো বিবেচনা করে। শুরুতে বিনিয়োগ না করার মানে এই নয় যে আমরা নারী ক্রিকেটের ওপর আস্থা রাখিনি। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। আমরা অবশ্যই একটি ডব্লিউপিএল দল মালিকানায় নিতে পছন্দ করব।”
পাঞ্জাব কিংসের মালিকানাধীন গ্রুপটি ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে তাদের ক্রিকেট সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে। ভারতের বাইরে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (CPL) তাদের সেন্ট লুসিয়া কিংস নামক একটি দল রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা ডব্লিউপিএল-এ তাদের দল পরিচালনার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নারী ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ও সামাজিক প্রভাব
২০২৩ সালে যাত্রা শুরু করা ডব্লিউপিএল ইতিমধ্যে চারটি সফল মরশুম পার করেছে। এই টুর্নামেন্টে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু প্রত্যেকে দুবার করে শিরোপা জিতেছে। অন্যদিকে, দিল্লি ক্যাপিটালস দুর্ভাগ্যজনকভাবে চারটি সংস্করণেই রানার্স-আপ হিসেবে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এই টুর্নামেন্টের সাফল্যের রেশ ধরেই ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারত নিজেদের মাটিতে উইমেন’স ওডিআই বিশ্বকাপ জয় করেছে, যেখানে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন হরমনপ্রীত কৌর। আগামী মাসে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তিনি দলকে নেতৃত্ব দেবেন।
মোহিত বর্মন নারী ক্রিকেটের গুণমান এবং দর্শকদের সাড়াকে অভাবনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “ক্রিকেটের মান, দর্শকদের আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক সাড়া—সবই অনেক দিক থেকে প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে এর যে প্রভাব পড়ছে, তা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। আজকের তরুণীরা নারী ক্রিকেটারদের আইকন এবং পেশাদার অ্যাথলিট হিসেবে দেখছে, যা এই খেলার ভবিষ্যৎকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে।”
আইপিএল ২০২৬: পাঞ্জাব কিংসের কঠিন লড়াই
ভবিষ্যতে ডব্লিউপিএল টিম কেনার পরিকল্পনা থাকলেও, বর্তমানে পাঞ্জাব কিংসের সামনে রয়েছে আইপিএল ২০২৬-এর কঠিন চ্যালেঞ্জ। চলতি মরশুমে পাঞ্জাবের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। প্রথম ৭টি ম্যাচের মধ্যে ৬টিতে জয় এবং একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় তাদের পয়েন্ট ছিল ১৩। কিন্তু এরপরই ছন্দপতন ঘটে। টানা ৬টি ম্যাচে পরাজিত হয়ে তারা এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে।
- প্রথম ৭ ম্যাচ: ১৩ পয়েন্ট (৬ জয়, ১ পরিত্যক্ত)
- পরবর্তী ৬ ম্যাচ: টানা পরাজয়
- বর্তমান অবস্থা: ১৩ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট
লিগ পর্বে পাঞ্জাব কিংসের আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি আছে। ২৩ মে লখনউতে তারা মুখোমুখি হবে লখনউ সুপার জায়ান্টসের। প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে পাঞ্জাবকে কেবল এই ম্যাচে জিতলেই চলবে না, বরং অন্য দলগুলোর ফলাফলের ওপরও নির্ভর করতে হবে। ডব্লিউপিএল-এ দল গড়ার স্বপ্নের আগে মোহালি-ভিত্তিক এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি চাইবে আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে একটি নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটাতে।
উপসংহার
পাঞ্জাব কিংসের ডব্লিউপিএল-এ প্রবেশের ইচ্ছা কেবল একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি ভারতের নারী ক্রিকেটের প্রতি তাদের ক্রমবর্ধমান শ্রদ্ধার প্রতিফলন। যদিও লিগ সম্প্রসারণের জন্য বিসিসিআই-এর সবুজ সংকেতের অপেক্ষা করতে হবে, তবে মোহিত বর্মনের এই মন্তব্য ভক্তদের মনে আশার সঞ্চার করেছে। এখন দেখার বিষয়, পাঞ্জাব কিংস মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া ছন্দ ফিরে পায় কি না এবং ভবিষ্যতে ডব্লিউপিএল-এর আঙিনায় লাল জার্সিধারীদের দেখা যায় কি না।
