আইপিএলে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে জয় উৎসর্গ করে আবেগপ্রবণ ঈশান কিষান
আইপিএলে ঈশান কিষানের আবেগঘন জয়
চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে গত ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (SRH)। পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণের বিচারে এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ৬৩ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে প্লে-অফের দিকে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। হায়দ্রাবাদের এই জয়ে গুজরাট টাইটানসের প্লে-অফে ওঠার পথও প্রশস্ত হয়েছে। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ঈশান কিষান, যিনি তার দুর্দান্ত ইনিংসটি উৎসর্গ করেছেন তার প্রয়াত কাজিনকে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় রুতুরাজ গায়কোয়াডের চেন্নাই সুপার কিংস। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় তারা। রুতুরাজ গায়কোয়াড এবং সানজু স্যামসন দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ার পর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ব্রেভিসের ৪৪ রান এবং শিবম দুবের অবদানে চেন্নাই ২০ ওভারে ১৮০ রানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। হায়দ্রাবাদের বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে চেন্নাইয়ের ব্যাটারদের চেপে ধরেছিলেন।
ঈশান কিষানের অসাধারণ ব্যাটিং
রান তাড়া করতে নেমে হায়দ্রাবাদের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। ট্র্যাভিস হেড দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান। তবে এরপরই দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ঈশান কিষান। অভিষেক শর্মার সাথে ছোট একটি জুটি গড়ার পর হেনরিখ ক্লাসেনের সাথে তিনি ৭৫ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ক্লাসেন ৪৭ রান করে আউট হলেও ঈশান কিষান অবিচল ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ৭০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে তিনি দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য তাকে ম্যাচ সেরার পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রয়াত কাজিনের স্মৃতিতে ঈশান
পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ঈশান কিষান কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান যে, গত কয়েকদিন আগে তার কাজিন তার বোনকে হারিয়েছেন। সেই শোকার্ত পরিবার মাঠে উপস্থিত ছিল এবং তাদের জন্যই তিনি ম্যাচটি শেষ করতে চেয়েছিলেন। ঈশান বলেন, ‘আজ আমার অনুপ্রেরণা ছিল আমার কাজিন। তারা প্রথমবারের মতো মাঠে ম্যাচ দেখতে এসেছিল। আমি জানতাম আমাকে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে এবং তাদের জন্য ম্যাচটি জিততে হবে।’
পিচের চ্যালেঞ্জ ও আত্মবিশ্বাস
ঈশান কিষান আরও বলেন, ‘উইকেট খুব একটা সহজ ছিল না, বিশেষ করে স্পিনারদের জন্য বল ঘোরার পাশাপাশি স্লোয়ার ডেলিভারিগুলো খুব কার্যকরী ছিল। একজন তিন নম্বর ব্যাটার হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল ইনিংসের শেষ পর্যন্ত থাকা। আমি অনুভব করছিলাম যে আমি যদি শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকি, তবে দলের জয় নিশ্চিত। আমি বিশ্বাস করি উপর থেকে সব আশীর্বাদ ছিল, যা আমাকে এই শক্তি জুগিয়েছে।’
আইপিএলের লড়াইয়ে প্রভাব
এই হারের ফলে চেন্নাই সুপার কিংসের প্লে-অফের সমীকরণ বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এই জয়ের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসের শিখরে রয়েছে। অন্যদিকে, ঈশান কিষানের এই মানবিক দিকটি ক্রিকেট বিশ্বের সকলের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। পেশাদারিত্বের চাপের মাঝেও প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা ভুলে খেলার প্রতি তার একনিষ্ঠতা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঈশানের এই মানসিক শক্তির প্রশংসা করেছেন এবং তার প্রয়াত কাজিনের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। ক্রিকেট মাঠে কেবল রান বা উইকেট নয়, অনেক সময় এমন মানবিক গল্পই খেলাটিকে আরও বেশি সুন্দর করে তোলে।
