Cricket News

আফগানিস্তান সিরিজের আগে গৌতম গম্ভীরের বড় সিদ্ধান্ত: টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর ছক

Hassan Raza · · 1 min read
Share

টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের সংকট ও গৌতম গম্ভীরের নতুন চ্যালেঞ্জ

সাদা বলের ক্রিকেটে সাফল্য পেলেও, লাল বলের ক্রিকেটে ভারতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীরের যাত্রাটা খুব একটা সুখকর হচ্ছে না। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) পয়েন্ট টেবিলে ভারতের ক্রমাগত অবনতি এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের কাছে ঘরের মাঠে লজ্জাজনক পরাজয় ক্রিকেট মহলে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন এক টেস্টের সিরিজকে সামনে রেখে টিম ম্যানেজমেন্ট এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেন এই পরিবর্তন জরুরি ছিল?

সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠেও ভারত তাদের ‘দুর্গ’ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, শেষ সাতটি হোম টেস্টের মধ্যে পাঁচটিতেই হারতে হয়েছে ভারতকে। বিশেষ করে স্পিন-সহায়ক পিচে ভারতের ব্যাটারদের অসহায় আত্মসমর্পণ ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিচেল স্যান্টনার বা সাইমন হারমারের মতো বোলাররা ভারতীয় পিচে দাপট দেখিয়ে সিরিজের ফলাফল নিজেদের পক্ষে টেনে নিয়েছেন।

লাল মাটি বনাম কালো মাটি: পিচের নতুন সমীকরণ

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গৌতম গম্ভীর এবং টিম ম্যানেজমেন্ট এখন থেকে পিচ নিয়ে বিশেষ সতর্ক। লাল মাটির পিচে সাধারণত খেলা শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই বল ঘুরতে শুরু করে এবং পিচ দ্রুত ভেঙে যায়, যা ভারতের ব্যাটারদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আসন্ন হোম সিরিজগুলোতে কালো মাটির আধিক্য থাকা পিচ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কালো মাটি জল ধরে রাখতে বেশি সক্ষম, যার ফলে এই পিচগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়। বিসিসিআই-এর এক সূত্র জানিয়েছে, ‘মুলানপুর, নাগপুর, চেন্নাই, গুয়াহাটি, রাঁচি এবং আহমেদাবাদের মতো ভেন্যুগুলো নির্বাচনের সময় পিচের গঠন ও মাটির গুণাগুণ বিবেচনা করা হয়েছে। আমরা এমন পিচ চাই যা অন্তত পাঁচ দিন টিকে থাকবে। প্রথম দিন থেকেই বল ঘুরতে শুরু করলে সেটি ব্যাটারদের জন্য যেমন অসুবিধাজনক, তেমনি ব্রডকাস্টারদের জন্যও তা আনন্দদায়ক নয়।’

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সমীকরণ

বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হেরে পাকিস্তান বেশ পিছিয়ে পড়লেও, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতকে এখন প্রতিটি টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। দলের হাতে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র নয়টি টেস্ট ম্যাচ। এই নয়টি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি খেলা হবে ঘরের মাঠে, যার মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভারতের বর্তমান টেস্ট দলের জন্য পিচের এই পরিবর্তন অনেকটা বাঁচার রসদ হিসেবে কাজ করতে পারে। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে রুখতে এবং ডাব্লিউটিসি ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে গম্ভীরের এই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। শুভমান গিল এবং তার সতীর্থদের ওপর এখন বড় দায়িত্ব। ব্যাটিংবান্ধব পিচে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করে ভারতকে জয়ের ধারায় ফিরিয়ে আনাই হবে আসন্ন টেস্টগুলোর প্রধান লক্ষ্য।

উপসংহার

গৌতম গম্ভীর এবং ভারতীয় দল ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বিশ্বাসী। কেবল স্পিন ট্র্যাকে জয় পাওয়ার নেশায় মত্ত না থেকে, পিচকে আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং ব্যাটারদের জন্য সহায়ক করার এই উদ্যোগ ভারতের টেস্ট ভবিষ্যৎকে নতুন রূপ দিতে পারে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট এবং পরবর্তীতে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে এই পরিবর্তনের সুফল ভারত ঘরে তুলতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরা।