কে এই সৌরভ দুবে? আইপিএল ২০২৬-এ রোহিত-সূর্যকুমারকে আউট করে যিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে
আইপিএলের নতুন চমক সৌরভ দুবে
আইপিএল ২০২৬-এর আসর শুরু হতেই ইডেন গার্ডেন্সে যেন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ক্রিকেট ভক্তদের চোখ ছিল রোহিত শর্মার দিকে। কিন্তু মুম্বাইয়ের প্রাক্তন অধিনায়কের ইনিংসের ওপর অকাল যবনিকা টেনে দিলেন কেকেআরের নতুন পেসার সৌরভ দুবে। এই ম্যাচটি শুধু কেকেআরের জয়ের জন্যই নয়, বরং সৌরভের উত্থানের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
(ছবি: এপি/এএফপি)
ম্যাচের মোড় ঘোরানো সেই মুহূর্ত
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়েছিল। অজিঙ্ক রাহানের অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্ত যেন সোনার হরিণ হয়ে দেখা দেয়। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই মুম্বাই তাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে বসে। তবে সব আলো কেড়ে নেন ২৮ বছর বয়সী সৌরভ দুবে। তৃতীয় ওভারে ক্যামেরন গ্রিন মুম্বাইয়ের দুই ব্যাটার রায়ান রিকেলটন এবং নামান ধীরকে সাজঘরে ফিরিয়ে চাপ তৈরি করেন। রোহিত শর্মা তখন সেট হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন এবং দুটি ছক্কা মেরে নিজের ফর্মের জানানও দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে সৌরভ দুবে রোহিত শর্মাকে আউট করে পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেন। রোহিতের মিসটাইম শটটি আকাশে অনেক উঁচুতে উঠে যায় এবং ক্যামেরন গ্রিন দারুণ দৌড়ে ক্যাচটি লুফে নেন।
সৌরভ দুবে কে? তার ক্রিকেটীয় যাত্রার প্রেক্ষাপট
সৌরভ দুবের বাড়ি মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধায় এবং তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে বিদর্ভের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২৮ বছর বয়সী এই বোলারের ঘরোয়া ক্যারিয়ার খুব একটা লম্বা না হলেও, তিনি ২০১৯ সালে ইন্ডিয়া ‘এ’ দলের হয়ে ইমার্জিং এশিয়া কাপে নজর কেড়েছিলেন। সেবার বাংলাদেশ সফরে ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন তিনি। যদিও সেই টুর্নামেন্টে বড় কোনো ছাপ ফেলতে পারেননি, যার ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের জায়গা পোক্ত করতে তাকে আরও দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়। ২০২১ সালে বিজয় হাজারে ট্রফিতে মাত্র তিনটি ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এরপর বিদর্ভ প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ, সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি (২০২৩) এবং ইউপি টি-টোয়েন্টি লিগে খেললেও নিয়মিত দলে জায়গা করে নেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
আইপিএলের পথচলা ও অদম্য জেদ
সৌরভ দুবের আইপিএল যাত্রা খুব একটা মসৃণ ছিল না। ২০২২ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এই বাঁহাতি পেসারকে দলে নিলেও কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি। আইপিএল ২০২৩-এর আগে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আইপিএল ২০২৬-এর নিলামেও কোনো দল তার ওপর ভরসা দেখায়নি। তবে ভাগ্য সহায় ছিল। কেকেআরের তারকা পেসার আকাশ দীপ ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলে, তার বদলি হিসেবে সৌরভ দুবেকে দলে নেয় কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজি।
কেন সৌরভের এই উত্থান তাৎপর্যপূর্ণ?
যে ক্রিকেটার নিলামে দল পাননি, সেই ক্রিকেটারই যখন রোহিত শর্মার মতো বিশ্বমানের ব্যাটারকে আউট করেন, তখন তা ক্রিকেট বিশ্বের জন্য বড় বিস্ময়। সৌরভ দুবের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক সুযোগ পেলে যে কেউ নিজেকে মেলে ধরতে পারেন। আকাশ দীপের বিকল্প হিসেবে দলে এসে যেভাবে তিনি মুম্বাইয়ের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন, তাতে আগামী ম্যাচগুলোতেও তার ওপর কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট ভরসা রাখতে পারে।
উপসংহার
সৌরভ দুবের এই পারফরম্যান্স আইপিএলের রোমাঞ্চকর প্রকৃতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন। একজন খেলোয়াড় যখন কোনো দল পান না, তখন তার জেদ ও মানসিকতা কীভাবে তাকে বড় মঞ্চে নিয়ে আসে, সৌরভ তার বড় প্রমাণ। এখন দেখার বিষয়, আইপিএল ২০২৬-এর পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তিনি কতটা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন। ইডেনের সেই বিকেলে তিনি যে ছাপ রেখেছেন, তা ক্রিকেট ইতিহাসে একটি বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
