গোস্টারশায়ারের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট থেকে ছিটকে গেলেন ডেভিড পেইন
গোস্টারশায়ারের জন্য বড় ধাক্কা: মাঠের বাইরে ডেভিড পেইন
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গোস্টারশায়ারের অন্যতম প্রধান ভরসার নাম ডেভিড পেইন। তবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট মৌসুমে তাকে আর দেখা যাবে না। গোড়ালির ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন ৩৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার। আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলার সময় পাওয়া চোটের কারণেই তাকে অস্ত্রোপচারের পথে হাঁটতে হচ্ছে।
ইনজুরির নেপথ্যে আইপিএল অভিজ্ঞতা
অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার জ্যাক এডওয়ার্ডসের পরিবর্তে ইনজুরি রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে আইপিএলে সুযোগ পেয়েছিলেন পেইন। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জার্সিতে তিনি মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৩ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেও কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ২ ওভারে কোনো উইকেট পাননি। সেই ম্যাচগুলোর পরেই গোড়ালির অস্বস্তি বাড়ায় তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং মেডিকেল পরীক্ষার পর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
চমৎকার ফর্ম থেকে দীর্ঘ বিরতি
ইনজুরির আগে পেইন দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। শীতকালীন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে তিনি অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। ডেজার্ট ভাইপার্স এবং পার্থ স্কর্চার্সের শিরোপা জয়ে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। বিশেষ করে বিগ ব্যাশ লিগের ফাইনালে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কথা মাথায় রেখেই তিনি এখন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিক্রিয়া ও সমর্থকদের প্রতি বার্তা
নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পেইন লিখেছেন, ‘টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট মিস করার বিষয়টি আমার জন্য খুবই কষ্টের। ক্লাব সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে আমি দুঃখিত। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কথা ভেবেই অস্ত্রোপচারের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে আমি মাঠের বাইরে থেকে পুরো দলকে উৎসাহ জোগাব এবং আশা করছি দ্রুতই আবার মাঠে ফিরতে পারব।’ তিনি তার ক্লাবের কোচিং স্টাফ এবং মেডিকেল টিমের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
গোস্টারশায়ারের ওপর প্রভাব
ডেভিড পেইনের অনুপস্থিতি গোস্টারশায়ারের বোলিং অ্যাটাকের জন্য একটি বড় ক্ষতি। ২০২৪ সালে ব্লাস্ট টুর্নামেন্টে তিনি ১২.৭৫ গড়ে ৩৩ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছিলেন। সমারসেটের বিপক্ষে ফাইনালে ৩ উইকেট নিয়ে দলের শিরোপা জয়ে তিনি রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। গত মৌসুমেও তিনি ১৭ উইকেট শিকার করেছিলেন। দলের এই অভিজ্ঞ পেসারের অভাব ব্লাস্টের আসন্ন আসরে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পেইন জানিয়েছেন, সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য তিনি কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। ক্লাব কর্তৃপক্ষও তার এই সিদ্ধান্তের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। তার অনুপস্থিতিতে তরুণ বোলারদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়বে। ভক্তদের প্রত্যাশা, অস্ত্রোপচারের পর পেইন যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারো মাঠের ক্রিকেটে ফিরতে পারেন এবং তার স্বভাবসুলভ বোলিং নৈপুণ্য দিয়ে দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন। আপাতত, গোস্টারশায়ার তাদের ট্রাম্প কার্ড ছাড়াই আসন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
