আইপিএল ২০২৬: ক্যাচ মিসের ঘটনায় দীপক চাহারকে আগলে রাখলেন পারস মামব্রে
আইপিএল ২০২৬: ব্যর্থতার মরসুমেও ইতিবাচক মুম্বাই ইন্ডিয়ানস
আইপিএল ২০২৬-এর প্লে-অফের দৌড় থেকে ৮ মে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস (MI) আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে গিয়েছে। টুর্নামেন্টের ১৪টি লিগ ম্যাচের মধ্যে এখনও ৪টি ম্যাচ বাকি থাকা অবস্থায় দলের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি কঠিন সময়। তবুও, মাঠের লড়াইয়ে কোনো ক্লান্তি বা নিস্পৃহতা দেখতে নারাজ দলের সহকারী কোচ পারস মামব্রে। তার মতে, দলের কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের জন্য প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং মানসম্মত ক্রিকেট খেলাটাই তাদের মূল লক্ষ্য।
জয়ই একমাত্র লক্ষ্য
কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) কাছে হারের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পারস মামব্রে জানান, দলের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি ম্যাচ জেতা। আমরা খেলার প্রতিটি পর্যায় বিশ্লেষণ করছি এবং আগামী ম্যাচের জন্য নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করছি। পয়েন্ট টেবিলে আমাদের অবস্থান যাই হোক না কেন, মাঠে নেমে সেরাটা দেওয়াই আমাদের কাজ।’ মামব্রে মনে করেন, প্রতিটি ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে দলের কাঠামো আরও মজবুত করাই এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ক্যাচ মিস ও দীপক চাহারের পাশে মামব্রে
চলতি মরসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ফিল্ডিং নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে দীপক চাহারের ক্যাচ মিসের ঘটনাটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। রোভম্যান পাওয়েল এবং তেজস্বী দাহিয়ার ক্যাচ নিতে গিয়ে সমন্বয়হীনতার কারণে তা হাতছাড়া হয়। এই প্রসঙ্গে মামব্রে অত্যন্ত পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ক্যাচ মিস খেলারই অংশ। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যাচ ছাড়ে না। আমি দীপক বা অন্য কোনো খেলোয়াড়কে এর জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে রাজি নই। ফিল্ডিংয়ে ভুল হতেই পারে, তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে ম্যাচে কর্বিন বশ একটি দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেছিলেন। প্রতিটি খেলোয়াড়ই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
পরিসংখ্যান কী বলছে?
অনেকে মনে করতে পারেন মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ফিল্ডিং খুবই দুর্বল, কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, মুম্বাই এই মরসুমে মোট ১৪টি ক্যাচ মিস করেছে। এই তালিকায় পাঞ্জাব কিংস ১৯টি ক্যাচ মিস করে সবার উপরে রয়েছে। ১০টি দলের মধ্যে ফিল্ডিং দক্ষতার দিক থেকে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। অর্থাৎ, সার্বিক বিচারে মুম্বাইয়ের ফিল্ডিং খুব একটা হতাশাজনক নয়।
মানসিক চাপের মোকাবিলা
ম্যাচের উত্তেজনার মুহূর্তে খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে মামব্রে বলেন, ‘মাঠে যখন খেলা চলে, তখন অনেক চিন্তা মাথায় কাজ করে। দীপক বা যে কেউই হোক না কেন, তারা ভাবে কীভাবে দলকে জেতানো যায়। এই ধরনের ভুল আগেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। আমি দীপককে কোনোভাবেই দোষারোপ করে তার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করতে চাই না।’
শেষটা রাঙানোর প্রত্যাশা
মুম্বাই ইন্ডিয়ানস এখন তাদের ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালসের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। এটিই তাদের এবারের মরসুমের শেষ ম্যাচ। মামব্রে আশাবাদী, ঘরের চেনা মাঠে রাজস্থানের বিপক্ষে জয় দিয়ে মরসুম শেষ করতে পারবে তার দল। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের পিচ সম্পর্কে ভালোভাবেই জানি। একটি জয় আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দিনের বেলা ম্যাচ হওয়ার কারণে চ্যালেঞ্জ অন্যরকম, তবে আমরা তার জন্য প্রস্তুত।’ মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের এই কঠিন সময়ে কোচিং স্টাফের এমন সমর্থন দলের তরুণ খেলোয়াড়দের পরবর্তী মরসুমের জন্য মানসিকভাবে শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
