Latest Cricket News

আফগানিস্তান সিরিজের দল থেকে শামি বাদ, অজিত আগরকারকে ‘ফালতু’ বললেন ওয়াসিম জাফর

Amina Rahman · · 1 min read
Share

ভারতের আসন্ন আফগানিস্তান সিরিজের জন্য দল ঘোষণার পর থেকেই ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামিকে দল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার ওয়াসিম জাফর। নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকারের যুক্তিকে তিনি ‘ফালতু’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং নির্বাচকদের দ্বৈত নীতির অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেটে খেলোয়াড় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

শামিকে বাদ দেওয়া নিয়ে ওয়াসিম জাফরের তীব্র ক্ষোভ

ওয়াসিম জাফর তার ইউটিউব চ্যানেলে এসে মহম্মদ শামিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “এটা তো বকওয়াস (ফালতু)। যে খেলোয়াড় পুরো মরসুম পারফর্ম করেছে, ৪০টিরও বেশি উইকেট নিয়েছে – সে আর কী করবে? আমরা কোনো সাধারণ খেলোয়াড়ের কথা বলছি না, আমরা মহম্মদ শামির কথা বলছি। একজন খেলোয়াড় যিনি আমাদের এত ম্যাচ জিতিয়েছেন। তিনি আমাদের ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন। এটা মহম্মদ শামির প্রতি অসম্মানজনক। আপনারা তাকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে এবং ফিটনেস প্রমাণ করতে বলেন।”

জাফরের মতে, নির্বাচকরা শামিকে বাদ দেওয়ার জন্য মিথ্যা অজুহাত দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “দেখুন, এই লোকটা পারফর্ম করে ফিরে আসে, আর আপনারা বলছেন সে কেবল টি-২০ খেলার জন্য ফিট। এটা তাকে নির্বাচন না করার একটা অজুহাত মাত্র। যদি তাকে বিবেচনা না করেন, তাহলে সরাসরি বলুন, ‘আমরা তাকে উপেক্ষা করেছি।’ সেটা একটা ন্যায্য বিবৃতি হবে। সে বাংলাকে একা হাতে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে নিয়ে আসার পর ফিরে আসছে, সে যেভাবে বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছে।”

অজিত আগরকারের ব্যাখ্যা এবং বিতর্ক

প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকার মহম্মদ শামিকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসাবে তার ফিটনেসকে দায়ী করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “হ্যাঁ, মানে না, কারণ আমরা যতদূর জানি, এই মুহূর্তে তার শরীর তাকে… আমি জানি সে এই বছর ঘরোয়া মরসুমে খেলেছে, কিন্তু আমি যে তথ্য পেয়েছি তা হল এই মুহূর্তে টি-২০ ক্রিকেট খেলার জন্যই সে প্রস্তুত, তাই না? মানে, তার নাম নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।”

আগরকারের এই মন্তব্যের পর ওয়াসিম জাফর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তিনি নির্বাচকদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতির অভিযোগ আনেন এবং বলেন যে জসপ্রীত বুমরাহকে কখনোই এভাবে ব্যবহার করা হবে না। জাফর বলেন, “উদাহরণস্বরূপ, বুমরাহ যদি আহত হয়ে ফিরে আসে? আপনারা কি তার সাথে একই আচরণ করবেন? মহম্মদ শামি একই বন্ধনীতে পড়েন। যেকোনো আন্তর্জাতিক ব্যাটসম্যানকে জিজ্ঞেস করুন, তারা তাকে শীর্ষস্থানে রাখবেন। ভারতের জন্য সে যে পরিষেবা দিয়েছে, তার প্রতি এটা অসম্মানজনক।”

আফগানিস্তান সিরিজের দল ঘোষণা: এক নজরে

মঙ্গলবার অজিত আগরকারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্ট ও তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে। এই দলে শামি ছাড়াও আরও কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে।

  • শামির বাদ পড়া: মহম্মদ শামি ২০২৩ সালের মার্চ মাসে শেষ ওডিআই এবং ২০২৩ সালের জুন মাসে শেষ টেস্ট খেলেছেন। আইপিএল ২০২৬-এ তিনি ১২ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন, যেখানে তার বোলিং গড় ৪১ এবং ইকোনমি রেট ৮.৮০। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত, যেখানে তিনি বাংলাকে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে তুলেছেন।
  • রোহিত ও হার্দিক: ওডিআই স্কোয়াডে রোহিত শর্মা এবং হার্দিক পান্ডিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবে তাদের ফিটনেসের উপর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
  • জাদেজা ও অক্ষর: রবীন্দ্র জাদেজাকে টেস্ট সিরিজ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এবং অক্ষর প্যাটেলের সাথে তাকেও ওডিআই দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
  • বুমরাহ: জসপ্রীত বুমরাহকেও এই সিরিজ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
  • নতুন মুখ: শামির লখনউ সুপার জায়ান্টস সতীর্থ প্রিন্স যাদবকে ওডিআই স্কোয়াডে ডাকা হয়েছে, যেখানে জম্মু ও কাশ্মীর পেসার অকিব নবীকে উপেক্ষা করা হয়েছে। পেসার গুরনূর ব্রার এবং বাঁহাতি স্পিনার হর্ষ দুবেকে উভয় স্কোয়াডেই ডাকা হয়েছে, অন্য বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথারকে টেস্ট দলে নেওয়া হয়েছে।
  • ঋষভ পন্ত ও কেএল রাহুল: ঋষভ পন্তকে ওডিআই থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কেএল রাহুলকে টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক হিসাবে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। শুভমান গিল উভয় দলের অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে শামি ও নির্বাচকদের বার্তা

ওয়াসিম জাফরের মন্তব্যের মূল বিষয় হলো, নির্বাচকরা খেলোয়াড়দের ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করার জন্য উৎসাহিত করেন, কিন্তু যখন একজন তারকা খেলোয়াড় ঘরোয়াতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ফিরে আসেন, তখন তাকে ভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করা হয়। শামি রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং ব্যাট হাতেও কিছু অবদান রেখেছিলেন। এমন একজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী খেলোয়াড়কে কেবল ‘টি-২০ ফিট’ তকমা দিয়ে বাদ দেওয়াটা অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের কাছেই অবাক করার মতো বিষয়।

শামির মতো একজন ম্যাচ উইনারকে বাদ দেওয়া দলের ভারসাম্য এবং গভীরতার উপর প্রভাব ফেলবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে যখন ভারতের পরবর্তী বড় টুর্নামেন্টগুলো সামনে, তখন অভিজ্ঞতার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। নির্বাচকদের উচিত ছিল শামির সার্বিক ফিটনেস এবং তার সাম্প্রতিক ফর্মের উপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া। জাফরের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের মনোবল নষ্ট করে এবং দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেট দলের ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। যদি একজন খেলোয়াড় ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক উভয় স্তরেই পারফর্ম করার পরেও কেবল নির্দিষ্ট ফরম্যাটের জন্য ‘ফিট’ বলে বিবেচিত হন, তবে এটি অন্যান্য খেলোয়াড়দের জন্যও একটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। নির্বাচকদের উচিত তাদের সিদ্ধান্তগুলো আরও স্পষ্ট এবং যুক্তিযুক্তভাবে ব্যাখ্যা করা, যাতে খেলোয়াড় এবং সমর্থক উভয়ই সন্তুষ্ট হতে পারেন। মহম্মদ শামির মতো একজন তারকা খেলোয়াড়ের প্রতি এই ধরনের আচরণ ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতি তার দীর্ঘদিনের অবদানকে ছোট করে দেখায়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এই বিতর্ক নিঃসন্দেহে আগামী দিনগুলোতে ভারতীয় ক্রিকেটে আরও আলোচনা এবং বিতর্কের জন্ম দেবে। নির্বাচক প্যানেলের সিদ্ধান্ত এবং তার পেছনের যুক্তিগুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন, বিশেষ করে যখন দেশের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন এভাবে বাদ পড়েন।

Avatar photo
Amina Rahman

Amina Rahman specializes in cricket tactics, team balance analysis, and performance trends in T20 cricket.