আইপিএলে চোট নিয়েও খেলছেন বরুণ চক্রবর্তী, প্রশংসায় ভাসালেন শেন ওয়াটসন
চোটকেও হার মানালেন বরুণ চক্রবর্তী
আইপিএলের চলতি মরসুমে প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে মরিয়া কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। ইডেন গার্ডেন্সে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে চার উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে তারা নিজেদের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। তবে এই জয়ের পেছনে কেবল কৌশল বা পরিকল্পনাই নয়, ছিল এক ক্রিকেটারের অদম্য লড়াইয়ের গল্প। কেকেআরের স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর চোট নিয়েও খেলার সিদ্ধান্ত এখন ক্রিকেট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
শেন ওয়াটসনের অকুণ্ঠ প্রশংসা
ম্যাচ পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে কেকেআরের সহকারী কোচ শেন ওয়াটসন বরুণ চক্রবর্তীর লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। প্রাক্তন অজি তারকার কথায়, বরুণ চাইলে চোটের অছিলায় মাঠের বাইরে থাকতে পারতেন। কিন্তু দলের স্বার্থে তিনি সেই কষ্টকে উপেক্ষা করেই বল হাতে নেমে পড়েছেন। ওয়াটসন বলেন, বরুণের এই মানসিকতা দলের অন্য সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি যেভাবে যন্ত্রণার মধ্যেও বোলিং করেছেন এবং দলের পুনরুত্থানে ভূমিকা রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
চোট ও বিতর্কের আবহে বরুণ
রিপোর্ট অনুযায়ী, বরুণ চক্রবর্তী পায়ের পাতায় হেয়ারলাইন ফ্র্যাকচারের শিকার হয়েছিলেন। এমনকি তাকে ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটতেও দেখা গেছে। এমন গুরুতর চোট নিয়ে তার মাঠে নামা নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)-এর অসন্তোষের খবরও শোনা গিয়েছিল। খেলোয়াড়দের ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট ও ওয়ার্কলোড নিয়ে বিসিসিআই সব সময়ই কঠোর, তাই বরুণের এই ঝুঁকি নেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে মাঠে বরুণের পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। সুনীল নারাইনের সাথে জুটি বেঁধে তিনি মুম্বাইয়ের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রেখেছিলেন।
ম্যাচে কেকেআরের দাপট
বুধবার টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে। তার বোলাররা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ১৪৭ রানের মধ্যে আটকে রাখতে সক্ষম হন। জবাবে কেকেআর সাত বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। দলের এই জয়ে বড় অবদান ছিল অভিজ্ঞ ব্যাটার মণীশ পাণ্ডের। ৩৩ বলে ৪৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে তিনি ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন। মণীশ এবং রোভম্যান পাওয়েলের মধ্যে চতুর্থ উইকেটে ৬৪ রানের পার্টনারশিপ ম্যাচটি কেকেআরের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
অধিনায়ক রাহানের সন্তুষ্টি
ম্যাচ জয়ের পর অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। তিনি জানান, দলের মধ্যে সাম্প্রতিক কিছু খোলামেলা আলোচনার ফলেই এই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়েছে। রাহানে শুধু মণীশ পাণ্ডের ব্যাটিংয়ের প্রশংসাই করেননি, বরং ক্যামেরন গ্রিন, অনুকূল রয় এবং কার্তিক ত্যাগীর মতো খেলোয়াড়দের অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দলের এই ঐক্যই তাদের প্লে-অফের লড়াইয়ে আরও দীর্ঘক্ষণ টিকিয়ে রাখবে।
উপসংহার
ক্রিকেট খেলাটি কেবল দক্ষতার নয়, বরং মানসিক শক্তিরও পরীক্ষা। বরুণ চক্রবর্তীর মতো ক্রিকেটাররা যখন চোটের ব্যথা ভুলে দলের হয়ে মাঠে নামেন, তখন তা কেবল একটি জয় নয়, বরং অনেক বড় বার্তার জন্ম দেয়। কেকেআর এখন জয়ের ধারায় ফিরতে পেরেছে এবং বরুণের এই আত্মত্যাগ দলের মনোবলকে যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আসন্ন ম্যাচগুলোতেও এই ছন্দ বজায় রাখতে পারবে কি নাইট রাইডার্স? এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।
