Cricket News

অ্যাসোসিয়েট দেশ থেকে ফুল মেম্বার দলে জায়গা করে নেওয়া ৫ ক্রিকেটার

Amina Rahman · · 1 min read
Share

অ্যাসোসিয়েট দেশ থেকে ফুল মেম্বার দলে: এক অদম্য যাত্রার গল্প

ক্রিকেট বিশ্বে সব সময়ই একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে অনেক সময় ফুল মেম্বার দেশ থেকে অ্যাসোসিয়েট নেশনগুলোর দিকে ঝুঁকে থাকেন। কিন্তু এটি সচরাচর দেখা যায় না যে, কোনো খেলোয়াড় অ্যাসোসিয়েট নেশনের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করার পর দক্ষতা দেখিয়ে ফুল মেম্বার দেশের মূল দলে জায়গা করে নিচ্ছেন। এটি অত্যন্ত কঠিন একটি পথ, কারণ এর জন্য প্রয়োজন অসাধারণ প্রতিভা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। সাম্প্রতিক সময়ে এমিলিও গে-র ইংল্যান্ড টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার ঘটনাটি আবারও এই বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আসুন জেনে নিই এমন ৫ জন ক্রিকেটার সম্পর্কে, যারা অ্যাসোসিয়েট নেশন থেকে মূলধারার ক্রিকেটে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

১. ইয়ন মর্গ্যান (আয়ারল্যান্ড থেকে ইংল্যান্ড)

এই তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম নিঃসন্দেহে ইংল্যান্ডের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান। ২০০৬ সালে আয়ারল্যান্ডের হয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। আয়ারল্যান্ডের হয়ে ২৩টি ওয়ানডে খেলে তিনি প্রায় এক হাজার রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে পথচলা শুরু করেন এবং দ্রুতই দলের অপরিহার্য সদস্য হয়ে ওঠেন। মর্গ্যানের অধীনেই ইংল্যান্ড তাদের ইতিহাসের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় করে, যা তাকে বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এক কিংবদন্তি করে তুলেছে। ইংল্যান্ডের হয়ে ১০ হাজারেরও বেশি রান এবং সাদা বলের ক্রিকেটে তাদের আমূল পরিবর্তন আনার কারিগর ছিলেন তিনি।

২. ডার্ক ন্যানিস (নেদারল্যান্ডস থেকে অস্ট্রেলিয়া)

২০০৯ সালের দিকে ডার্ক ন্যানিস ছিলেন বিশ্বের অন্যতম আতঙ্ক জাগানো বোলার। নেদারল্যান্ডসের হয়ে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করলেও, তার বিধ্বংসী বোলিং এবং ১৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতির ডেলিভারি অস্ট্রেলিয়ান নির্বাচকদের নজর কাড়তে বাধ্য করে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখ ধাঁধানো। অস্ট্রেলিয়া দলের হয়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও, ২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। একজন বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেরিতে অভিষেক হলেও, তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে পরিশ্রম করলে সাফল্য ধরা দেয়ই।

৩. টিম ডেভিড (সিঙ্গাপুর থেকে অস্ট্রেলিয়া)

বর্তমান সময়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম বিধ্বংসী ব্যাটার টিম ডেভিড। তবে তার উত্থান হয়েছিল সিঙ্গাপুর জাতীয় দলের হয়ে। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের জার্সি গায়ে তিনি দুর্দান্ত সব ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল প্রায় ১৬০-এর কাছাকাছি। এরপর ২০২২ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়া দলে সুযোগ পান। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি সেটআপের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন তিনি এবং বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে তার ব্যাটিং দক্ষতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন।

৪. মার্ক চ্যাপম্যান (হংকং থেকে নিউজিল্যান্ড)

নিউজিল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটের অন্যতম ভরসা মার্ক চ্যাপম্যান। ব্ল্যাকক্যাপসদের হয়ে মাঠে নামার আগে তিনি হংকংয়ের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছিলেন। ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তিনি হংকংয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তবে নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে তিনি কিউই দলে সুযোগ পান। এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের হয়ে ১০০টিরও বেশি টি-টোয়েন্টি খেলে তিনি তার দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন এবং দলের মিডল অর্ডারকে শক্তিশালী করেছেন।

৫. এমিলিও গে (ইতালি থেকে ইংল্যান্ড)

এই তালিকার সর্বশেষ সংযোজন হলো এমিলিও গে। ইতালির হয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করা এই ব্যাটার এখন ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের দরজায় কড়া নাড়ছেন। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য তাকে দলে ডাকা হয়েছে। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ডারহামের হয়ে তার অসাধারণ ফর্ম ইংল্যান্ডের টপ-অর্ডারের সমস্যা সমাধানে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার এই উত্থান প্রমাণ করে যে, বড় মঞ্চে খেলার স্বপ্ন থাকলে তা যেকোনো দেশ থেকেই পূরণ করা সম্ভব।

এই ক্রিকেটারদের গল্পগুলো তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। তারা প্রমাণ করেছেন যে, সুযোগ এবং পরিশ্রম যদি সঠিক পথে থাকে, তবে বড় কোনো বাধা খেলোয়াড়দের সফল হওয়ার পথে অন্তরায় হতে পারে না।

Avatar photo
Amina Rahman

Amina Rahman specializes in cricket tactics, team balance analysis, and performance trends in T20 cricket.