গুজরাট টাইটানসের দাপট: সিএসকে-কে হারিয়ে শীর্ষ দুইয়ে নিশ্চিত
গুজরাট টাইটানসের দাপুটে জয়
বৃহস্পতিবার রাতে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) প্লে-অফের ক্ষীণ আশা ধূলিসাৎ করে দিল গুজরাট টাইটানস (জিটি)। ব্যাট ও বল—উভয় বিভাগেই দাপট দেখিয়ে সিএসকে-কে ৮৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুইয়ে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করল টাইটানসরা।
ব্যাট হাতে টাইটানসদের রাজত্ব
প্রথমে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে লাল মাটির পিচে দুর্দান্ত শুরু করেন গুজরাট টাইটানসের ব্যাটাররা। শুভমান গিলের মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতক দলের ভিত মজবুত করে দেয়। এরপর সাই সুদর্শনের ৫৩ বলে ৮৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং জস বাটলারের ২৭ বলে অপরাজিত ৫৭ রানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ডে ২২৯ রানের পাহাড় গড়ে গুজরাট। সিএসকে বোলারদের জন্য এই রান তাড়া করা ছিল এক পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ।
সিএসকের ব্যর্থতার গল্প
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চেন্নাইয়ের টপ অর্ডার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। মাত্র আট ওভারের মধ্যেই প্রথম পাঁচটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে সিএসকে। এর মধ্যে শিবম দুবে ১৭ বলে ৪৭ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলে জয়ের আশা জাগানোর চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। রশিদ খানের ঘূর্ণিতে সিএসকের লোয়ার অর্ডার পুরোপুরি ধসে পড়ে এবং মাত্র ১৪তম ওভারেই অলআউট হয়ে যায় মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
সানজু স্যামসনের দুর্ভাগ্য
ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে স্পেন্সার জনসনের একটি ডেলিভারি সামলাতে গিয়ে আঙুলে চোট পান সানজু স্যামসন। মাঠ ছাড়ার পর তিনি আর কিপিং করতে নামেননি। যদিও ব্যাটিং করার সুযোগ ছিল, কিন্তু মাঠে নেমে প্রথম বলেই মোহাম্মদ সিরাজের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
মোহাম্মদ সিরাজের প্রভাব
বল হাতে শুরুতেই নিজের জাত চিনিয়েছেন মোহাম্মদ সিরাজ। প্রথম বলেই উইকেট পাওয়ার পর সিএসকে অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে বোল্ড করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। এরপর উর্বিল প্যাটেলকে আউট করে সিএসকের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন এই পেসার।
শিবম দুবের লড়াই ও শেষের বিপর্যয়
নয় ওভার শেষে সিএসকে যখন ৫ উইকেটে ৭২ রানে ধুঁকছিল, তখন শিবম দুবে আক্রমণের ঝড় তোলেন। আরশাদ খান এবং জেসন হোল্ডারের ওভারে বেশ কিছু বাউন্ডারি ও ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান। তবে রশিদ খানের বলে শুভমান গিলের দুর্দান্ত ক্যাচটি ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। দুবে আউট হওয়ার পর মাত্র তিন ওভারের ব্যবধানে সিএসকের শেষ চারটি উইকেট পড়ে যায়। রশিদ খান ৩টি উইকেট নিয়ে সিএসকের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন। সামগ্রিকভাবে, এটি ছিল গুজরাট টাইটানসের এক পেশাদার ও নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স, যা তাদের টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপের জন্য আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
