Cricket News

১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয়ের ভুয়া বিল নিয়ে সরব কীর্তি আজাদ, কপিল দেবের স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ

Hassan Raza · · 1 min read
Share

১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতির ওপর কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা: কীর্তি আজাদের কড়া বার্তা

ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয় এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। লর্ডসের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো অপরাজেয় দলকে হারিয়ে কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন দল বিশ্বমঞ্চে ভারতের জয়গান গেয়েছিল। তবে দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে সেই ঐতিহাসিক জয়ের সাথে সম্পর্কিত একটি বিতর্কিত নথি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি বিল ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে এটি ১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় দলের সেলিব্রেশনের খরচ।

ভাইরাল বিল ও কীর্তি আজাদের প্রতিক্রিয়া

প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার এবং ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য কীর্তি আজাদ এই ভাইরাল বিলটি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ‘গ্রোভেনর হোটেল’-এর নামে তৈরি এই বিলে ৭৬৪ ব্রিটিশ পাউন্ডের খরচের তালিকা দেখানো হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের উল্লেখ রয়েছে। বিলের নিচের অংশে তৎকালীন অধিনায়ক কপিল দেবের নাম স্বাক্ষর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় কীর্তি আজাদ লিখেছেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিলটি ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা সেই সময় লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পাশে ওয়েস্টমোরল্যান্ড হোটেলে ছিলাম। ২৫ জুন ১৯৮৩-তে জয়ের পর আমরা সারা রাত ২৬ জুন সকাল পর্যন্ত উদযাপন করেছি। আমরা কখনোই ওই হোটেলে যাইনি। এছাড়া কপিল দেবের স্বাক্ষরটিও নকল করা হয়েছে।’

তার এই দাবির প্রেক্ষিতে প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার এল. শিবরামাকৃষ্ণানও সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘কপিল দেব কখনোই এমনভাবে স্বাক্ষর করেন না।’

ভারতীয় ক্রিকেটের মোড় ঘোরানো সেই জয়

১৯৮৩ সালের সেই বিশ্বকাপ যাত্রা ছিল রূপকথার মতো। ম্যানচেস্টারে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৪ রানে হারিয়ে কাপিল দেবের বাহিনী টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল। যদিও অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হার এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুরুতে চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের। কিন্তু সেই টুর্নামেন্টেই কপিল দেবের সেই ঐতিহাসিক ১৭৫ রানের ইনিংস জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতকে নতুন জীবন দেয়।

  • মদন লাল এবং রজার বিনির দুর্দান্ত বোলিং অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দেয়।
  • সেমিফাইনালে যশপাল শর্মা ও সন্দীপ পাতিলের অর্ধশতকে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ভারত।
  • ফাইনালে লর্ডসের মাঠে মাত্র ১৮৩ রানে অলআউট হওয়ার পরও ভারতীয় বোলারদের অদম্য লড়াইয়ে বিশ্বজয় সম্ভব হয়।

ফাইনালে কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের ৩৮ রান এবং সন্দীপ পাতিলের ২৭ রানের ওপর ভর করে ভারত ১৮৩ রান সংগ্রহ করেছিল। এরপর মোহিন্দর অমরনাথ ও মদন লালদের বোলিং তোপে শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ১৪০ রানেই গুটিয়ে যায়।

কেন এই ভুয়া বিল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে?

ক্রিকেটের সোনালী অতীতের সাথে এমন ভুয়া নথির সংযুক্তি ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কীর্তি আজাদের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা এগিয়ে এসে এই জালিয়াতির মুখোশ উন্মোচন করায় প্রকৃত ঘটনা সামনে এসেছে। ইতিহাস বিকৃত করার এই প্রচেষ্টা যে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, তা এই ঘটনার মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেটের সেই গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় এবং লর্ডসের জয়ের স্মৃতি কোনোভাবেই বিতর্কিত বিলের মাধ্যমে কলঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের ভিত্তিহীন তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যখন সেটি দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্যের সাথে সম্পর্কিত। কীর্তি আজাদের সাহসী পদক্ষেপ ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিয়েছে এবং ঐতিহাসিক সত্যকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।