আইপিএল ২০২৬: এসআরএইচ-এর তাণ্ডবে জশ হ্যাজেলউডের ক্যারিয়ারের দুঃস্বপ্নের রাত
আইপিএলে হ্যাজেলউডের কালো রাত
আইপিএল ২০২৬-এর ৬৭তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল সানরাইজার্স হাইদ্রাবাদ (এসআরএইচ) এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু (আরসিবি)। হাইদ্রাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে হাইদ্রাবাদের ব্যাটাররা আরসিবির বোলিং লাইনআপকে তছনছ করে দেন। বিশেষ করে, আরসিবির প্রধান অস্ত্র জশ হ্যাজেলউডকে নিয়ে যে নির্মম প্রহার চালিয়েছেন এসআরএইচ ব্যাটাররা, তা হ্যাজেলউডের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
ব্যাটিংয়ের স্বর্গরাজ্য হাইদ্রাবাদ
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সানরাইজার্স হাইদ্রাবাদ। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য দারুণ সহায়ক থাকায় এসআরএইচ ব্যাটাররা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। পাওয়ারপ্লেতেই তারা তুলে নেন ৬৩ রান। অভিষেক শর্মা মাত্র ২২ বলে ৫৬ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৫টি বিশাল ছক্কা। এই শুরুর পর হেনরিখ ক্লাসেন এবং ঈশান কিশান দায়িত্ব বুঝে নেন এবং আরসিবির বোলারদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।
হ্যাজেলউডের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে ওভার
আরসিবি যখন রানের গতি কমাতে তাদের অভিজ্ঞ পেসার জশ হ্যাজেলউডকে আক্রমণে আনে, তখন পরিকল্পনাটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ম্যাচের ১৩তম ওভারে ক্লাসেন হ্যাজেলউডের ওপর চড়াও হন। ওই ওভারে হ্যাজেলউড ৩টি ছক্কা এবং একটি চার হজম করেন। এর সাথে অতিরিক্ত ওয়াইড বলের চাপ তো ছিলই। সব মিলিয়ে, সেই এক ওভারে হ্যাজেলউড ২৭ রান দিয়ে বসেন, যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খরুচে ওভার। শেষ পর্যন্ত তিনি ৪ ওভার বল করে ৫৫ রান খরচ করেন, যা তার জন্য একটি দুঃস্বপ্ন হয়ে রইল।
আরসিবির বোলিংয়ে ধস
হ্যাজেলউডের সেই ওভারের পর আরসিবির বোলিং ইউনিট যেন পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়ে। রাজিক সালাম এবং ভুবনেশ্বর কুমারও টানা ওভারগুলোতে ১৫ রানের বেশি খরচ করেন। হেনরিখ ক্লাসেন এবং ঈশান কিশান দুজনেই দ্রুতগতিতে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং তৃতীয় উইকেটে ১১৩ রানের জুটি গড়েন। যদিও ক্রুনাল পান্ডিয়ার বলে ক্লাসেন ব্যক্তিগত ৫১ রানে আউট হয়ে ফিরে যান, তবুও এসআরএইচ তখন ২৫০ রানের লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। ১৬ ওভারের আগেই তারা ২০০ রানের গণ্ডি পার করে ফেলে।
রাজাত পাটিদারের প্রত্যাবর্তন ও আরসিবির ভবিষ্যৎ
এই ম্যাচের আগে আরসিবির জন্য একটি ইতিবাচক খবর ছিল অধিনায়ক রাজাত পাটিদারের প্রত্যাবর্তন। পিবিকেএস-এর বিরুদ্ধে ইনজুরির কারণে আগের ম্যাচে না খেললেও, এই ম্যাচে তিনি ফিরে আসেন। আরসিবির পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখার জন্য এবং প্লে-অফে ভালো করার জন্য পাটিদারের সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এই ম্যাচে এসআরএইচের ব্যাটাররা তাদের বেশ চাপে ফেলে দিয়েছেন, তবুও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আরসিবি নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
উপসংহার
ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা, আর এই ম্যাচে এসআরএইচ সেটা আবারও প্রমাণ করল। হ্যাজেলউডের মতো নিয়ন্ত্রিত বোলারও যে দিনে নিজের ছন্দে থাকেন না, সেদিন প্রতিপক্ষ বোলারকে কোনো সুযোগই দেয় না—এটাই আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের রূপ। এখন দেখার বিষয়, আরসিবি প্লে-অফের আগে তাদের বোলিং লাইনআপে কী ধরনের পরিবর্তন আনে এবং এসআরএইচ শীর্ষ দুইয়ে থাকার লড়াইয়ে নিজেদের কতটা মজবুত করতে পারে।
