মেট্রো ব্যাংক ওয়ানডে কাপ: চারিস পলি ও মেরি টেলরের নৈপুণ্যে ল্যাঙ্কাশায়ারকে হারাল ওয়ারউইকশায়ার
সাউথপোর্টে ওয়ারউইকশায়ারের দাপুটে জয়: ল্যাঙ্কাশায়ার কুপোকাত
মেট্রো ব্যাংক ওয়ানডে কাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ল্যাঙ্কাশায়ারকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ওয়ারউইকশায়ার। সাউথপোর্টের মাঠে বৃষ্টির কারণে ম্যাচের পরিধি কমিয়ে ৪২ ওভার নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আবহাওয়ার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মাঠের লড়াইয়ে উত্তাপের কোনো কমতি ছিল না। বিশেষ করে ওয়ারউইকশায়ারের চারিস পলি এবং মেরি টেলরের অসাধারণ পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং বিপর্যয় ও টেলরের আঘাত
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ল্যাঙ্কাশায়ারকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানায় ওয়ারউইকশায়ার। ব্যাটিংয়ে নেমে ল্যাঙ্কাশায়ারের শুরুটা মোটামুটি ভালোই ছিল। ওপেনিং জুটিতে ইভ জোনস এবং সেরেন স্মেল ৩৬ রান যোগ করেন। তবে ব্যক্তিগত ১৯ রানে জোনসকে স্লিপে মেরি টেলরের ক্যাচে পরিণত করে প্রথম আঘাত হানেন টেলর নিজেই। এর কিছুক্ষণ পরেই সেরেন স্মেল ১৪ রানে লেগ স্পিনার ফিবি ব্রেটের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ল্যাঙ্কাশায়ারকে লড়াইয়ে ফেরান অধিনায়ক এলি থ্রেলকেল্ড এবং ম্যাডি পেনা। তৃতীয় উইকেটে তারা ৮৩ রানের একটি চমৎকার পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। ২৪তম ওভারে দলের স্কোর যখন ১২০, তখন জর্জিয়া ডেভিস পরপর দুই ওভারে এই দুই সেট ব্যাটারকে আউট করে ম্যাচে নাটকীয় মোড় আনেন। পেনা ৩৮ রানে বোল্ড হন এবং থ্রেলকেল্ড ৩৯ রানে শর্ট এক্সট্রা কভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। শেষ দিকে ক্রস ৩৩ বলে ৩৪ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন এবং আইলসা লিস্টার ২৭ রান করেন। নির্ধারিত ৪২ ওভারে ল্যাঙ্কাশায়ার ৯ উইকেট হারিয়ে ২২৬ রান সংগ্রহ করে। ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে মেরি টেলর ৪৭ রানে ৩টি উইকেট নেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বোলিং স্পেল।
রান তাড়া করতে নেমে ওয়ারউইকশায়ারের লড়াই
২২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আমু সুরেনকুমারের উইকেট হারায় ওয়ারউইকশায়ার। তবে অস্ট্রেলীয় রিক্রুট জর্জিয়া রেডমেইন ধীরস্থিরভাবে ব্যাটিং করে ২৮ রান যোগ করেন। তার বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক চারিস পলি। পলি এবং মেগ অস্টিন মিলে দ্রুত ৪৯ রান যোগ করেন। বিশেষ করে ১৮তম ওভারে গ্রেস জনসনের বোলিং থেকে পলি একটি ছক্কা ও দুটি চারসহ ১৭ রান তুলে নিয়ে রানের গতি বাড়িয়ে দেন।
মাঝপথে ওয়ারউইকশায়ার কিছুটা ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। অস্টিন (২২), ফ্রি-বর্ন (২০) এবং ক্লো ব্রুয়ার (৩) দ্রুত আউট হয়ে গেলে ম্যাচ ল্যাঙ্কাশায়ারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তবে একদিকে অবিচল ছিলেন চারিস পলি। তিনি মাত্র ৪৯ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৩২তম ওভারে ৬৩ রান করে তিনি যখন আউট হন, তখন ওয়ারউইকশায়ারের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭৩ রান।
টেলর ও ওয়ার্থের অবিস্মরণীয় পার্টনারশিপ
ম্যাচ যখন দোদুল্যমান অবস্থায়, তখন হাল ধরেন মেরি টেলর এবং ন্যাট ওয়ার্থ। যখন তারা জুটি বাঁধেন, তখন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল এবং রান রেটের চাপও বাড়ছিল। সপ্তম উইকেটে এই জুটি মাত্র ৬৬ বলে ৭৫ রানের এক বিধ্বংসী পার্টনারশিপ গড়ে ল্যাঙ্কাশায়ারকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন। ন্যাট ওয়ার্থ ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবং মেরি টেলর ৪২ রানে অপরাজিত থেকে ৪১তম ওভারে উইনিং শটটি খেলেন।
ম্যাচের ফলাফল ও প্রভাব
৯ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়ারউইকশায়ার। এই জয়ের ফলে প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান আরও সুসংহত হলো। বিশেষ করে মেরি টেলরের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স (৩ উইকেট এবং ৪২ রান) ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, ল্যাঙ্কাশায়ার ভালো শুরু করলেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা এবং বোলারদের শেষ মুহূর্তের নিয়ন্ত্রণহীন বোলিং তাদের পরাজয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সাউথপোর্টের এই জয় ওয়ারউইকশায়ার শিবিরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সামনে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শুরুর আগে জর্জিয়া রেডমেইনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের উপস্থিতি এবং চারিস পলির তুখোড় ফর্ম দলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। ক্রিকেট প্রেমীরা আশা করছেন, আগামী ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
