২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফর: বিরাট কোহলির জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়
বিরাট কোহলির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়
ক্রিকেট মাঠে বিরাট কোহলি মানেই বোলারদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। তার ব্যাটিংয়ে দেখা যায় আগ্রাসন, টেকনিক এবং রান করার এক অদম্য ক্ষুধা। তবে মাঠের বাইরের এই অজেয় কোহলির ভেতরেও যে ভয় এবং মানসিক টানাপোড়েন কাজ করতে পারে, তা হয়তো অনেকেই কল্পনা করতে পারেন না। ২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফর ছিল কোহলির ক্যারিয়ারের এমন একটি সময়, যা আজও তাকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দেয়।
(ছবি: সংগৃহীত)
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোহলি জানান, সেই সফরটি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। তিনি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতেন এই চিন্তা নিয়ে যে, আজ মাঠে গিয়ে তিনি ব্যর্থ হতে যাচ্ছেন। সেই মানসিক চাপ কতটা ভয়াবহ ছিল, তা কেবল একজন অ্যাথলেটই বুঝতে পারেন।
পা কাঁপছিল কোহলির
২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট সিরিজে জেমস অ্যান্ডারসনের বিপক্ষে কোহলি রীতিমতো দিশেহারা ছিলেন। ১০ ইনিংসে তিনি করতে পেরেছিলেন মাত্র ১৩৪ রান। সেই ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করার সময় তার অবস্থা ছিল শোচনীয়। কোহলি বলেন, “প্রথম ওয়ানডেতে যখন আমি ব্যাটিংয়ে নামছিলাম, তখন আমার পা কাঁপছিল। আমি মনে মনে ঠিক করেছিলাম, প্রতিটি বল ছক্কা মারার চেষ্টা করব। সেই চেষ্টায় গিয়েই মিড-অফে ক্যাচ তুলে আউট হই। যদিও আমি শূন্য রানে আউট হয়েছিলাম, কিন্তু সেই শটটি খেলার পর আমি এক অদ্ভুত স্বস্তি পেয়েছিলাম, কারণ আমি অন্তত ভয়কে জয় করার চেষ্টা করেছিলাম।”
মানসিক অবসাদ ও উত্তরণ
একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের জীবনের অন্ধকার দিকগুলো সাধারণত পর্দার আড়ালেই থেকে যায়। ভক্তরা কেবল মাঠের সেঞ্চুরি আর জয়ের আনন্দ দেখেন। কিন্তু প্রতিটি সাফল্যের পেছনে থাকে অগণিত ব্যর্থতার গল্প। কোহলির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
- চাপের মুখে টিকে থাকা: কোহলি জানতেন তিনি ব্যর্থ হতে যাচ্ছেন, তবুও তিনি নিজেকে মাঠে নামতে বাধ্য করেছিলেন।
- ভয়ের বিরুদ্ধে লড়াই: শূন্য রানে আউট হওয়া সত্ত্বেও ভয়কে পেছনে ফেলে আক্রমণাত্মক খেলার সিদ্ধান্ত ছিল তার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম ধাপ।
- শেখার মানসিকতা: ব্যর্থতাকে লুকিয়ে না রেখে তিনি সাহসের সাথে তার দুর্বলতাগুলো নিয়ে কাজ করেছেন।
একটি ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
২০১৪ সালের সেই বিপর্যয় বিরাট কোহলিকে শেষ করে দেয়নি, বরং তাকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছিল। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড়। পরবর্তী কয়েক বছরে কঠোর পরিশ্রম এবং অদম্য মানসিকতার মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিশ্বসেরা ব্যাটারে পরিণত করেন। চার বছর পর, ২০১৮ সালের ইংল্যান্ড সফরে যখন তিনি ফেরেন, তখন তিনি সম্পূর্ণ অন্য এক কোহলি। সেই সফরে তিনি ব্যাটার হিসেবে দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রমাণ করেছিলেন যে, মনের জোর থাকলে ব্যর্থতাকে জয় করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
কোহলির এই গল্প আমাদের শেখায় যে, জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়েও হাল ছেড়ে না দেওয়াটাই আসল সাফল্য। ভয়কে মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নামই হলো চ্যাম্পিয়নদের পথচলা। বিরাট কোহলির সেই অন্ধকার দিনগুলোই আজকের এই কিংবদন্তি কোহলির ভিত তৈরি করে দিয়েছিল।
