টম ব্যান্টন আইপিএল ২০২৬ বিতর্ক: গুজরাট টাইটান্সকে চমকে দিয়ে মাঠে ফিরলেন ইংল্যান্ডের তারকা
আইপিএল থেকে চোটের অজুহাতে বিদায়? টম ব্যান্টনের দ্রুত মাঠে ফেরা নিয়ে তোলপাড়
আইপিএল ২০২৬-এর প্লে-অফের লড়াই যখন জমে উঠেছে, ঠিক তখনই এক বিতর্কিত ঘটনায় ক্রিকেট মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন ইংলিশ ব্যাটার টম ব্যান্টন। গুজরাট টাইটান্সের হয়ে এবারের আইপিএলে একটি ম্যাচও না খেলে চোটের কারণে ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে তার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি ব্যান্টন এতটাই গুরুতর চোট পেয়েছিলেন যে তাকে আইপিএল ছাড়তে হলো, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে?
গুজরাট টাইটান্সের ২ কোটির বাজি ও অসমাপ্ত সফর
আইপিএল ২০২৬-এর মেগা নিলামে ইংল্যান্ডের বিস্ফোরক ওপেনার টম ব্যান্টনকে ২ কোটি রুপির মোটা অঙ্কের বিনিময়ে দলে নিয়েছিল গুজরাট টাইটান্স। লক্ষ্য ছিল দলের ব্যাটিং লাইনআপকে আরও শক্তিশালী ও বিধ্বংসী করে তোলা। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বড় ধাক্কা খায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। গত ১৭ এপ্রিল গুজরাট টাইটান্সের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে, আঙুলের চোটের কারণে টম ব্যান্টন পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। পরবর্তীতে তার পরিবর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ ক্রিকেটার কনর এস্টারহুইজেনকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে টাইটান্স ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু ব্যান্টনের বিদায়ের পর মাত্র এক মাস পার হতে না হতেই যে দৃশ্য দেখা গেল, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে সমারসেটের হয়ে বিধ্বংসী প্রত্যাবর্তন
আইপিএল থেকে বিদায় নেওয়ার ঠিক এক মাসের মাথায় ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ‘টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট ২০২৬’-এ সমারসেটের জার্সিতে মাঠে নেমে পড়েন টম ব্যান্টন। হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই ওপেনার হিসেবে তাকে দুর্দান্ত ফর্মে দেখা যায়। ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উইল স্মিদের সাথে ইনিংসের সূচনা করেন ব্যান্টন। মাত্র ২৩ বলে ৩টি চার এবং ১টি ছক্কার সাহায্যে ৩০ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। স্মিদ এবং ব্যান্টন মিলে মাত্র ৭.৩ ওভারে ৯০ রানের একটি বিস্ফোরক উদ্বোধনী জুটি উপহার দেন। লিয়াম ডসন ব্যান্টনকে আউট করার আগে সমারসেটের জয়ের ভিত তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
স্মিদ ৫৯ রান করেন এবং জেমস রিউ মাত্র ২৯ বলে অপরাজিত ৪৭ রান করে দলকে ৭ উইকেটের বড় জয় এনে দেন। তবে ম্যাচের জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে টম ব্যান্টনের শারীরিক সুস্থতা। মাত্র কিছুদিন আগে যিনি আঙুলের গুরুতর চোটের কারণে আইপিএলের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় লিগ খেলতে পারলেন না, তিনি কীভাবে এত দ্রুত পুরোপুরি ফিট হয়ে মাঠে ফিরে এলেন?
দ্বিতীয় একাদশেই লুকিয়ে ছিল আসল চমক
হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের ম্যাচটিই ব্যান্টনের প্রথম ম্যাচ ছিল না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এরও আগে গত ১৫ মে সমারসেট সেকেন্ড একাদশের হয়ে একটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। সেখানে তিনি এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত ৮৫ রান সংগ্রহ করেন। অর্থাৎ, মে মাসের মাঝামাঝি সময়েই তিনি পুরোপুরি ব্যাটিং করার মতো ফিট ছিলেন। যেখানে আইপিএল মে মাসের শেষ পর্যন্ত চলছে, সেখানে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে তার খেলা এবং রান করা ফ্র্যাঞ্চাইজি ও সমর্থকদের মনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ব্যান্টনের আইপিএল ছাড়ার আসল কারণ কি সত্যিই চোট ছিল, নাকি প্রথম একাদশে সুযোগ না পাওয়ার হতাশা?
বিদেশী ক্রিকেটারদের মনোভাব এবং ফিল সল্টের সাথে তুলনা
অতীতেও দেখা গেছে, অনেক বিদেশী ক্রিকেটার আইপিএলে দল পাওয়ার পর যখন দেখেন যে তারা নিয়মিত প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন না, তখন বিভিন্ন অজুহাতে টুর্নামেন্ট মাঝপথে ছেড়ে দেশে ফিরে যান। টম ব্যান্টনের ক্ষেত্রেও কি তেমনটিই ঘটেছে? গুজরাট টাইটান্সের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনে তার খেলার সুযোগ পাওয়া কঠিন ছিল। আর এই কারণেই কি তিনি চোটের বাহানা দিয়ে দেশে ফিরে গেছেন?
এই পরিস্থিতির সাথে ইংল্যান্ডের আরেক তারকা ফিল সল্টের তুলনা করা হচ্ছে। সল্টও আইপিএল ২০২৬ চলাকালীন আঙুলের চোটে পড়েছিলেন এবং সুস্থতার জন্য দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্লে-অফ শুরু হওয়ার ঠিক আগে তিনি ভারতে ফিরে এসে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) শিবিরে যোগ দেন। সল্ট যেখানে দলের প্রতি প্রতিশ্রুতি বজায় রাখলেন, সেখানে ব্যান্টন কেন ভারতে না ফিরে সরাসরি ইংল্যান্ডে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, তা নিয়ে সমালোচনা থামছেই না।
গুজরাট টাইটান্সের প্লে-অফ মিশন ও বর্তমান অবস্থা
টম ব্যান্টনকে নিয়ে এই বিতর্ক চললেও মাঠের পারফরম্যা্সে তার কোনো প্রভাব পড়তে দেয়নি গুজরাট টাইটান্স। শুভমান গিলের নেতৃত্বে দলটি টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফর্ম করে চলেছে। ১৪টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে জিতে তারা পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে প্লে-অফে পা রেখেছে। গ্লেন ফিলিপসের পরিবর্তে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডারকে দলে নেওয়ায় দলের ভারসাম্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগামী ২৬ মে ধর্মশালায় কোয়ালিফায়ার ১-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) মুখোমুখি হবে গুজরাট টাইটান্স। এই ম্যাচে বিজয়ী দল সরাসরি আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনালে চলে যাবে। ইতিমধ্যে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদও (এসআরএইচ) প্লে-অফে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে। প্লে-অফের চতুর্থ ও শেষ দল হিসেবে কোয়ালিফাই করার দৌড়ে টিকে রয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স, রাজস্থান রয়্যালস, পাঞ্জাব কিংস এবং দিল্লি ক্যাপিটালস।
টম ব্যান্টনের এই দ্রুত মাঠে ফেরা আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য একটি বড় বার্তা। আগামী দিনে বিদেশী খেলোয়াড়দের চুক্তির ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আরও কঠোর হবে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
