আইসিসির বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা: টেস্টে গোলাপি বল ও কোচদের মাঠে প্রবেশের নিয়ম
ক্রিকেটের নিয়মে আসছে আমূল পরিবর্তন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বিশ্ব ক্রিকেটের চিত্র বদলে দেওয়ার মতো বেশ কিছু বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। টেস্ট, ওডিআই এবং টি-টোয়েন্টি—তিনটি ফরম্যাটেই আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এই প্রস্তাবগুলো আনা হয়েছে। সম্প্রতি আইসিসির চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিসহ সংশ্লিষ্টরা এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগামী ৩০ মে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি বোর্ডের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং অনুমোদিত হলে ১ অক্টোবর থেকে এই নিয়মগুলো কার্যকর হতে পারে।
টেস্ট ক্রিকেটে গোলাপি বলের অন্তর্ভুক্তি
ক্রিকেট মহলে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে টেস্ট ক্রিকেটে গোলাপি বল ব্যবহারের প্রস্তাবটি। বর্তমানে কেবল দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচেই গোলাপি বল ব্যবহৃত হয়। তবে আইসিসি এখন চিন্তা করছে, যদি বৃষ্টির কারণে বা খারাপ আবহাওয়ায় খেলার স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হয় এবং ম্যাচটি কৃত্রিম আলোয় চালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তবে লাল বলের পরিবর্তে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে। তবে এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি শর্ত রয়েছে—সিরিজ শুরুর আগেই উভয় দলকে এই নিয়ম মেনে চলার ব্যাপারে একমত হতে হবে। অর্থাৎ এটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই কার্যকর হবে।
ওডিআই ম্যাচে কোচদের সরাসরি হস্তক্ষেপ
ওয়ানডে ক্রিকেটে কোচদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ করার লক্ষ্যে আইসিসি নতুন এক প্রস্তাব রেখেছে। বর্তমানে ওডিআই ম্যাচে ড্রিংকস ব্রেকের সময় কেবল বদলি খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশ করতে পারেন, কিন্তু কোচরা বাউন্ডারি লাইনের বাইরেই থাকেন। আইসিসি চায় কোচদের এই সীমাবদ্ধতা তুলে দিয়ে ড্রিনকস ব্রেকের সময় তাদের মাঠে প্রবেশ করার অনুমতি দিতে। এর ফলে হেড কোচরা সরাসরি খেলোয়াড়দের সাথে কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে স্ট্র্যাটেজিক টাইম-আউটের সময় কোচরা মাঠে প্রবেশ করতে পারেন, ঠিক সেই আদলেই ওডিআইতে এই নিয়ম প্রবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। তবে কোচদের কি দলের জার্সি পরে মাঠে নামতে হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
টি-টোয়েন্টিতে ইনিংস বিরতি কমানোর পরিকল্পনা
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে আইসিসি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। ইনিংস বিরতির সময় ২০ মিনিট থেকে কমিয়ে ১৫ মিনিটে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে দুই ইনিংসের মাঝে খেলোয়াড়রা দলগত আলোচনার জন্য ৫ মিনিট কম সময় পাবেন। ক্রিকেটের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই মূলত এই ছোট কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপটি নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অবৈধ বোলিং অ্যাকশন নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার
বোলারদের সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আইসিসি আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ফিল্ড আম্পায়াররা সরাসরি হক-আই (HawkEye) প্রযুক্তির সহায়তা নিতে পারবেন। এর ফলে খেলার মাঠেই সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ শেষে বোলারদের রিপোর্ট করা হয়, কিন্তু নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে আম্পায়াররা ম্যাচের চলাকালীনই বোলারদের অ্যাকশন পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। যদিও প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করবে তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে আইসিসি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ক্রিকেটের মানোন্নয়ন এবং খেলাকে আরও দর্শকপ্রিয় ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই আইসিসির এই বহুমুখী পরিকল্পনা। আগামী ৩০ মে আহমেদাবাদের বৈঠকে যদি এসব প্রস্তাব পাস হয়, তবে ক্রিকেটের চিরাচরিত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ক্রিকেট প্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই বৈঠকের ফলাফলের জন্য। ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মগুলো ক্রিকেট বিশ্বে নতুন কোনো দিগন্ত উন্মোচন করবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
