Latest Cricket News

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ছাড়ার সিদ্ধান্তই ঈশান কিষাণের ক্যারিয়ার বদলে দিয়েছে: আম্বাতি রাইডু

Dev Patel · · 1 min read
Share

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ছাড়ার সিদ্ধান্তই ঈশান কিষাণের ক্যারিয়ার বদলে দিয়েছে

আইপিএলের মঞ্চে ঈশান কিষাণের সাম্প্রতিক উত্থান ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জার্সিতে তার এই বিধ্বংসী ফর্মের নেপথ্যে রয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ছাড়ার সাহসিক সিদ্ধান্ত। প্রাক্তন চেন্নাই সুপার কিংস তারকা আম্বাতি রাইডু মনে করেন, মুম্বাইয়ের মতো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি ছেড়ে বেরিয়ে আসাটাই ঈশানের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘ সাত বছর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অংশ থাকার পর ঈশানের এই দলবদল তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

মুম্বাইয়ের তারকাদের ভিড়ে ঈশানের লড়াই

আম্বাতি রাইডু, যিনি নিজেও দীর্ঘ সময় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তিনি ঈশানের এই যাত্রাকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। রাইডুর ভাষায়, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে খেলার সময় দলের বড় বড় তারকাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজের জায়গা করে নেওয়াটা তরুণ ঈশানের জন্য যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল। রাইডু বলেন, ‘মুম্বাইয়ের মতো দলে বেড়ে ওঠার সময় কেউ একজন সুপারস্টার হতে চায়। ঈশান এখন নিজের যোগ্যতায় সুপারস্টার, কিন্তু সেই সময়ে দলের অন্য তারকাদের ভিড়ে নিজেকে আলাদাভাবে মেলে ধরাটা খুব কঠিন ছিল।’

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে ঈশানের পুনর্জন্ম

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ম্যানেজমেন্ট ঈশানের ওপর আস্থা রেখেছে, আর ঈশানও সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন দারুণভাবে। ২০২৬ সালের আইপিএল মৌসুমে তিনি ৫৫৯ রানের বেশি সংগ্রহ করে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কেবল আইপিএল নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের পর ভারতীয় দলে ফিরে এসেও তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য হিসেবে তার অবদান অনস্বীকার্য, যেখানে তিনি ৩০০-র বেশি রান করেছিলেন।

ব্যাটিংয়ের ভারসাম্য এবং পরিপক্কতা

আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক খেলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। রাইডু মনে করেন, অনেক তরুণ ক্রিকেটার এই ‘সুইচ’ করতে গিয়ে ভুল করে বসেন। তারা সব সময় আক্রমণ করতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন। তবে ঈশান কিষাণ এই মৌসুমে তার খেলায় সেই পরিপক্কতা এনেছেন।

রাইডু বলেন, ‘অনেক তরুণ ক্রিকেটার জানে না কখন আক্রমণ করতে হবে আর কখন কিছুটা সময় নিয়ে খেলতে হবে। এটি শেখার জন্য অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। ঈশান এটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শিখেছে। এখন সে জানে কখন গিয়ার বদলাতে হয়।’

নেতৃত্ব এবং আত্মবিশ্বাস

ঈশান কিষাণ এই মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ৫৬৯ রান করে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে প্লে-অফে পৌঁছে দিয়েছেন। সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে ঝাড়খণ্ডের হয়ে সাফল্য পাওয়ার পর থেকে তার আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী। খেলোয়াড় এবং অধিনায়ক হিসেবে তার এই জয়যাত্রা রাইডুর মতে তার শট সিলেকশনকে আরও উন্নত করেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে একজন পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

উপসংহার

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মতো শক্তিশালী দল থেকে বেরিয়ে এসে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া যেকোনো ক্রিকেটারের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু ঈশান কিষাণ সেই ঝুঁকি নিয়েছেন এবং তাতে সফল হয়েছেন। আম্বাতি রাইডুর মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের গতিপথ পরিবর্তন করে দিতে পারে। ঈশান কিষাণ এখন কেবল আইপিএলের একজন নিয়মিত পারফর্মার নন, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তার এই উত্থান অন্যান্য তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Avatar photo
Dev Patel

Dev Patel delivers real-time cricket updates, over-by-over summaries, and match-changing moments during IPL fixtures.