আইপিএল ২০২৬: অর্জুন টেন্ডুলকারের নতুন যাত্রা ও পারিশ্রমিকের বিস্তারিত
আইপিএল ২০২৬-এ অর্জুন টেন্ডুলকারের নতুন শুরু
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের ৬৮তম ম্যাচে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG) জার্সিতে মাঠে নামেন অর্জুন টেন্ডুলকার। লক্ষ্ণৌর একানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি কেবল অর্জুনের জন্যই নয়, বরং তার ভক্তদের জন্যও ছিল বিশেষ একটি দিন। কারণ প্রায় দুই বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আইপিএলের মূল একাদশে ফিরলেন এই তরুণ বাঁহাতি পেসার। এটি ছিল লখনউ ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে তার প্রথম ম্যাচ। গত বছর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স থেকে ট্রেড হয়ে তিনি লখনউতে যোগ দিয়েছিলেন।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স থেকে লখনউয়ের পথে
অর্জুন টেন্ডুলকারের আইপিএল যাত্রা বেশ উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। ২০২১ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাকে দলে নিলেও ইনজুরির কারণে সেই মৌসুমে তিনি খেলতে পারেননি। পরবর্তীতে ২০২২ সালের নিলামে আবারও তাকে দলে ভেড়ায় মুম্বাই। তবে চার মৌসুম মুম্বাইয়ের ডেরায় কাটানোর পরেও তিনি খুব বেশি সুযোগ পাননি। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে তিনি মিলিয়ে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। সব মিলিয়ে মুম্বাইয়ের হয়ে পাঁচ ম্যাচে তার ঝুলিতে জমা হয়েছে তিনটি উইকেট।
অর্জুন টেন্ডুলকারের আইপিএল ২০২৬-এর মূল্য
নভেম্বর ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত আইপিএল নিলামের আগেই লখনউ সুপার জায়ান্টস অর্জুন টেন্ডুলকারকে ট্রেড করে দলে নেয়। এই তরুণ পেসারকে দলে ভেড়াতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি খরচ করেছে ৩০ লক্ষ রুপি। মোহম্মদ শামি, মহসিন খান এবং প্রিন্স যাদবের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের সাথে লখনউয়ের পেস বোলিং আক্রমণ বেশ শক্তিশালী, যেখানে অর্জুন এখন তার দক্ষতা প্রমাণের নতুন সুযোগ পেয়েছেন।
আইপিএলে অর্জুন টেন্ডুলকারের আয়ের খতিয়ান
অর্জুন টেন্ডুলকারের আর্থিক পারিশ্রমিকের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, ২০২২ সাল থেকেই তার বেস প্রাইস ছিল ৩০ লক্ষ রুপি। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাকে প্রতিটি মৌসুমের জন্য এই একই পরিমাণ অর্থ প্রদান করত।
- ২০২২-২০২৫: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে থাকাকালীন প্রতি মৌসুমে ৩০ লক্ষ রুপি।
- ২০২৬: লখনউ সুপার জায়ান্টসের সাথে ৩০ লক্ষ রুপির চুক্তি।
সব মিলিয়ে আইপিএল ক্যারিয়ারে অর্জুন টেন্ডুলকারের এখন পর্যন্ত মোট অর্জিত পারিশ্রমিকের পরিমাণ প্রায় ১.৫০ কোটি রুপি। অর্থের অংক যাই হোক, ক্রিকেটের মূল আকর্ষণ হলো মাঠের পারফরম্যান্স। ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপরীতে তার ম্যাচ জেতানো স্পেল আজও অনেকের মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে। সেই ফর্মটিই এখন নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ধরে রাখাটাই তার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে অভিষেক ম্যাচটি অর্জুনের ক্যারিয়ারের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। ক্রিকেটীয় পরিবারের সন্তান হওয়ায় তার ওপর প্রত্যাশার চাপ সব সময় একটু বেশিই থাকে। তবে সেই চাপ পেছনে ফেলে নিজেকে একজন কার্যকর পেসার হিসেবে প্রমাণ করতে তিনি বদ্ধপরিকর। লখনউয়ের কোচিং স্টাফ এবং অধিনায়ক অর্জুনকে দলে নিয়ে তাদের পেস আক্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলতে চাইছেন।
দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরে অর্জুন টেন্ডুলকার কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তার এই নতুন যাত্রা কেবল আইপিএলের মঞ্চেই নয়, বরং ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে আশা করা যায়। ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় আছেন তার বোলিং জাদুতে আবারও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার দৃশ্য দেখার জন্য।
