“He doesn’t have the same juice” – Ambati Rayudu raises concerns over Arshdeep Singh-এর ফর্ম
আইপিএল ২০২৬: আরশদীপের ফর্ম নিয়ে সংশয়
আইপিএল ২০২৬ মরসুমে পাঞ্জাব কিংসের পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা আরশদীপ সিং। তবে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তার পারফরম্যান্স নিয়ে ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটার এবং ছয়বারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন আম্বাতি রাইডু সরাসরি এই বাঁহাতি পেসারের ফর্ম এবং বলের দৈর্ঘ্যের (length) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সম্প্রতি লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ম্যাচে পাঞ্জাব কিংস জয় পেলেও, আরশদীপ ব্যক্তিগতভাবে বেশ ব্যর্থ ছিলেন। তিন ওভারে ৫২ রান খরচ করা এই পেসার কোনো উইকেট পাননি। তার ইকোনমি রেট ছিল ১৭.৩৩, যা এই ফরম্যাটে বেশ উদ্বেগজনক। রাইডুর মতে, আরশদীপ হয়তো দীর্ঘ সময়ের মানসিক এবং শারীরিক ক্লান্তি বয়ে বেড়াচ্ছেন, যা তার বোলিংয়ে প্রভাব ফেলছে।
আম্বাতি রাইডুর পর্যবেক্ষণ
রাইডু মন্তব্য করেছেন, “He doesn’t have the same juice” – Ambati Rayudu raises concerns over Arshdeep S-এর ক্ষেত্রে তার বোলিংয়ের তীব্রতা এবং ক্ষিপ্রতার অভাব স্পষ্ট। রাইডুর কথায়, ‘তার বাউন্সারগুলো এখন আর আগের মতো কার্যকর নয়। সম্ভবত শরীরের ক্লান্তি তাকে তার সেরা ছন্দে বল করতে বাধা দিচ্ছে। তবে তাকে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হবে। যদি তার শরীর সাথ না দেয়, তবে তাকে লেন্থের পরিবর্তনে আরও সতর্ক হতে হবে।’
রাইডু আরও যোগ করেন যে, আরশদীপের শর্ট বল করার প্রবণতা কমানো উচিত। তার মতে, ‘সে এমন কোনো বোলার নয় যে অনবরত শর্ট বল করবে। ডেথ ওভারে তার ইয়র্কার এবং নতুন বলে ফুল লেন্থ ডেলিভারিতে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে দেখা গেছে, যখনই সে ফুল লেন্থে বল করেছে, সে তুলনায় কম রান দিয়েছে।’
পরিসংখ্যান কী বলছে?
চলতি আইপিএল মরসুমে ১৪টি ম্যাচ খেলে আরশদীপ সিং মোট ৫৪১ রান দিয়েছেন, যা এই টুর্নামেন্টের যেকোনো বোলারের চেয়ে বেশি। যদিও তিনি পাঞ্জাব কিংসের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪টি উইকেট নিয়েছেন, তবে তার ১০.২০ ইকোনমি রেট দলের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া লখনউয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি চারটি ওয়াইড বল করেছেন। এবারের আইপিএলে তিনি এখন পর্যন্ত ২৮টি ওয়াইড দিয়েছেন, যা একটি নেতিবাচক রেকর্ডের খুব কাছে।
ক্লান্তির প্রভাব নাকি দক্ষতার ঘাটতি?
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ক্রিকেটার মার্ক বাউচার অবশ্য আরশদীপের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি কোনোভাবেই দক্ষতার অভাব নয়। বাউচারের ভাষায়, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং তারপরেই আইপিএলের ব্যস্ত সূচি খেলোয়াড়দের ক্লান্ত করে তুলেছে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। দীর্ঘ বিরতিহীন ক্রিকেট খেলার ধকলই তার পারফরম্যান্সে দেখা যাচ্ছে।’
ভবিষ্যৎ পথচলা
পাঞ্জাব কিংসের এই পেসারকে আগামী ম্যাচগুলোতে আরও কৌশলী হতে হবে। রাইডু এবং অন্যান্য ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আরশদীপ যদি তার ইয়র্কারগুলো নিখুঁত করতে পারেন এবং শর্ট ডেলিভারি কমিয়ে ফুল লেন্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে পারেন, তবেই তিনি তার পুরনো ছন্দ ফিরে পাবেন। দল হিসেবে পাঞ্জাব কিংস যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে আরশদীপের জ্বলে ওঠা এখন সময়ের দাবি।
ক্রিকেটের এই লড়াইয়ে ফর্ম সাময়িক, কিন্তু ক্লাস চিরস্থায়ী। আরশদীপ সিং কি পারবেন নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করতে? উত্তর মিলবে এবারের আইপিএলের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে।
