“He has been a huge failure in the playoffs” – Ex-India skipper tears into Abhis – IPL 2026: প্লে-অফে ব্যর্থ অভিষেক শর্মা, কড়া সমালোচনা করলেন কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত
প্লে-অফে আবারও ব্যর্থ অভিষেক শর্মা, শ্রীকান্তের তোপ
আইপিএল ২০২৬-এর এলিমিনেটর ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে ৪৭ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। ২৪৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হায়দরাবাদের ব্যাটিং লাইনআপ যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে চলছে জোর চর্চা। বিশেষ করে দলের ওপেনার অভিষেক শর্মার ব্যর্থতা নিয়ে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
প্লে-অফে অভিষেকের করুণ পরিসংখ্যান
ম্যাচ শেষে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শ্রীকান্ত বলেন, ‘অভিষেক শর্মা সবসময় প্লে-অফে ব্যর্থ হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এটি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তথ্য অনুযায়ী, আইপিএলের প্লে-অফ পর্যায়ে অভিষেক শর্মার পারফরম্যান্স খুবই হতাশাজনক। চারটি প্লে-অফ ম্যাচ খেলে তিনি মোট সংগ্রহ করেছেন মাত্র ১৭ রান, যার গড় মাত্র ৪.২৫। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে, বড় মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
জোফ্রা আর্চারের তোপে দিশেহারা হায়দরাবাদ
নতুন চণ্ডীগড় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই এলিমিনেটর ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের পেসার জোফ্রা আর্চার ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। অভিষেক শর্মাকে মাত্র দুই বলে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়ে তিনি হায়দরাবাদ শিবিরে বড় ধাক্কা দেন। এরপর ট্র্যাভিস হেড এবং ইশান কিষানকেও সাজঘরে ফিরিয়ে আর্চার নিশ্চিত করেন যে হায়দরাবাদ আর ম্যাচে ফিরতে পারবে না। প্রথম পাঁচ ওভারেই হায়দরাবাদ তাদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে ফেলে, যা তাদের পরাজয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়।
হায়দরাবাদের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন
শ্রীকান্ত শুধু অভিষেককেই নয়, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের টিম ম্যানেজমেন্টের রণকৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অবাক হয়েছেন যে কেন হেনরিক ক্লাসেনের আগে স্মরণকে ব্যাট করতে পাঠানো হয়েছিল। শ্রীকান্তের ভাষায়, ‘আমি বুঝতে পারছি না তারা ঠিক কী পরিকল্পনা করেছিল। ক্লাসেন কি আর্চারের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছিলেন, নাকি তারা আর্চারের স্পেল শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন? কোনো কিছুই স্পষ্ট নয়।’
ট্র্যাভিস হেডের ব্যাটিং নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রীকান্ত। তিনি জানান, ‘ট্র্যাভিস হেড অন্ধের মতো ব্যাট চালিয়েছেন। আমার সময়ে আমিও অনেক সময় সপাটে ব্যাট চালাতাম, কিন্তু হেড যেভাবে ইনটিমিডেটেড বা ভীত হয়ে বলের লাইন না বুঝে ব্যাট চালিয়েছেন, তা আগে কখনো দেখিনি। যদি হেড একটু দায়িত্ব নিয়ে খেলতেন এবং ইশান কিষান দ্রুত আউট না হতেন, তবে হায়দরাবাদ অন্তত লড়াইটা করতে পারত।’
পরাজয়ের দায় কার?
ইশান কিষান শুরুতে হায়দরাবাদকে আশার আলো দেখালেও, তার আউটের পর পুরো দল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ক্লাসেনও ক্রিজে এসে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। শ্রীকান্তের মতে, হায়দরাবাদ কোনো লড়াই ছাড়াই পরাজয় মেনে নিয়েছে। এটি দলের মানসিক প্রস্তুতির অভাবকে ইঙ্গিত করে।
উপসংহার
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মতো একটি শক্তিশালী দল কেন নকআউট ম্যাচে এভাবে আত্মসমর্পণ করল, তা নিয়ে আগামী দিনে আরও বিশ্লেষণ হবে। তবে সমর্থকদের জন্য এটি ছিল একরাশ হতাশার রাত। অভিষেক শর্মার মতো তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখা হলেও, চাপের মুখে তাদের পারফরম্যান্স দলকে বারবার ডোবাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী মরশুমের আগে হায়দরাবাদ তাদের ব্যাটিং লাইনআপ এবং কৌশলে কতটা পরিবর্তন আনে। আইপিএলের এই ধরণটি প্রমাণ করে যে, কেবল আগ্রাসী ব্যাটিং দিয়েই বড় ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রাখার ধৈর্য।
