Cricket News

রঞ্জি ট্রফিতে ৬০ উইকেট নিয়েও উপেক্ষিত আকিব নবি: নির্বাচকদের তীব্র ভর্ৎসনা বেঙ্গসরকারের

Hassan Raza · · 1 min read
Share

রঞ্জি ট্রফির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বেঙ্গসরকার

ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর রঞ্জি ট্রফি। এই টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই সাধারণত জাতীয় দলে খেলোয়াড়দের ডাকা হয়। কিন্তু সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের পেসার আকিব নবির ক্ষেত্রে যে ঘটনা ঘটল, তা ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন একমাত্র টেস্টের জন্য ঘোষিত দলে নবিকে রাখা হয়নি, যা মেনে নিতে পারছেন না প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক দিলীপ বেঙ্গসরকার।

আকিব নবিকে দলে না রাখার সিদ্ধান্তকে বেঙ্গসরকার ‘হাস্যকর’ এবং ‘অন্যায্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, একজন খেলোয়াড় যখন ঘরোয়া মরসুমে এত ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেন, তখন তাঁকে উপেক্ষা করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।

আকিব নবির অভাবনীয় সাফল্য

২০২৫-২৬ রঞ্জি মরসুমে আকিব নবি বল হাতে কার্যত বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন। ১০টি ম্যাচ খেলে তিনি মোট ৬০টি উইকেট শিকার করেছেন। বল হাতে তাঁর গড় ছিল মাত্র ১২.৫৬। জম্মু ও কাশ্মীরকে রঞ্জি ট্রফির শিরোপা জেতানোর পেছনে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। এই পারফরম্যান্সের জন্য তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:

  • কার্নাটাকের বিরুদ্ধে ফাইনালে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট।
  • বাংলার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ১২৩ রানে ৯ উইকেট।
  • মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে ১১০ রানে ১২ উইকেট।

পুরো মরসুমে নবি সাতবার পাঁচ উইকেট এবং দুইবার চার উইকেট নেওয়ার নজির স্থাপন করেছেন। এত দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সত্ত্বেও জাতীয় দলে জায়গা না পাওয়াটা সত্যিই বিস্ময়কর।

নির্বাচকদের সমালোচনায় প্রাক্তনরা

দিলীপ বেঙ্গসরকারের মতো ব্যক্তিত্বরা মনে করছেন, নির্বাচক কমিটির সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙে দিতে পারে। বেঙ্গসরকার টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্ত একেবারেই অযৌক্তিক। একজন খেলোয়াড় ৬০ উইকেট নেওয়ার পরও কেন দলে জায়গা পাবেন না? এটি তো সরাসরি অন্যায়।’

বেঙ্গসরকার আরও যোগ করেন, ‘একজন বোলারকে তাঁর উইকেট নেওয়ার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বেছে নেওয়া হয়। সে ১৩০ কিমি গতিতে বল করতে পারে, কিন্তু দিনের শেষে উইকেট তো সেই দিচ্ছে। এই ছেলেটি ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে, এটাই বড় কথা।’

অন্যান্য প্রাক্তনীরাও বেঙ্গসরকারের সুরেই কথা বলেছেন। প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান টুইট করে লিখেছেন, ‘রঞ্জি ট্রফির পারফরম্যান্সকে ছোট করবেন না।’ মুম্বইয়ের প্রাক্তন অধিনায়ক শিশির হট্টানগাডি জানিয়েছেন, যদি রঞ্জি ট্রফিই মানদণ্ড হয়, তবে সেই পারফরম্যান্সকে সম্মান জানানো উচিত।

বিসিসিআই কি ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ করে দেবে?

বেঙ্গসরকার আরও গভীরে গিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, যদি ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সের মূল্য না থাকে, তবে বিসিসিআইয়ের উচিত রঞ্জি ট্রফি আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া। জসপ্রীত বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়ায় এটি ছিল নবিকে দলে নেওয়ার সেরা সুযোগ। কিন্তু নির্বাচকরা পাঞ্জাবের গুরনুর ব্রারকে বেছে নেওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকর জানিয়েছেন, নবির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে বোর্ডের ভেতরের একটি মহলের মতে, শুধুমাত্র পরিসংখ্যান দেখে খেলোয়াড় নির্বাচন করা সঠিক নয়। গুরনুর ব্রারের ইন্ডিয়া এ এবং বিজয় হাজারে ট্রফির পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, রঞ্জি ট্রফিতে স্বপ্নের ফর্মে থাকা একজন বোলারকে উপেক্ষা করে জাতীয় দল গঠনের প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ? এই বিতর্ক হয়তো আরও কিছুদিন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।