সিলেট টেস্ট: বাংলাদেশের প্রাথমিক ধাক্কা সামলে পাল্টা আক্রমণ শান মাসুদ ও বাবর আজমের
সিলেট টেস্ট: বাংলাদেশের দাপটের মুখে লড়ছে পাকিস্তান
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—উভয় দলই জয়ের লক্ষ্যে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করেছে। দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের মতো হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শান মাসুদ ও বাবর আজম নিজেদের ব্যাটিং দক্ষতায় ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০১ রান। জয়ের জন্য তাদের সামনে লক্ষ্য পাহাড়সম, তবে এই জুটি নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
বাংলাদেশের দুর্দান্ত শুরু
চতুর্থ দিনের সকালে বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য ছিল দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া। দলের বোলাররা সেই পরিকল্পনায় সফলও হয়েছিলেন। আবদুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইস শুরুতেই প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও, বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে রান করা ছিল বেশ কঠিন। প্রথম সাফল্যটি আসে নাহিদ রানার হাত ধরে। তার একটি শর্ট বল ফজল গালির দিকে ঠেলে দিতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন, যা ফিল্ডার দারুণ দক্ষতায় লুফে নেন।
তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার আগেই বাংলাদেশ দ্বিতীয় আঘাতটি হানে। অভিজ্ঞ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের বলে আউট হন আজান আওয়াইস। মিরাজের সোজা হয়ে আসা ডেলিভারি আওয়াইসের সামনের পায়ে আঘাত করলে আম্পায়ার আঙুল তুলে দেন। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি পাকিস্তানের এই ওপেনারের। মাত্র ৪১ রানেই পাকিস্তান ২ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল।
মাসুদ ও বাবরের পাল্টা আক্রমণ
দুই উইকেট হারানোর পর মনে হয়েছিল পাকিস্তান বুঝি দ্রুতই গুটিয়ে যাবে, কিন্তু শান মাসুদ ও বাবর আজম ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে ক্রিজে নামেন। তারা রক্ষণাত্মক না হয়ে বরং আক্রমণাত্মক খেলার পথ বেছে নেন। বাবর আজম ক্রিজে এসেই প্রথম বলে স্লিপের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি মেরে নিজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দেন। অন্যদিকে, শান মাসুদ তাসকিন আহমেদের ওপর চড়াও হন এবং তিনটি চমৎকার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেন।
নতুন জুটি, নতুন আশা
মেহেদী হাসান মিরাজ দুর্দান্ত বোলিং করলেও মাসুদ ও বাবর তাদের পায়ের কাজের মাধ্যমে গ্যাপ খুঁজে নিতে সক্ষম হন। বিশেষ করে কভার অঞ্চলে তারা বেশ কিছু বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। বাবর আজম যখন তাইজুল ইসলামের বলে ব্যাকফুটে গিয়ে বাউন্ডারি মারলেন, তখনই এই জুটির অর্ধশত রান পূর্ণ হয়। শেষ ছয় ওভারে তারা ৪৬ রান তুলে স্কোরবোর্ডকে সচল রেখেছেন।
যদিও পাকিস্তান ১০০ রানের কোটা পার করেছে এবং এই জুটি ইতিবাচক ক্রিকেট খেলছে, তবুও জয় পাওয়া তাদের জন্য পাহাড় সমান চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের বোলাররা এখনও ম্যাচের নিয়ন্ত্রক হিসেবেই মাঠে থাকছেন। তবে টেস্ট ক্রিকেটে শেষ সেশন পর্যন্ত কী ঘটে, তা বলা মুশকিল। পাকিস্তান যদি এই ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত লড়াইটা জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ম্যাচের বর্তমান চিত্র
- পাকিস্তান: ২ উইকেটে ১০১ রান (শান মাসুদ ৪১*, বাবর আজম ২৪*)।
- লক্ষ্য: বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তান এখনও ৩৩৬ রানে পিছিয়ে।
- বোলিং: নাহিদ রানা ১-১৬ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ১-২৫।
পরবর্তী সেশনে বাংলাদেশের বোলাররা এই জুটি ভাঙতে মরিয়া হয়ে উঠবেন, অন্যদিকে মাসুদ ও বাবরের ওপর দায়িত্ব থাকবে কত দ্রুত তারা রান রেট বাড়িয়ে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন। সিলেটের পিচে বলের চরিত্র অনুযায়ী এই টেস্টের ফলাফল কোন দিকে যাবে, তা এখন দেখার বিষয়।
