আইপিএলে খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোড: বিসিসিআই-এর সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন দেবজিৎ সাইকিয়া
আইপিএলে খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোড নিয়ে বিসিসিআই-এর অবস্থান
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) চলাকালীন খেলোয়াড়দের বোলিং ওয়ার্কলোড বা কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। সম্প্রতি বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এই বিষয়ে বোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বর্তমানে বেশ কয়েকজন জাতীয় দলের বোলার চোট নিয়ে খেলছেন বলে যে বিতর্ক চলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য এসেছে।
বরুণ চক্রবর্তী ও অন্যান্যদের চোটের উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর চোটের বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জানা গেছে, ৩ মে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ম্যাচের সময় বরুণ তার বাম পায়ের আঙুলে হাড়ের ফাটল (হেয়ারলাইন ফ্র্যাকচার) পান। সেই ম্যাচে তিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেলেও, চোট নিয়েই তাকে বেশ কিছু ম্যাচ খেলতে হয়েছে। ১৩ মে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচটি তিনি মিস করেন এবং এরপর থেকে তাকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা গেছে।
একইভাবে, পাঞ্জাব কিংসের হেড অফ স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড্রু লিপাস জানিয়েছেন যে, আরশদীপ সিং শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার স্বাভাবিক ছন্দে বোলিং করতে পারছেন না। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনেও এর আগে জানিয়েছিলেন যে, জাসপ্রীত বুমরাহ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় থেকেই ছোটখাটো চোটে ভুগছেন, যার প্রভাব তার আইপিএল পারফরম্যান্সেও পড়েছে।
বিসিসিআই কেন হস্তক্ষেপ করছে না?
একটি সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন যে, আইপিএল চলাকালীন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা বোর্ডের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘আইপিএলে খেলোয়াড়দের কাজের চাপ বা ফিটনেস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমরা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’
সাইকিয়া আরও ব্যাখ্যা করেন যে, যদিও সেন্টার অফ এক্সিলেন্স (CoE) কেন্দ্রীয়ভাবে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের ফিটনেস পর্যবেক্ষণ করে, কিন্তু আইপিএল চলাকালীন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোই খেলোয়াড়দের দেখভালের দায়িত্বে থাকে। বোর্ডে নজরদারি থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজিদের স্বাধীনতা খর্ব করার সুযোগ নেই।
জাতীয় দলে নির্বাচনের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে স্বাধীনতা দিলেও, বিসিসিআই সচিব আশ্বস্ত করেছেন যে জাতীয় দলের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফিটনেস নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। সাইকিয়ার মতে, ‘আমরা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে খেলোয়াড়দের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছি। তবে যখন জাতীয় দলে নির্বাচনের প্রশ্ন আসে, তখন ফিটনেসই আমাদের প্রধান মানদণ্ড।’
সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের দল ঘোষণার সময় এই কঠোরতা পরিলক্ষিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:
- রবীন্দ্র জাদেজা আইপিএল ২০২৬-এ বেশ কিছু ম্যাচ মিস করেছেন, যার ফলে তাকে এই সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
- মোহাম্মদ শামিকেও দলে নেওয়া হয়নি, কারণ নির্বাচকদের ধারণা ছিল না যে তিনি দিনে চার ওভারের বেশি বোলিং করার মতো অবস্থায় আছেন।
- রোহিত শর্মা এবং হার্দিক পান্ডিয়া আইপিএলে চোটের সঙ্গে লড়াই করলেও, তাদের ওয়ানডে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে তবে তা ফিটনেস ছাড়পত্রের সাপেক্ষে।
পরিশেষে, বিসিসিআইয়ের এই দ্বিমুখী নীতি—ফ্র্যাঞ্চাইজি পর্যায়ে কিছুটা নমনীয়তা এবং জাতীয় দলের ক্ষেত্রে কঠোরতা—আসন্ন ক্রিকেট ক্যালেন্ডার এবং খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদী ফিটনেস নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আইপিএলের উন্মাদনার মাঝেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল ফিটনেস স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখাই এখন বোর্ডের বড় চ্যালেঞ্জ।
