আইপিএলে বিহারের নিজস্ব দল? বৈভব সূর্যবংশী ও ঈশান কিষাণকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন অনিল আগরওয়াল
আইপিএলে কি আসছে বিহারের নতুন দল?
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মঞ্চে বিহারের নিজস্ব একটি দল থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি জোরালো দাবি উঠেছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপতি অনিল আগরওয়াল সরাসরি আইপিএল কর্তৃপক্ষের কাছে বিহারের জন্য একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দাবি করেছেন। তাঁর মতে, বিহারের মাটি থেকে উঠে আসা বৈভব সূর্যবংশী এবং ঈশান কিষাণের মতো তারকারা প্রমাণ করেছেন যে, বিহারে প্রতিভার অভাব নেই।
প্রতিভার খনি বিহার
আইপিএল ২০২৬ মরসুমে বিহারের দুই ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী এবং ঈশান কিষাণ ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন। ১৫ বছর বয়সী বৈভব যেভাবে জাসপ্রীত বুমরাহ, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কের মতো বিশ্বমানের বোলারদের শাসন করেছেন, তা ক্রিকেট বিশ্বে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক হিসেবে ঈশান কিষাণের পারফরম্যান্সও ছিল নজরকাড়া। এই দুই ক্রিকেটার প্রমাণ করেছেন যে, বিহারের ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি কতটা আগ্রাসী এবং প্রভাবশালী হতে পারে।
প্রসংগত, কিংবদন্তি অধিনায়ক এমএস ধোনিও বিহারের মাটি থেকে উঠে আসা এক রত্ন। যদিও তিনি ঝাড়খণ্ডের হয়ে খেলেছেন, তবে তাঁর জন্মের সময় ঝাড়খণ্ড বিহারের অংশ ছিল। এটি বিহারের ক্রিকেটীয় ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অনিল আগরওয়ালের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা
বেদান্ত রিসোর্সেস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা অনিল আগরওয়াল, যিনি নিজেও পাটনায় জন্মগ্রহণ করেছেন, সম্প্রতি তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে বিহারের ক্রিকেট সম্ভাবনা নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমাদের কি মনে হয় না বিহারের নিজস্ব একটি শক্তিশালী দল থাকা উচিত? যেমনটা চেন্নাই সুপার কিংস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বা কলকাতা নাইট রাইডার্সের রয়েছে?”
তিনি আরও যোগ করেন, “ঈশান কিষাণ ওডিআই ক্রিকেটে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির মালিক। বৈভব সূর্যবংশী সর্বকনিষ্ঠ আইপিএল অভিষেককারী। গোপালগঞ্জের সাকিব হোসেনের মতো বোলাররাও আজ বিশ্ব ক্রিকেটের নজরে। এই প্রতিভাদের সঠিক মূল্যায়নের জন্য বিহারের নিজস্ব আইপিএল দল থাকা প্রয়োজন।”
আইপিএলে মালিকানার নতুন ধারা
সাম্প্রতিক সময়ে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কেনাবেচায় ভারতীয় ধনকুবেরদের আগ্রহ তুঙ্গে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু এবং রাজস্থান রয়্যালসের মতো বড় দলগুলো বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে হাতবদল হয়েছে। আদিত্য বিড়লা গ্রুপ কিংবা লক্ষ্মী মিত্তালের পরিবারের মতো বড় ব্যবসায়ীরা আইপিএলে বিনিয়োগ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে, বিসিসিআই যদি ভবিষ্যতে আইপিএলের পরিধি বাড়ায়, তবে অনিল আগরওয়ালের মতো শিল্পপতিরা বিহারের ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক হিসেবে সামনে আসতেই পারেন।
উপসংহার
বিহারের জন্য একটি আইপিএল দল কেবল ক্রিকেটের উন্নতির জন্য নয়, বরং রাজ্যের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের উৎসাহিত করার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। বৈভব সূর্যবংশী ও ঈশান কিষাণের মতো তারকারা যদি একই জার্সি পরে মাঠে নামেন, তবে তা বিহারের ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। এখন দেখার বিষয়, বিসিসিআই এবং আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল এই দাবিকে কতটা গুরুত্ব দেয়।
আইপিএলের আগামী মরসুমগুলোতে বিহারের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বড় কোনো সুখবর অপেক্ষা করছে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বর্তমান ক্রিকেটারদের সাফল্য যে বিহারের ক্রিকেটীয় স্বপ্নকে নতুন ডানা দিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
