রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের ধীরগতির ব্যাটিং নিয়ে মুখ খুললেন স্টিফেন ফ্লেমিং
চিপকে রুতুরাজের মন্থর ব্যাটিং ও বিতর্কের ঝড়
আইপিএল ২০২৬-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যখন চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) নিজেদের ঘরের মাঠে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের (SRH) মুখোমুখি হয়, তখন সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু সিএসকে অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের ব্যাট এদিন ছিল একেবারেই নিষ্প্রভ। ক্রিজে তার অসহায় আত্মসমর্পণ এবং মন্থর ব্যাটিং দলের রানের গতিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে।
স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের ব্যাখ্যা
ম্যাচ শেষে যখন চারিদিকে রুতুরাজের সমালোচনা তুঙ্গে, তখন সিএসকে প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। ফ্লেমিং মনে করেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও এমন একজনকে প্রয়োজন যিনি ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে পারেন। তিনি বলেন, এটি হয়তো সেকেলে মনে হতে পারে, কিন্তু রুতুরাজের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ওপর দলের আস্থা রয়েছে। ফ্লেমিংয়ের দাবি, পরিস্থিতি বুঝে খেলার দক্ষতা রুতুরাজের আছে এবং দল তার সেই বিচক্ষণতার ওপর ভরসা রাখতে চায়।
পরিসংখ্যান কি বলছে?
রুতুরাজের পরিসংখ্যান এদিন কোনোভাবেই তার পক্ষ নেয়নি। ২১ বল মোকাবিলা করে মাত্র ১৫ রান সংগ্রহ করেন তিনি, যেখানে কোনো বাউন্ডারি ছিল না। তার স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৭১.৪৩, যা এবারের আইপিএলে ২০ বল খেলা ইনিংসের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ওপেনার হিসেবে এমন মন্থর ব্যাটিং দলের মিডল অর্ডারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। আইপিএল ২০২৬-এর ১৩টি ম্যাচে রুতুরাজ এখন পর্যন্ত মাত্র ৩২১ রান করেছেন, যার গড় ২৯.১৮ এবং স্ট্রাইক রেট ১২০.৬৭। এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা সিএসকের পয়েন্ট টেবিলে অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সিএসকের বর্তমান পরিস্থিতি
টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে প্রতিটি ম্যাচ সিএসকের জন্য ‘ডু অর ডাই’ বা বাঁচা-মরার লড়াই। ১২টি ম্যাচ শেষে ৬টি জয় এবং ৬টি পরাজয় নিয়ে সিএসকে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে প্রতিটি বিভাগেই তাদের সেরা পারফরম্যান্স প্রয়োজন। তবে রুতুরাজের মতো একজন টপ-অর্ডার ব্যাটার যখন ক্রিজে ছন্দ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন, তখন দলের জন্য বড় লক্ষ্যমাত্রা সেট করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
প্যাট কামিন্সের দাপট
অন্যদিকে, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বোলাররা চিপকের পিচকে দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন। প্যাট কামিন্স এদিন দুর্দান্ত বোলিং করে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং এসআরএইচ বোলারদের স্লোয়ার ও কাটারের সামনে সিএসকে ব্যাটাররা খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি। সঞ্জু স্যামসনের দ্রুত বিদায়ের পর দলের হাল ধরার প্রয়োজন ছিল, যা রুতুরাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কার্তিক শর্মা কিছুটা লড়াই করলেও, রুতুরাজের অতিরিক্ত বল নষ্ট করার প্রবণতা ইনিংসের গতিকে স্থবির করে দেয়।
উপসংহার
কোচ ফ্লেমিং যতই রুতুরাজের পাশে দাঁড়ান না কেন, আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই ধরনের মন্থর ব্যাটিং সমর্থকদের হতাশ করছে। সিএসকে তাদের ঐতিহ্যবাহী গেম প্ল্যান ধরে রাখতে চাইলেও, দ্রুত রান তোলার চাপে তাদের ব্যাটিং অর্ডার বারবার ভেঙে পড়ছে। এখন দেখার বিষয়, সামনের ম্যাচগুলোতে রুতুরাজ নিজের ফর্ম খুঁজে পান কি না এবং সিএসকে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করতে পারে কি না।
