ধ্রুব জুরেলের অসাধারণ প্রতিভার প্রশংসা আম্বাতি রায়ডু ও সাবা করিমের
লখনউয়ের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয় ও ধ্রুব জুরেলের ম্যাচ জেতানো ইনিংস
আইপিএলের মঞ্চে আরও একটি রোমাঞ্চকর রান তাড়ার সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব। লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG) দেওয়া ২২১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালস (RR) যেভাবে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আর এই জয়ের নেপথ্যে অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন উইকেটকিপার-ব্যাটার ধ্রুব জুরেল। ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৩ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। জুরেলের এই পরিণত ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার আম্বাতি রায়ডু। তিনি জুরেলের মধ্যে এক ‘অসাধারণ সম্ভাবনা’ দেখতে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
চলতি আইপিএল মরসুমে ধ্রুব জুরেলের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স
ধ্রুব জুরেল চলতি আইপিএল মরসুমে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। এখন পর্যন্ত খেলা ১৩টি ইনিংসে তিনি ১৫০.০০ স্ট্রাইক রেটে ৪২০ রান সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি দুর্দান্ত অর্ধশতরান। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে এই মরসুমে রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তাঁর ওপরে কেবল রয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী, যিনি ৫৭৯ রান করেছেন। জুরেলের এই ধারাবাহিকতা এবং দলের প্রয়োজনে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা তাঁকে রাজস্থান শিবিরের অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত করেছে।
‘এখনও চার থেকে পাঁচ ধাপ উন্নত হওয়া বাকি’ – আম্বাতি রায়ডু
ইএসপিএনক্রিকইনফো টাইম আউট (ESPNcricinfo Time Out) অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে আম্বাতি রায়ডু ধ্রুব জুরেলের ব্যাটিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। রায়ডু মনে করেন, জুরেলের ব্যাটিংয়ে এখনও অনেক কিছু দেওয়ার বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ওর ব্যাটিংয়ে এখনও অন্তত চার বা পাঁচ ধাপ উন্মোচন হওয়া বাকি আছে। ও এমন একজন ক্রিকেটার যার মধ্যে আমি অসাধারণ সম্ভাবনা দেখতে পাই। ওর ব্যাটিং অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন এবং ওর টেকনিক খুবই চমৎকার।’
রায়ডু আরও যোগ করেন যে, জুরেলকে কেবল তাঁর ব্যাটের সুইং কিছুটা স্বাধীন করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে ও অফ-সিজনে বা যখনই সময় পাবে, কোচদের সাথে কাজ করবে এবং বর্তমানের চেয়ে আরও দুর্দান্ত একজন বল স্ট্রাইকার হয়ে উঠবে। তবে ওর খেলার মানসিকতা বা টেম্পারমেন্ট এককথায় বিশ্বমানের। গতির বিরুদ্ধে ও অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে খেলে।’
জুরেলের ব্যাটিংয়ের বহুমুখী গুণাবলীর কথা উল্লেখ করে রায়ডু বলেন, ‘ওর খেলায় অনেক ভালো দিক রয়েছে—সে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে পারে, স্পিন খুব ভালো খেলে, বলের লেংথ দারুণভাবে পড়তে পারে এবং উইকেটের মাঝে ওর দৌড়ানোর গতিও অসাধারণ। আমার মনে হয় ও একটি সম্পূর্ণ প্যাকেজ, যাকে কেবল সঠিকভাবে উন্মোচন করা এবং সম্ভবত আরও কিছুটা প্রশিক্ষিত করার প্রয়োজন রয়েছে।’
রান তাড়া করা বনাম প্রথমে ব্যাটিং: সাবা করিমের বিশ্লেষণ
রায়ডুর সহ-আলোচক এবং ভারতের সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটার সাবা করিমও ধ্রুব জুরেলের প্রশংসা করেছেন। তবে প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি জুরেলের ব্যাটিংয়ের একটি বিশেষ দিক নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী মতামত দিয়েছেন। করিমের মতে, রান তাড়া করার সময় জুরেল যতটা পরিণত, প্রথমে ব্যাটিং করার সময় তাঁর পারফরম্যান্স আরও কিছুটা উন্নত করার জায়গা রয়েছে।
চলতি মরসুমে পরিসংখ্যানও করিমের এই দাবির পক্ষে কথা বলছে। রান তাড়া করার সময় জুরেলের স্ট্রাইক রেট যেখানে ১৫৭.৩৭, সেখানে প্রথমে ব্যাটিং করার সময় তা নেমে দাঁড়ায় ১৪৪.৩০-এ। এই প্রসঙ্গে সাবা করিম বলেন, ‘আমার মনে হয় ওর ব্যাটিংয়ের দুটি ভিন্ন পর্যায় রয়েছে। একটি হলো যখন ও প্রথমে ব্যাটিং করে এবং অন্যটি যখন ও রান তাড়া করে। যখন ও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করে, তখন মনে হয় ও পরিস্থিতির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। ওর ম্যাচ সচেতনতা এবং খেলাটিকে একদম শেষ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা সত্যিই এক বিশেষ গুণ।’
প্রথম ১০ বলে আক্রমণাত্মক হওয়ার পরামর্শ
প্রথমে ব্যাটিং করার সময় জুরেলকে আরও বেশি স্বাধীনভাবে খেলার পরামর্শ দিয়েছেন সাবা করিম। তিনি বলেন, ‘কিন্তু যখন ও প্রথমে ব্যাটিং করে—এবং আমি এই পরিসংখ্যানগুলো দেখতে পছন্দ করি—প্রথম থেকে দশ বলের মধ্যে ওর স্ট্রাইক রেট কিছুটা কম থাকে। ঠিক এই জায়গাতেই আমি চাই ও নিজেকে মেলে ধরুক, নিজের প্রতিভা ও দক্ষতার ওপর আস্থা রাখুক এবং প্রথম দশটি বলের মধ্যেই বড় শট খেলে নিজের ইনিংসের গতি বাড়াক। আমি মনে করি এটি ওর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং স্ট্রাইক রেট দ্রুত করতে সাহায্য করবে।’
ভবিষ্যতের তারকা ধ্রুব জুরেল
ধ্রুব জুরেলের মতো তরুণ ক্রিকেটারের এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স কেবল রাজস্থান রয়্যালসকেই সমৃদ্ধ করছে না, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকেও উজ্জ্বল করছে। রায়ডু এবং করিমের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেট ব্যক্তিত্বদের এই বিশ্লেষণ জুরেলকে তাঁর ভুলত্রুটি শুধরে আরও একজন পরিপক্ক ব্যাটার হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে। চাপের মুখে যেভাবে তিনি লখনউয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচটি শেষ করে মাঠ ছেড়েছেন, তা তাঁর মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেয়। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, আগামী ম্যাচগুলোতেও জুরেল তাঁর এই ফর্ম বজায় রাখবেন এবং রাজস্থান রয়্যালসকে আরও বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
