সাউথ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ইংল্যান্ড লায়ন্সের দুর্দান্ত লড়াই: আশা ট্রাইবের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ালো ইংল্যান্ড
আশা ট্রাইবের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ালো ইংল্যান্ড লায়ন্স
অ্যারুনডেলের গরম আবহে সাউথ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সাহসিকতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিলেন আশা ট্রাইব। তার অবিচল ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসের বিশাল ঘাটতি পুষিয়ে বর্তমানে ৩৯ রানের লিড নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড লায়ন্স।
মার্কাস অ্যাকারম্যানের রাজকীয় ব্যাটিং
ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সাউথ আফ্রিকা ‘এ’ দলের অধিনায়ক মার্কাস অ্যাকারম্যান ইংলিশ বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন। তার ১৭৩ রানের এক বিশাল ইনিংস সফরকারীদের ৩৩১ রানে পৌঁছে দেয়। অ্যাকারম্যানের ব্যাটিং ছিল বৈচিত্র্যময় এবং আক্রমণাত্মক, যা ইংলিশ বোলারদের জন্য ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ১৪তম সেঞ্চুরি। ডেন প্যাটারসনের সাথে নবম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে তিনি সাউথ আফ্রিকাকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থেকে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে এই স্তরের একজন অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আশা ট্রাইবের লড়াই
প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড লায়ন্স মাত্র ১৫৭ রানে অলআউট হওয়ার পর ১৭৪ রানের বিশাল লিড নিয়েছিল সাউথ আফ্রিকা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে যখন জয় প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল, তখনই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন আশা ট্রাইব। জার্সি থেকে উঠে আসা এই ব্যাটার ১৭৮ বল মোকাবিলা করে প্রায় তিন ঘণ্টা ক্রিজে টিকে থেকে অপরাজিত ৮৮ রান সংগ্রহ করেন। তার এই ইনিংসটি কেবল ধৈর্যই নয়, বরং চাপের মুখে টিকে থাকার সক্ষমতারও স্বাক্ষর বহন করে।
অ্যারুনডেলের উইকেটে ব্যাটারদের জয়জয়কার
প্রথম দিনে ১৭ উইকেট পড়লেও দ্বিতীয় দিনে পিচ অনেকটাই ব্যাটিং-বান্ধব হয়ে ওঠে। পেস বোলারদের জন্য বলের গতি ও বাউন্স কমে যাওয়ায় ব্যাটাররা স্বস্তিতে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছেন। আশা ট্রাইব এই সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করেছেন। তিনি এবং তরুণ বেন মেস (অপরাজিত ৩৫) অষ্টম উইকেটে ৮০ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। দিনের শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড লায়ন্স ৪ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।
ভবিষ্যতের বড় তারকা আশা ট্রাইব
গত মৌসুমে পাঁচ ম্যাচে চারটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ইংলিশ ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছিলেন ট্রাইব। যদিও এমিলিও গে এবং জেমস রিউয়ের কাছে জাতীয় দলে সুযোগের দৌড়ে তিনি পিছিয়ে পড়েছিলেন, তবুও তাকে ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ তারকা মনে করছেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। সাউথ আফ্রিকার বোলারদের বিরুদ্ধে তার এই লড়াই আবারও প্রমাণ করে যে তিনি উচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে খেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফল
- ইংল্যান্ড লায়ন্স: ১৫৭ ও ২১৩/৪ (আশা ট্রাইব ৮৮*)
- সাউথ আফ্রিকা ‘এ’: ৩৩১ (মার্কাস অ্যাকারম্যান ১৭৩)
ইংল্যান্ড লায়ন্স বর্তমানে ৩৯ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিনে মাঠে নামবে। হাতে ছয়টি উইকেট থাকায় জয়ের স্বপ্ন দেখছে সফরকারীরা। অ্যারুনডেলের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব।
