হার্দিক পান্ডিয়ার ওডিআই ভবিষ্যৎ কি সংকটে? বিসিসিআইয়ের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন
হার্দিক পান্ডিয়ার ওডিআই ভবিষ্যৎ নিয়ে বিসিসিআইয়ের গভীর উদ্বেগ
ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার ওডিআই ভবিষ্যৎ বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) তার ফিটনেস নিয়ে কেবল চিন্তিতই নয়, বরং ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে বিকল্প অলরাউন্ডারদের প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে। বিশেষ করে ওডিআই ফরম্যাটে হার্দিক ১০ ওভার বল করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নির্বাচকদের মধ্যে গুরুতর সংশয় তৈরি হয়েছে।
নির্বাচকদের বৈঠকে হার্দিকের ফিটনেস প্রসঙ্গ
সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের দল নির্বাচনের সময় হার্দিকের ফিটনেস ইস্যুটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। যদিও তাকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে, তবে তা শর্তসাপেক্ষ। বিসিসিআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই কেবল হার্দিক দলে জায়গা পাবেন। একই রকম কড়াকড়ি নিয়ম প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়েছে। নির্বাচকদের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে মূল কারণ হলো আইপিএল ২০২৬ চলাকালীন হার্দিকের পিঠের সমস্যা (back spasms), যার কারণে তিনি বেশ কয়েকটি ম্যাচ মিস করেছিলেন।
বিসিসিআই কেন বিরক্ত?
একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে, আইপিএলে পিঠের ব্যথার কথা জানানোর পর হার্দিক কেন বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে (CoE) রিপোর্ট করেননি, তা নিয়ে বোর্ডের অন্দরমহলে অসন্তোষ রয়েছে। ২ মে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে খেলার পর থেকে ১৯ মে পর্যন্ত আইপিএলে কোনো ম্যাচ না খেলা হার্দিকের ফিটনেস নিয়ে নির্বাচকদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হার্দিক মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেললেও তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন বোর্ড কর্মকর্তারা।
চোটের ইতিহাস ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
হার্দিক পান্ডিয়ার ক্যারিয়ার দীর্ঘ সময় ধরেই চোটের সাথে লড়াইয়ের গল্প। ২০১৯ সাল থেকে বারবার অস্ত্রোপচার এবং পিঠের সমস্যার কারণে তার টেস্ট ক্যারিয়ার কার্যত থমকে গেছে। ২০১৮ সালের পর থেকে তিনি আর কোনো আন্তর্জাতিক কিংবা ঘরোয়া টেস্ট ক্রিকেট খেলেননি। শুধু টেস্ট নয়, ওডিআই ফরম্যাটেও তার বোলিং ফিটনেস নিয়মিত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিসিসিআইয়ের মেডিক্যাল টিম তাকে ১০ ওভার বল করার জন্য ছাড়পত্র দিতে দ্বিধাবোধ করছে, যা টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটাচ্ছে।
বিকল্প অলরাউন্ডারদের দিকে নজর
হার্দিকের অনিশ্চিত ফিটনেসের প্রেক্ষিতে বিসিসিআই এখন তরুণ প্রতিভাবান অলরাউন্ডারদের ওপর বাজি ধরছে। ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বড় সাফল্য পেতে বোর্ড নীতিশ কুমার রেড্ডি এবং হর্ষিত রানার মতো খেলোয়াড়দের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। এই তরুণ অলরাউন্ডাররা হার্দিকের শূন্যস্থান পূরণ করতে সক্ষম কি না, তা দেখার অপেক্ষায় ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তরা।
উপসংহার
হার্দিক পান্ডিয়া ভারতীয় দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও, পেশাদার ক্রিকেটে ফিটনেসই শেষ কথা। যদি তিনি নিয়মিত ১০ ওভার বল করার মতো শারীরিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে না পারেন, তবে সাদা বলের ক্রিকেটেও তার জায়গা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। বিসিসিআইয়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, দলের স্বার্থে তারা এখন আর কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। হার্দিক কি পারবেন পুরনো ছন্দে ফিরে আসতে? নাকি ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন কোনো অলরাউন্ডারের যুগের সূচনা হতে চলেছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
