ক্রুনাল পান্ডিয়ার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্কে কাব্য মারান, এসআরএইচ বনাম আরসিবি ম্যাচে উত্তেজনা
মাঠের উত্তেজনা গ্যালারিতে: কাব্য মারান ও ক্রুনাল পান্ডিয়া বিতর্ক
আইপিএল মানেই মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি গ্যালারির নাটকীয়তা। সম্প্রতি সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (SRH) এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু (RCB)-এর মধ্যকার ম্যাচে এমন একটি দৃশ্য দেখা গেল যা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল আলোচনা চলছে। হায়দ্রাবাদের কর্ণধার কাব্য মারানের অদ্ভুত প্রতিক্রিয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে ক্রুনাল পান্ডিয়ার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শুক্রবারের সেই ম্যাচে হায়দ্রাবাদ প্রথমে ব্যাট করে ২৫৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়। জবাবে আরসিবি ২০ ওভারে ২০০ রান তুলতে সক্ষম হয়। ম্যাচের ১৭তম ওভারে যখন ক্রুনাল পান্ডিয়া বল করতে আসেন, তখনই ঘটে বিপত্তি। ব্যাটার নীতীশ কুমার রেড্ডিকে চমকে দিতে গিয়ে ক্রুনাল একটি অস্বাভাবিক বাউন্সার দেন। বলটি এতটাই উঁচুতে ছিল যে আম্পায়ার এটিকে ‘ওয়াইড’ ঘোষণা করেন। এই ডেলিভারিটি দেখার পরেই কাব্য মারানকে বেশ অবাক হতে দেখা যায়। ক্যামেরায় ধরা পড়ে তার সেই বিখ্যাত ‘এ বিড়ম্বিত অভিব্যক্তি’, যা থেকে নেটিজেনরা ধারণা করছেন তিনি ক্রুনালের বোলিং অ্যাকশন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।
ক্রুনালের কৌশল বনাম কাব্যর সংশয়
ক্রুনাল পান্ডিয়া একজন বাঁহাতি স্পিনার হলেও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলেছেন। তিনি প্রায়শই ক্রিজের ব্যবহার করে এবং স্বাভাবিক স্পিন ডেলিভারির সাথে দ্রুতগতির বাউন্সার মিশিয়ে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। নীতীশ রেড্ডির বিরুদ্ধে সেই বাউন্সারটি ছিল তার পরিকল্পনার অংশ। যদিও আম্পায়ার এটিকে ওয়াইড দিয়ে দেন, তবুও একই ওভারে তিনি হেনরিখ ক্লাসেনের মতো বিধ্বংসী ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে ফেরাতে সক্ষম হন। সব মিলিয়ে ২ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন তিনি।
এসআরএইচ-এর দাপুটে পারফরম্যান্স
ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ব্যাটিং দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেন ব্যাটাররা। ইশান কিষাণ ৪৬ বলে ৭৯ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এছাড়া অভিষেক শর্মা এবং হেনরিখ ক্লাসেনের দ্রুতগতির হাফ-সেঞ্চুরি দলের স্কোরকে ২৫৫ রানে নিয়ে যায়। মিডল অর্ডারে নীতীশ কুমার রেড্ডিও কার্যকরী ক্যামিও খেলেন, বিশেষ করে ১৭তম ওভারে ক্রুনাল পান্ডিয়ার বলে পরপর দুটি ছক্কা মেরে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
আরসিবির লড়াই ও পয়েন্ট টেবিলের পরিস্থিতি
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরসিবি বেশ সতর্ক ছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল নেট রান রেট ঠিক রাখা। ভেঙ্কটেশ আইয়ার ১৯ বলে ৪৪ রান করে শুরুটা ভালোই করেছিলেন। অধিনায়ক রজত পাতিদারও ৫৬ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। ক্রুনাল পান্ডিয়া শেষদিকে ব্যাট হাতে ৩১ বলে অপরাজিত ৪১ রান করে পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। এই ৫টি রানের জয়ে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ প্লে-অফ দৌড়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। বর্তমানে আরসিবি, গুজরাট টাইটানস এবং এসআরএইচ পয়েন্ট টেবিলের প্রথম তিনটি স্থান নিশ্চিত করেছে।
বিতর্ক কি শেষ হচ্ছে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় কাব্য মারানের সেই অভিব্যক্তি নিয়ে ভক্তরা যেমন মজা করছেন, তেমনি সিরিয়াস ক্রিকেট ভক্তরা ভাবছেন বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আইসিসির নিয়মাবলী কতটা কঠোরভাবে মানা হচ্ছে। কাব্য মারানের সেই ‘ইয়ে কেয়া ডাল রাহা হ্যায় ভাই?’ গোছের অভিব্যক্তি আসলে ছিল কি না, তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু না বলা গেলেও, মাঠের লড়াইয়ের বাইরে এটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আইপিএল মরসুম যত এগিয়ে যাচ্ছে, মাঠের এমন খুটিনাটি ঘটনাগুলোই দর্শকদের বাড়তি বিনোদন দিচ্ছে। তবে দিনের শেষে, ক্রিকেটের সৌন্দর্য বজায় রেখে নিয়মের সঠিক প্রয়োগই কাম্য।
