Rayudu: Rahul ‘has been fantastic for any team that he has played for’
আইপিএলে কেএল রাহুলের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ও দিল্লি ক্যাপিটালসের আক্ষেপ
২০২৬ সালের আইপিএল মরসুমে দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটিং লাইনআপকে প্রায় একক হাতে টেনেছেন কেএল রাহুল। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে তিনি ৫৯৩ রান সংগ্রহ করে অরেঞ্জ ক্যাপের লড়াইয়ে চতুর্থ স্থানে ছিলেন। যদিও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে রাহুল উজ্জ্বল ছিলেন, কিন্তু দলীয় ব্যর্থতায় দিল্লি ক্যাপিটালসকে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে থেকেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই অম্বাতি রাইডু মন্তব্য করেছেন যে, রাহুলের মতো খেলোয়াড় একটি ট্রফি পাওয়ার যোগ্য এবং আশা করা যায় ভবিষ্যতে তিনি তা অর্জন করবেন।
ইডেন গার্ডেনে রাহুলের বিধ্বংসী ব্যাটিং
রবিবার ইডেন গার্ডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে রাহুল তার সেরাটা উজাড় করে দিয়েছিলেন। মাত্র ৩০ বলে ৬০ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। যদিও দিল্লি আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিল, তবুও রাহুলের লক্ষ্য ছিল মাথা উঁচু করে আসর শেষ করা। তৃতীয় ওভারে ক্যামেরন গ্রিনকে ছক্কা ও চার মেরে শুরুটা করেছিলেন তিনি। তবে আসল চমক দেখান অষ্টম ওভারে সুনীল নারিনের বিপক্ষে। রহস্যময় স্পিনার নারিনকে লং-অনে ছক্কা এবং এরপর স্ট্রেইট ড্রাইভের মাধ্যমে চার মেরে দর্শকদের মুগ্ধ করেন রাহুল। মাত্র ২৫ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা রাহুল শেষ পর্যন্ত অনুকূল রায়ের বলে আউট হলেও তার ইনিংসটি ছিল অতুলনীয়।
অম্বাতি রাইডুর প্রশংসায় কেএল রাহুল
ইএসপিএনক্রিকইনফো টাইমআউট শো-তে অম্বাতি রাইডু রাহুলের প্রশংসা করে বলেন, ‘নারিনের বিপক্ষে রাহুল যেভাবে ব্যাট করছিল তা ছিল অসাধারণ। এবারের আইপিএলে নারিনের বিপক্ষে এতটা আক্রমণাত্মকভাবে অন্য কাউকে ব্যাট করতে দেখিনি। রাহুল শুধু ভালো নয়, সে অত্যন্ত উঁচু মানের একজন খেলোয়াড়। দিল্লি ক্যাপিটালসের উচিত তাকে এমন একটি দল উপহার দেওয়া যা তাকে ট্রফি জেতাতে সাহায্য করবে। তিনি যেকোনো দলের জন্যই দুর্দান্ত পারফর্মার।’
রাহুলের ব্যাটিংয়ের বিবর্তন ও স্ট্রাইক রেট
২০২৩ সালে চোটের কারণে পুরো আইপিএল খেলতে না পারলেও, ২০১৮ সাল থেকে রাহুলের পরিসংখ্যান ঈর্ষণীয়। প্রতি মৌসুমে তিনি কমপক্ষে ৫২০ রান করেছেন এবং চারবার ৬০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করেছেন। দীর্ঘসময় ধরে স্ট্রাইক রেট নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লেও, এই মৌসুমে রাহুল ১৭৪.৪১ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন, যা তার ব্যাটিংয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্ক বাউচারও রাহুলের এই প্রভাবের প্রশংসা করে জানান যে, পাওয়ারপ্লের পর স্পিনারদের সামলানোর ক্ষেত্রে রাহুলের ভূমিকা ছিল অনবদ্য।
দিল্লি ক্যাপিটালসের পরবর্তী পথচলা
দিল্লি ক্যাপিটালস আইপিএলের শুরু থেকেই খেললেও এখনো শিরোপা জিততে পারেনি। গত পাঁচ বছরে তারা শেষ চারে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দল পুনর্গঠন বা বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও রাইডু ও বাউচারের মতে, দিল্লি ক্যাপিটালসের উচিত বর্তমান স্কোয়াডের মূল খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখা। রাইডুর কথায়, মিচেল স্টার্ক, লুঙ্গি এনগিডি, কুলদীপ যাদব এবং অক্ষর প্যাটেলের মতো অভিজ্ঞ বোলার এবং ডেভিড মিলার বা কেএল রাহুলের মতো ম্যাচ উইনার থাকার পরও দিল্লির এই ব্যর্থতা কিছুটা বিস্ময়কর। রাইডু আশা প্রকাশ করেন যে, দিল্লি আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে এবং বড় কোনো পরিবর্তনের পথে না গিয়ে দলের মূল কাঠামোর ওপর ভরসা রাখবে।
