হার্দিক পান্ডিয়াকে ছাড়াই কি বেশি খুশি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স? চাঞ্চল্যকর দাবি কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের নতুন অধ্যায়: হার্দিকহীনতা কি আশীর্বাদ?
আইপিএল ২০২৬-এর মরশুমটি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য ছিল নানা চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। তবে ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ১৪ মে অর্জিত জয়টি যেন দলের অন্দরে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। এই ম্যাচে টিলাক ভার্মার অনবদ্য অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংস মুম্বাইকে এক রুদ্ধশ্বাস জয় উপহার দেয়। কিন্তু এই জয়ের পাশাপাশি ক্রিকেট মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে দলের নিয়মিত অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার অনুপস্থিতি।

হার্দিক পান্ডিয়ার চোট ও দলের পরিস্থিতি
পিঠের চোটের কারণে হার্দিক পান্ডিয়া টানা তিনটি ম্যাচে দলের বাইরে রয়েছেন। রিলায়েন্স কর্পোরেট পার্কে তাকে ব্যক্তিগত অনুশীলনে দেখা গেলেও, মেডিকেল টিম এখনও তাকে পুরোপুরি মাঠে ফেরার ছাড়পত্র দেয়নি। এমনকি দলের সাথে ধর্মশালা সফরেও যাননি তিনি। তার এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই দলের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তবে প্রাক্তন ভারতীয় নির্বাচক ও কিংবদন্তি কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের মতে, এই অনুপস্থিতি দলের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বুমরাহ’র নেতৃত্বে বদলে যাওয়া মুম্বাই
হার্দিক ও সূর্যকুমার যাদবের অনুপস্থিতিতে এই ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন জসপ্রিত বুমরাহ। শ্রীকান্ত তার ইউটিউব চ্যানেলে বুমরাহ’র নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “বুমরাহকে অধিনায়ক হিসেবে আনা একটি দারুণ সিদ্ধান্ত। মাঠের প্রতিটি মুহূর্তে তাকে হাসিখুশি এবং সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস জোগাতে দেখা গেছে।”
এমএস ধোনির অত্যন্ত কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত শ্রীকান্ত মনে করেন, দলের সামগ্রিক মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, “দলের পরিবেশ অনেক হালকা এবং ঐক্যবদ্ধ মনে হয়েছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে জেতার জেদ এবং সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট ছিল, যা আগের ম্যাচগুলোতে কোথাও যেন হারিয়ে গিয়েছিল।”
তরুণদের পারফরম্যান্স ও শ্রীকান্তের পর্যবেক্ষণ
পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচে কেবল বুমরাহ নন, দলের তরুণ ও অন্যান্য অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাও জ্বলে ওঠেন। শার্দুল ঠাকুর মধ্যবর্তী ওভারে গুরুত্বপূর্ণ চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ মুম্বাইয়ের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এছাড়া দীপক চাহার ও রাজ অঙ্গদ বাওয়ার বোলিং এবং রায়ান রিকেলটনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
- শার্দুল ঠাকুরের স্পেল: চার উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া।
- টিলাক ভার্মার ধৈর্য: শেষ ওভার পর্যন্ত ক্রিজে থেকে দলকে জয় এনে দেওয়া।
- বুমরাহ’র নেতৃত্ব: শান্ত থেকে বোলারদের সাহস জোগানো।
শ্রীকান্ত আরও যোগ করেন, “এমনকি দলের পারফরম্যান্স যখন খারাপ ছিল, তখনও তারা লড়াই ছাড়েনি। জয়ের এই ক্ষুধা থাকাটাই একজন ক্রিকেটারের আসল পরিচয়। ধর্মশালার ম্যাচে সেই এনার্জি মাঠে দেখা গেছে।”
ভবিষ্যতের পথে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এখন ২০ মে ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে তাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মরশুমের শেষ পর্যায়ে এসে তারা নিজেদের সম্মান বজায় রাখতে মরিয়া। হার্দিক পান্ডিয়া পরবর্তী সময়ে ফিরবেন কি না বা ফিরলে দলের নেতৃত্বের সমীকরণ কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও, আপাতত জসপ্রিত বুমরাহ’র নেতৃত্বাধীন তরুণ দলটির পারফরম্যান্স সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
শ্রীকান্তের এই মন্তব্য কি ইঙ্গিত দেয় যে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ড্রেসিংরুমে নেতৃত্বের পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে? নাকি হার্দিক পান্ডিয়ার ফেরা মাত্রই পরিস্থিতি আবার বদলে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ের গর্ভেই লুকিয়ে। তবে বর্তমান সময়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স যে হার্দিককে ছাড়াই মাঠে এক নতুন ছন্দে ফিরেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন দেখার বিষয়, কলকাতার মাটিতে কেকেআর-এর শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের সামনে এই আত্মবিশ্বাসী মুম্বাই দল কেমন পারফর্ম করে।
