ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বনাম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট: নাহিদ রানাকে নিয়ে তামিম ইকবালের সতর্কবার্তা
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জোয়ার ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ
বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল), পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল), বিগ ব্যাশ বা দ্য হান্ড্রেড-এর মতো লিগগুলো ক্রিকেটারদের সামনে বিশাল অঙ্কের চুক্তির হাতছানি নিয়ে হাজির হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক তরুণ ক্রিকেটারই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে ক্যারিয়ারের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছেন। সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি তামিম ইকবাল।
তামিম ইকবালের দৃষ্টিভঙ্গি: অর্থের চেয়ে দেশের মর্যাদা বড়
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার সাথে এক আলাপচারিতায় তামিম ইকবাল স্পষ্ট করেছেন যে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট যতই জনপ্রিয় হোক না কেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলার আবেগের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তা হলো নিজের দেশের হয়ে খেলার আবেগ। যদি কেবল টাকাই সব হতো, তবে ৮০ শতাংশ ক্রিকেটার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দিকে ঝুঁকে পড়তেন। আমি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে সম্মান করি, কিন্তু দেশের হয়ে খেলার মাহাত্ম্য সম্পূর্ণ আলাদা। এটি হৃদয়ের তাগিদ থেকে আসে।’
ফুটবলের উদাহরণ টেনে তামিম আরও বলেন, সেখানেও খেলোয়াড়রা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করেন, কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে খেলার ডাক এলে তারা সবসময়ই সাড়া দেন। যদিও কিছু ব্যতিক্রম হয়তো থাকবে, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্রিকেটার দেশের জন্য খেলাকেই সবসময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন বলে তিনি মনে করেন।
নাহিদ রানা: গতির নতুন নাম
সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে নাহিদ ছিলেন অন্যতম কারিগর। চার ইনিংসে তিনি মোট ১১টি উইকেট শিকার করেছেন, যার মধ্যে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তার পাঁচ উইকেট ছিল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া পারফরম্যান্স।
ফ্র্যাঞ্চাইজি অভিজ্ঞতার প্রতিফলন
নাহিদ রানা কেবল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পেশোয়ার জালমির হয়ে পিএসএল-এ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সেখানে পাঁচ ইনিংসে নয়টি উইকেট নিয়ে তিনি দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মজার বিষয় হলো, পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সিরিজে সেই বাবর আজমকেই নাহিদ রানার গতির মুখে পড়তে হয় এবং বেশ বেগ পেতে হয়।
নাহিদ রানার মতো উদীয়মান তারকাদের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ থেকে আসা লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া কঠিন হতে পারে। তবে তামিম ইকবাল মনে করেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণে খেলোয়াড়দের সচেতন হতে হবে।
উপসংহার
ক্রিকেট বিশ্ব আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে অর্থের ঝনঝনানি, অন্যদিকে জাতীয় পতাকার সম্মান। নাহিদ রানার মতো তরুণরা যখন বিশ্বমঞ্চে জ্বলে ওঠেন, তখন তাদের পারফরম্যান্স যেমন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোকে আকর্ষণ করে, তেমনি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তাদের লড়াই দেশের মানুষের জন্য হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার উৎস। তামিম ইকবালের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গরিমা চিরন্তন এবং অর্থের চেয়েও বড় প্রাপ্তি হলো দেশের হয়ে খেলা। ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
