IPL 2026: ঈশান কিষাণের অধিনায়কত্বে মুগ্ধ প্যাট কামিন্স
আইপিএল ২০২৬: ঈশান কিষাণের ওপর আস্থা রাখলেন প্যাট কামিন্স
আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পারফরম্যান্স ক্রিকেট প্রেমীদের নজর কেড়েছে। দলের নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার আগে দলের নেতৃত্বের ভার ছিল উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ঈশান কিষাণের কাঁধে। এই দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এবং দলের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন কামিন্স। চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করেছে, যা দলের সামগ্রিক পরিকল্পনারই ফল।
ইনজুরি থেকে ফিরে কামিন্সের দৃষ্টিভঙ্গি
প্যাট কামিন্স গত বছর জুলাই মাসে পিঠের নিচের দিকে গুরুতর ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। এই চোটের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অংশ নিতে পারেননি তিনি। আইপিএল ২০২৬-এর আগে কামিন্স নিজেকে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করেন এবং টুর্নামেন্টের দ্বিতীয়ার্ধে দলে যোগ দেন। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে ঈশান কিষাণ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দলের নেতৃত্ব প্রদান করেন।
অধিনায়ক হিসেবে ঈশান কিষাণের উত্থান
ঈশান কিষাণকে অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত করার পেছনে ছিল তার ঘরোয়া ক্রিকেটের দুর্দান্ত ফর্ম। সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে ঝাড়খন্ডকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে তিনি নজর কেড়েছিলেন। কামিন্স জানান, তিনি নিজেই ঈশানকে অধিনায়ক হিসেবে সমর্থন করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকটি বিকল্প নিয়ে ভেবেছিলাম, কিন্তু ঈশানের ঘরোয়া মরসুম দারুণ কেটেছে। ছেলেরা তাকে পছন্দ করে, তাই আমি তাকে নিজের মতো করে কাজ করার স্বাধীনতা দিয়েছি। আমি তাকে খুব বেশি বাধা দিইনি কারণ সে জানে কীভাবে দলকে এগিয়ে নিতে হয়।’
দলের মালিকপক্ষ ও কৌশলী পরিবর্তন
দলের মালিকদের ভূমিকা নিয়েও প্যাট কামিন্স ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। গত মৌসুমের ব্যর্থতা কাটিয়ে এই মৌসুমে হায়দ্রাবাদ যে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলছে, তার পেছনে মালিকদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানান কামিন্স। তিনি বলেন, ‘মালিকরা দুর্দান্ত। গত মরসুমে আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি, তবে এবার নতুন খেলোয়াড়রা আমাদের আগ্রাসী ক্রিকেট দর্শনের সাথে পুরোপুরি মানিয়ে নিয়েছে।’
পরিসংখ্যানের বিচারে নেতৃত্ব
আইপিএল ২০২৬-এ নেতৃত্বের ভাগাভাগি দলের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। ঈশান কিষাণের নেতৃত্বে শুরুটা কিছুটা কঠিন হলেও, তিনি দলকে ঘুরে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন। ঈশানের নেতৃত্বে হায়দ্রাবাদ ৭টি ম্যাচের মধ্যে ৪টিতে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, কামিন্স ফেরার পর ৬টি ম্যাচের মধ্যে ৪টিতে জয় তুলে নিয়েছেন। মোট ১৩টি ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পারফরম্যান্স তাদের প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য
প্লে-অফ নিশ্চিত হলেও কামিন্স এবং তার দল এখন শীর্ষ দুইয়ে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এটি ফাইনালে ওঠার জন্য দুটি সুযোগ নিশ্চিত করবে। কামিন্সের নেতৃত্ব ও ঈশান কিষাণের মতো তরুণদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে এবারের আইপিএলের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কামিন্স মনে করেন, দলের সেরা পারফরম্যান্স এখনও বাকি আছে এবং তারা ট্রফি জয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
ক্রিকেট বিশ্বের জন্য এটি একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত যে কীভাবে একজন অভিজ্ঞ অধিনায়ক নিজের জুনিয়র সতীর্থকে সাহস জুগিয়ে দলকে সফলতার পথে এগিয়ে নিয়েছেন। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই তাদের আসন্ন ম্যাচগুলোতে আরও বড় সাফল্য এনে দিতে পারে বলে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
