অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটই আমার প্রথম অগ্রাধিকার: প্যাট কামিন্স
জাতীয় দলের প্রতি অটুট প্যাট কামিন্স
বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। আইপিএল বা অন্যান্য বিদেশি লিগ থেকে উপার্জনের সুযোগ থাকায় অনেক ক্রিকেটারই জাতীয় দলের চেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবছেন। তবে এই গুঞ্জনের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন প্যাট কামিন্স। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, আগামী কয়েক বছর তার কাছে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটই হবে এক নম্বর অগ্রাধিকার।
টেস্ট ক্রিকেটের গুরুত্ব
দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কামিন্স বলেন, ‘আমার কাছে কোনো কিছুই বদলায়নি। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটই আমার কাছে প্রথম অগ্রাধিকার, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেট। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে আমি একটি টেস্ট ম্যাচও মিস করতে চাই না এবং নিজের দেশের হয়ে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলতে চাই।’ তার এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সেই জল্পনাকে থামিয়ে দিয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছিল বড় তারকারা হয়তো জাতীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মনোনিবেশ করবেন।
শারীরিক সুস্থতা ও পরিকল্পনা
কামিন্স দীর্ঘদিন ধরেই নিজের পিঠের ইনজুরি নিয়ে বেশ সতর্ক। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন যে, গত চার মাস নিজেকে বেশ সতেজ বোধ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক বেশি ম্যাচ খেলিনি, তাই শারীরিকভাবে নিজেকে গত ছয়-সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় অনুভব করছি। পিঠের ইনজুরি যেন ফিরে না আসে, সেজন্য আমরা খুব সতর্ক ছিলাম। কারণ সামনের ১৮ মাসে ২০টি টেস্ট ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে, যা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
আইপিএল ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
আইপিএলের সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভারসাম্য বজায় রাখাটা কামিন্সের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি মনে করেন, আইপিএল সাধারণত তাদের ছুটির সময়ে পড়ে, তাই সেটি সামলানো সহজ। তবে ২০২৭ সালের আইপিএল নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের সাথে বড় ধরনের আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, সেসময় ভারত সফর এবং ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ সিরিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ রয়েছে।
ক্রিকেট প্রশাসনে খেলোয়াড়দের অবস্থান
বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) বেসরকারিকরণ নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে কামিন্স খুব একটা মুখ খোলেননি। তিনি মনে করেন, এই ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কর্তাদের কাজ। খেলোয়াড় হিসেবে তার চাওয়া হলো প্রতিযোগিতার মান বৃদ্ধি পাক এবং তরুণ ক্রিকেটাররা যেন পর্যাপ্ত সুযোগ পায়। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় চাই প্রতিযোগিতাটি আরও বড় হোক, ভক্তদের আকর্ষণ করুক এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হোক।’
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ভবিষ্যত
কামিন্স ২০১৯ সালের পর থেকে বিগ ব্যাশ লিগে খেলেননি এবং আগামী মৌসুমেও ভারত সফরের ব্যস্ততার কারণে তার খেলার সম্ভাবনা নেই। তবে আইসিসি’র মিটিংয়ে যদি নতুন ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম অনুযায়ী জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক সূচি ফাঁকা রাখা সম্ভব হয়, তবে ভবিষ্যতে তাকে বিগ ব্যাশে দেখা যেতে পারে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, প্যাট কামিন্স বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছেন, যেখানে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে জাতীয় স্বার্থই সবার উপরে স্থান পাচ্ছে। তার এই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটকে আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
