Latest Cricket News

R Ashwin pinpoints biggest reason behind Mumbai Indians’ IPL 2026 horror show – মুম্বাইয়ের ব্যর্থতার বিশ্লেষণ

Karan Malhotra · · 1 min read
Share

আইপিএল ২০২৬-এ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ভরাডুবি: আর অশ্বিনের বিশ্লেষণ

আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (MI) জন্য ছিল একটি দুঃস্বপ্নের মতো। ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন দলটি এই মৌসুমে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের মেলে ধরতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে, R Ashwin pinpoints biggest reason behind Mumbai Indians’ IPL 2026 horror show এবং তিনি দেখিয়েছেন কেন এই তারকাখচিত দলটি টুর্নামেন্টে এভাবে ধসে পড়ল। মাত্র ৪টি ম্যাচে জয় পেয়ে টেবিলের একদম নিচের দিকে থেকে শেষ করেছে তারা। লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG) চেয়ে নেট রান রেট কিছুটা ভালো থাকায় তারা কোনোমতে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে যাওয়া এড়াতে সক্ষম হয়। এই চরম ব্যর্থতার পর ভারতের অভিজ্ঞ অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের এই ভরাডুবির বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন।

বিগত মৌসুমের সাফল্য বনাম বর্তমানের ব্যর্থতা

হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স গত বছরের সেই যাদু এবার আর দেখাতে পারেনি। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের আইপিএলে প্রথম ৫ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১টিতে জয় পেয়েও তারা অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। শেষ ৯টি ম্যাচের মধ্যে ৭টিতে জয়লাভ করে প্লে-অফে কোয়ালিফাই করেছিল দলটি এবং কোয়ালিফায়ার ২ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। কিন্তু আইপিএল ২০২৬-এ সেই ধারাবাহিকতা সম্পূর্ণ উধাও ছিল। অথচ এই মৌসুমের শুরুটা কিন্তু মুম্বাইয়ের জন্য আশাব্যঞ্জক ছিল। দীর্ঘ ১৪ বছর পর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাদের প্রথম ম্যাচ জিতে মৌসুমের একটি শুভ সূচনা করেছিল। তবে তাদের আনন্দ এবং জয়ের ধারা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। এরপর টানা চারটি ম্যাচে পরাজয় তাদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেওয়ার পথ তৈরি করে। মাঝপথে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে একটি জয় পেলেও, তার পরেই আবার তারা টানা তিনটি ম্যাচ হারে। শেষ পর্যন্ত রায়পুরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের (RCB) বিরুদ্ধে শেষ বলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ ৫টি আইপিএল মৌসুমের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়। ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৮ মৌসুমে ৫টি ট্রফি জেতা দলটি এখন টানা ৬টি মৌসুম ট্রফিহীন কাটাল।

ইনজুরির কালো ছায়া এবং দলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া

আইপিএল ২০২৬-এ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যর্থতার পেছনে চোট বা ইনজুরি বড় একটি ভূমিকা পালন করেছে। দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার রোহিত শর্মা পায়ের আঙুল এবং হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে মাঝের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারেননি। অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়াও পিঠের ব্যথার কারণে শেষের দিকে দুটি ম্যাচ মিস করেন। অন্যদিকে, প্রধান পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ চোট নিয়েই পুরো টুর্নামেন্ট খেলেছেন বলে প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া বিদেশী ক্রিকেটার মিচেল স্যান্টনার এবং অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার কুইন্টন ডি কক চোটের কারণে পুরো মৌসুম থেকেই ছিটকে যান, যা দলের কম্বিনেশনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি দলের শক্তিকে অর্ধেক করে দিয়েছিল এবং সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে পেতে ম্যানেজমেন্টকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।

জাসপ্রিত বুমরাহর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে ফর্ম

রবিচন্দ্রন অশ্বিন তাঁর বিশ্লেষণে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখিয়েছেন দলের প্রধান পেসার জাসপ্রিত বুমরাহর ফর্মকে। বুমরাহ এই মৌসুমে ১৩টি ম্যাচে মাত্র ৪টি উইকেট নিতে পেরেছেন এবং তাঁর বোলিং গড় ছিল ১০২.৫০। আইপিএল তো বটেই, যেকোনো বড় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এটি কোনো বোলারের সবচেয়ে বাজে বোলিং গড় হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এই বিষয়ে অশ্বিন বলেন, “আইপিএলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বোলার পুরো মৌসুম খেলার পর ১০০-এর বেশি গড়ে বল করেছেন, আর তিনি হলেন জাসপ্রিত বুমরাহ। মৌসুমের আগে কেউ যদি আমাকে এই কথা বলত, তবে আমি কখনোই তা বিশ্বাস করতাম না।” বুমরাহর মতো একজন বিশ্বমানের বোলারের এই অফ-ফর্ম মুম্বাইয়ের বোলিং আক্রমণকে পুরোপুরি ধারহীন করে দিয়েছিল, যা প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের সহজেই রান তুলতে সাহায্য করেছে।

ট্রেন্ট বোল্টকে কি ছেড়ে দেবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স?

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অন্যতম বড় সাইনিং নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি পেসার ট্রেন্ট বোল্টকে নিয়েও কথা বলেন অশ্বিন। ২০২৫ সালের মেগা নিলামে ১২.৫০ কোটি টাকায় দলে আসা এই পেসারকে মুম্বাই আগামী আসরের আগে ছেড়ে দিতে পারে বলে মনে করেন অশ্বিন। অশ্বিন বলেন, “আমার মনে হয় তারা তাদের পার্স ফাঁকা করার জন্য ট্রেন্ট বোল্টকে ছেড়ে দেবে। এই ব্যাপারে আমি একদম নিশ্চিত। কিন্তু এছাড়া তারা আর কী পরিবর্তন করতে পারে? এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কারণ আপনার দলে অনেক বড় মাপের খেলোয়াড় রয়েছে এবং তাদের বাদ দেওয়া সহজ সিদ্ধান্ত নয়। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মূলমন্ত্র হলো ‘ওয়ান ফ্যামিলি’ (এক পরিবার), এবং তারা সেটি কঠোরভাবে মেনে চলে।” উল্লেখ্য, ট্রেন্ট বোল্ট নিজেও এই টুর্নামেন্টে ভালো করতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত দল থেকে বাদ পড়েন। ৫টি ম্যাচে এই কিউই বাঁহাতি পেসার ১১-এর বেশি ইকোনমি রেটে মাত্র ২ উইকেট নেন এবং তাঁর গড় ছিল ৯৪। ফলে এত চড়া মূল্যের একজন বোলারের এমন পারফরম্যান্সের পর তাঁকে ধরে রাখা মুম্বাইয়ের জন্য কঠিন হবে।

অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার অফ-ফর্ম এবং অশ্বিনের পর্যবেক্ষণ

দলের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার ব্যক্তিগত ফর্মও মুম্বাইয়ের ভরাডুবির অন্যতম বড় কারণ ছিল। হার্দিক ১০ ম্যাচে মাত্র ২০৬ রান করেছেন ২২.৮৯ গড়ে এবং ১৩৮ স্ট্রাইক রেটে। বল হাতে তিনি প্রায় ৬৫ গড়ে এবং ১১.৫ ইকোনমি রেটে মাত্র ৪ উইকেট শিকার করেন। অশ্বিন মনে করেন, ক্লান্তি বা চোটের কারণে হার্দিক হয়তো তাঁর চেনা ছন্দে ছিলেন না। অশ্বিন বলেন, “হার্দিক আগে গুজরাট টাইটান্সের হয়ে ৪ বা ৫ নম্বরে ব্যাটিং করতেন এবং স্পিনারদের ওপর চড়াও হতেন। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে লেন্থ বল খেলতে তাঁর সমস্যা হচ্ছে। আমি জানি না কেন এমনটা হলো, সম্ভবত ক্লান্তি বা চোটের কারণে এটি হতে পারে।” অধিনায়কের এই অফ-ফর্ম দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মাঠের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যার খেসারত দিতে হয়েছে পুরো দলকে।

আইপিএল ২০২৭ নিয়ে অশ্বিনের আশঙ্কাজনক ভবিষ্যদ্বাণী

সবশেষে আইপিএল ২০২৭ মৌসুমের জন্য মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে নিয়ে এক আশঙ্কাজনক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন আর অশ্বিন। তিনি মনে করেন না যে আগামী বছরই মুম্বাই খুব সহজে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। অশ্বিন বলেন, “এই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দলটিকে এবার একটু অদ্ভুত লেগেছে। আগামী বছর ঘুরে দাঁড়ানো তাদের জন্য সহজ হবে না। তাদের যে মান রয়েছে, তাতে হয়তো তারা ভালো খেলতে পারে। তবে আগামী বছরও যদি তারা ভালো করতে না পারে এবং সাধারণ মানের পারফরম্যান্স দেয়, আমি একটুও অবাক হব না। মনে হচ্ছে দলের অনেকেই এই মুহূর্তে তাদের সেরা ফর্মে নেই।” সব মিলিয়ে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের এই ভরাডুবি কেবল মাঠের পারফরম্যান্সের অভাব নয়, বরং ইনজুরি, প্রধান খেলোয়াড়দের অফ-ফর্ম এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবের সম্মিলিত ফল। আগামী মৌসুমে ঘুরে দাঁড়াতে হলে মুম্বাইকে তাদের দলে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে এবং নতুন কৌশল সাজাতে হবে।

Avatar photo
Karan Malhotra

Karan Malhotra covers IPL match reports, score summaries, and player performances with a focus on fast-paced cricket coverage.