Ravichandran Ashwin Opens RCB Doors – আইপিএলে আরসিবি হয়ে খেলার আক্ষেপ অশ্বিনের
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের আরসিবি হয়ে খেলার অপূর্ণ স্বপ্ন
ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন আইপিএল ক্যারিয়ারকে বিদায় জানিয়েছেন ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আইপিএলের অন্যতম সফল বোলার হিসেবে। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে দুইবার আইপিএল এবং দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি শিরোপা জয়ী অশ্বিন পাঞ্জাব কিংস, দিল্লি ক্যাপিটালস এবং রাজস্থান রয়্যালসের মতো দলের হয়েও মাঠ কাঁপিয়েছেন। তবে এতো সাফল্যের ভিড়েও তার মনে একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে, যা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।
কেন আরসিবির জার্সি গায়ে জড়াতে চেয়েছিলেন অশ্বিন?
বিখ্যাত ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যাশ কি বাত’-এ বিমল কুমারের সাথে আলাপচারিতায় অশ্বিন জানান, আইপিএলের খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি বিশেষ দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলার প্রবল ইচ্ছা পোষণ করতেন—রাজস্থান রয়্যালস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। যদিও রাজস্থানের হয়ে তিনি তিন মৌসুম খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু আরসিবির জার্সি গায়ে চাপানো তার জন্য অধরাই থেকে গেছে।
অশ্বিন বলেন, ‘চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলে আমি আনন্দিত ছিলাম। তবে আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা ছিল রাজস্থান রয়্যালস এবং আরসিবির হয়ে খেলার। এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে খেলার দারুণ কিছু স্মৃতি আমার আছে। এমনকি টেস্ট ম্যাচেও সেখানকার দর্শকরা আমাকে দারুণভাবে উৎসাহ জুগিয়েছেন। তাছাড়া এটি আমার নিজ শহরের কিছুটা কাছাকাছি হওয়ায় আবেগটাও ভিন্ন ছিল।’
আরসিবির সাম্প্রতিক সাফল্যে গর্বিত অশ্বিন
আইপিএল ২০২৫ মৌসুমে পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছিল আরসিবি। সেই জয়ের ধারা বজায় রেখে ২০২৬ মৌসুমেও তারা অদম্য। রজত পাতিদারের নেতৃত্বে দলটি পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। অশ্বিন মনে করেন, এই সাফল্য হঠাৎ পাওয়া কোনো সৌভাগ্য নয়, বরং পরিশ্রমের ফল। তিনি বলেন, ‘আমি আরসিবির জন্য অত্যন্ত খুশি। তারা এটি প্রাপ্য। ভাগ্য মানেই শুধু সৌভাগ্য নয়, বরং ভাগ্য অর্জন করতে হয়।’
আইপিএল ২০২৬: আরসিবির অপ্রতিরোধ্য যাত্রা
অশ্বিনের মন্তব্যের যথার্থতা প্রমাণ করে আরসিবি এখন আইপিএলের সবচেয়ে ধারাবাহিক দলগুলোর একটি। বিশেষ করে কোয়ালিফায়ার ১-এ গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্স ছিল চোখ ধাঁধানো। ধর্মশালার সেই ম্যাচে আরসিবি ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। অধিনায়ক রজত পাতিদার মাত্র ৩৩ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল নয়টি বিশাল ছক্কা ও পাঁচটি চার।
এরপর বল হাতে জ্যাকব ডাফি এবং ভুবনেশ্বর কুমারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে গুজরাট টাইটানস ২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ১৬২ রানে গুটিয়ে যায়। দলের এই পুনরুত্থান এবং টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠা আরসিবিকে বর্তমান আইপিএলের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
উপসংহার
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে আরসিবির মতো জনপ্রিয় দলের হয়ে না খেলার আক্ষেপ থাকাটা স্বাভাবিক। মাঠের লড়াইয়ে হয়তো তিনি আরসিবিকে সরাসরি সাহায্য করতে পারেননি, কিন্তু একজন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির এই আমূল পরিবর্তন এবং সাফল্যের প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি। ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচের দিকে, যেখানে আরসিবি তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে মরিয়া।
