RCB-এর ধীরগতির রান চেজ: সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে বেঙ্গালুরু
আইপিএল ২০২৬: আরসিবির কৌশল নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ
শুক্রবার রাতে হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যকার ম্যাচটি ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু ২৫৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরসিবির ব্যাটিংয়ের ধরন ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ম্যাচটিকে অনেকে ‘স্নুজফেস্ট’ বা একঘেয়ে লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
কেন সমালোচনার মুখে আরসিবি?
ম্যাচের শুরুতে ভেঙ্কটেশ আইয়ারের বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছিল আরসিবি লক্ষ্য তাড়া করতে মরিয়া। মাত্র ৪.৩ ওভারে ওপেনিং জুটিতে ৬০ রান যোগ করেন ব্যাটাররা। ভেঙ্কটেশ আইয়ার ১৯ বলে ৪৪ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল চারটি চার ও চারটি ছয়ের মার। তবে এরপরই হঠাৎ করে যেন আরসিবির ব্যাটিংয়ের মোড় ঘুরে যায়। ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং শুরু করে তারা, যা দর্শকদের কাছে অত্যন্ত বিরক্তিকর মনে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরসিবি এই ম্যাচে জয়ের চেয়ে তাদের নেট রান রেট এবং কোয়ালিফায়ার ১-এর জায়গা নিশ্চিত করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল ১৬৬ রান স্পর্শ করা, যা তারা ১৬.৪ ওভারে সম্পন্ন করে। কিন্তু ২৫৬ রানের পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে এমন রক্ষণাত্মক মনোভাব সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছে।
কোয়ালিফায়ার ১-এর সমীকরণ
এই ম্যাচের আগে আরসিবি এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ—উভয় দলই কোয়ালিফায়ার ১-এ খেলার সুযোগ খুঁজছিল। আরসিবির জন্য প্রধান লক্ষ্য ছিল পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুইয়ে থাকা। ম্যাচটিতে হেরে গেলেও তারা ১৬৬ রানের কোটা পূর্ণ করায় কোয়ালিফায়ার ১-এ নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। এর ফলে ফাইনালের পথে যাওয়ার জন্য তারা দুটি সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে, জয়ী হয়েও হায়দরাবাদকে পয়েন্টের সমীকরণের কারণে এলিমিনেটরে খেলতে হবে। এখন আরসিবি ২৬ মে ধর্মশালায় গুজরাট টাইটানসের মুখোমুখি হবে কোয়ালিফায়ার ১-এ। আর সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ২৭ মে মুল্লানপুরে এলিমিনেটরে লড়বে।
শেষ সপ্তাহের উত্তেজনা
আইপিএল ২০২৬-এর লিগ পর্যায়ের শেষদিকে এসে লড়াই আরও জমে উঠেছে। আরসিবি, গুজরাট এবং হায়দরাবাদ সমান পয়েন্টে থাকলেও চতুর্থ স্থানটি নিয়ে এখন তীব্র লড়াই চলছে। পাঞ্জাব কিংস, রাজস্থান রয়্যালস, কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং দিল্লি ক্যাপিটালস—এই চারটি দলের মধ্যে শেষ চার নিশ্চিত করার লড়াই চলছে।
- রাজস্থান রয়্যালস: নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলেই তারা সরাসরি প্লে-অফে চলে যাবে।
- পাঞ্জাব কিংস: লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে জয় এবং অন্যদের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
- কলকাতা ও দিল্লি: এই দুই দলকেই নিজেদের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয় পেতে হবে এবং অন্য দলের হার কামনা করতে হবে।
আইপিএলের এই ধীরগতির রান চেজ নিয়ে বিতর্ক আপাতত থিতু হলেও, টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব এখন তুঙ্গে। ভক্তরা আশা করছেন, নকআউট পর্বে প্রতিটি দল তাদের সেরা আগ্রাসী রূপটিই প্রদর্শন করবে।
