Shaheen Afridi Issues Official Statement On Mohammad Rizwan’s ODI Future – মোহাম্মদ রিজওয়ানের ওডিআই ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন শাহিন আফ্রিদি
রিজওয়ানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় উড়িয়ে দিলেন শাহিন
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক দল ঘোষণা ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য যখন দল ঘোষণা করা হয়, তখন সবার নজর ছিল অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের দিকে। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম না থাকায় ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কি রিজওয়ানের ওয়ানডে ক্যারিয়ার এখানেই শেষ? তবে পাকিস্তান দলের বর্তমান ওডিআই অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি সব জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন।
রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক প্রেস কনফারেন্সে শাহিন আফ্রিদি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, রিজওয়ানের বাদ পড়া মানেই তার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়। তিনি বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় একটি সিরিজ থেকে বাদ পড়লেই তার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়—এই ধারণা ভুল। আমি নিজেও অতীতে দল থেকে বাদ পড়েছিলাম এবং পরে শক্তিশালীভাবে ফিরে এসেছি। বাবর আজমের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটেছে। তাই রিজওয়ানের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।’
নতুন প্রতিভাদের পরখ করার সুযোগ
দল থেকে রিজওয়ানের বাদ পড়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন শাহিন। পাকিস্তান দল বর্তমানে ২০২৭ সালের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। অধিনায়কের মতে, বিশ্বকাপের আগে দলের বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করে দেখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের হাতে রোহাইল নাজির এবং গাজীর মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ না দিলে আমরা সঠিক পরিকল্পনা সাজাতে পারব না। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন খেলোয়াড়কে বাজিয়ে দেখাটা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই অংশ।’
উল্লেখ্য যে, রিজওয়ান গত বাংলাদেশ সিরিজের তিন ম্যাচে মাত্র ৫৪ রান করতে পেরেছিলেন। তার সাম্প্রতিক ফর্ম এবং দলের নতুন কৌশলের কারণে নির্বাচকরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোচ মাইক হেসনের ব্যাখ্যা
প্রধান কোচ মাইক হেসনও এই বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। হেসন বলেন, ‘গত ১২ মাসে আমরা আমাদের ওয়ানডে দলের কাঠামোয় যথেষ্ট উন্নতি করেছি। যখন আমি দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন থেকেই আমরা একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছি। রিজওয়ান আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ কি না, তা নিয়ে নানা চর্চা থাকলেও আমরা মূলত পারফরম্যান্স এবং দলের প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।’
দলের তরুণ শক্তির ওপর আস্থা
অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ঘোষিত ১৬ সদস্যের শক্তিশালী পাকিস্তান দলে ফিরেছেন বাবর আজম, শাদাব খান, নাসিম শাহ ও হ্যারিস রউফের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা। পাশাপাশি আহমেদ দানিয়াল, আরাফাত মিনহাস এবং রোহাইল নাজিরের মতো তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি পরিষ্কার যে, পাকিস্তান ম্যানেজমেন্ট অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ শক্তির সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করতে চাইছে।
শাহিন আফ্রিদি আরও যোগ করেন, ‘কারও ক্যারিয়ার কেউ শেষ করতে পারে না। এটি একান্তই খেলোয়াড়ের কঠোর পরিশ্রম এবং মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে। যদি কোনো খেলোয়াড় কঠোর পরিশ্রম করেন, তবে সৃষ্টিকর্তা তাকে সুযোগ ফিরিয়ে দেবেন।’
আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজটি ৩০ মে থেকে শুরু হয়ে ৪ জুন পর্যন্ত চলবে। এই সিরিজটি পাকিস্তানের জন্য নিজেদের নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার একটি বড় সুযোগ। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন দেখার অপেক্ষায়, রিজওয়ানের অনুপস্থিতিতে তরুণরা নিজেদের কতটা প্রমাণ করতে পারেন এবং পাকিস্তান দল অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কেমন পারফর্ম করে।
পরিশেষে, পাকিস্তান ক্রিকেটের এই পরিবর্তন কেবলই একটি প্রক্রিয়ার অংশ। রিজওয়ান একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে আবারও দলে ফেরার সুযোগ পাবেন কি না, তা কেবল সময়ই বলে দেবে। তবে অধিনায়ক শাহিনের বক্তব্য অনুযায়ী, রিজওয়ানের জন্য দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
