টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে শ্রেয়াস আইয়ার, জানালেন রিকি পন্টিং
শ্রেয়াস আইয়ার: ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক?
আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে পাঞ্জাব কিংসের পারফরম্যান্স নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্বে টানা ছয়টি ম্যাচে পরাজয় দলটিকে প্লে-অফের দৌড় থেকে প্রায় ছিটকে দিয়েছে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্ব নিয়ে উচ্চকণ্ঠ দলের প্রধান কোচ রিকি পন্টিং। তিনি বিশ্বাস করেন, চাপের মুখে যেভাবে আইয়ার দলকে সামলেছেন, তা তাকে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্বের প্রধান দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়াস আইয়ারের অভিজ্ঞতা
আইয়ার শুধুমাত্র একজন দক্ষ ব্যাটারই নন, একজন পরিপক্ক নেতা হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আইপিএলে ১০০টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার অনন্য রেকর্ড রয়েছে তার ঝুলিতে। তিনি একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে দিল্লি ক্যাপিটালস, কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং পাঞ্জাব কিংস—এই তিনটি ভিন্ন দলকে আইপিএলের ফাইনালে নিয়ে গিয়েছেন। এই ধারাবাহিকতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
রিকি পন্টিংয়ের বিশ্লেষণ
পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিকি পন্টিং বলেন, ‘আমার মতে, শ্রেয়াস আইয়ার ভারতীয় দলের অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে অন্যতম প্রধান দাবিদার। টুর্নামেন্টের শুরুতে আমরা দেখেছি সে একজন টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড় হিসেবে কতটা দক্ষ এবং মাঠের ভেতরে ও বাইরে তার প্রভাব কতটা প্রবল।’ পন্টিং আরও যোগ করেন যে, গত কয়েক বছরে আইয়ারের মধ্যে মানসিক পরিপক্কতা অনেক বেড়েছে। তিনি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং শান্ত থেকে নিজের খেলা পরিচালনা করেন।
টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়কত্ব নিয়ে জল্পনা
বর্তমানে সূর্যকুমার যাদবের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর, পন্টিংয়ের এই মন্তব্য ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পন্টিংয়ের কথায়, ‘এই আইপিএল মরসুমের পারফরম্যান্সের পর নির্বাচকরা অবশ্যই তার নাম নিয়ে আলোচনা করবেন। শুধু দলে জায়গা পাওয়া নয়, বরং অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও সে যোগ্য প্রার্থী। আইয়ার এখন তার ক্যারিয়ারের এমন এক পর্যায়ে আছেন যেখানে নেতৃত্বের ভার পেলে তিনি তা ভালোভাবে সামলাতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
পাঞ্জাব কিংসের কঠিন সময় ও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ভাগে পাঞ্জাব কিংসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সমস্যা হয়েছে। তবে কোচ পন্টিং মনে করেন, দলের উত্থান-পতন খেলারই অংশ। তিনি বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় এবং অধিনায়ক হিসেবে উত্থান-পতন আসবেই। আমি নিশ্চিত যে শেষ ম্যাচে সে ঘুরে দাঁড়াবে। আইয়ার যদি বড় ইনিংস খেলতে পারে, তবে আমরা জয়ী হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রাখব।’
শেষ কথা
ভারতীয় ক্রিকেটের নির্বাচকদের কড়া মানদণ্ড সম্পর্কেও অবগত পন্টিং। তিনি মনে করেন, আইয়ার যেভাবে নিজের ব্যাটিং ও অধিনায়কত্বের সমন্বয় ঘটিয়েছেন, তা তাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচকরা রিকি পন্টিংয়ের এই পরামর্শ এবং আইয়ারের সাম্প্রতিক ফর্মকে কতটা গুরুত্ব দেয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে শ্রেয়াস আইয়ারের মতো একজন শান্ত এবং কৌশলী নেতার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আইয়ারের এই পরিণত বোধ ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করতে পারে।
