Cricket News

নিউজিল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয়: সোফি ডিভাইন ও ম্যাডি গ্রিনের অবিশ্বাস্য পার্টনারশিপ

Dev Patel · · 1 min read
Share

ক্যান্টারবারিতে রূপকথার পুনরাবৃত্তি: সোফি ডিভাইন ও ম্যাডি গ্রিনের ঐতিহাসিক লড়াই

ক্রিকেট মাঠে কখন কী ঘটে তা আগে থেকে বলা দায়। সেন্ট লরেন্স গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ড নারী দল এবং নিউজিল্যান্ড নারী দলের মধ্যকার দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচটি যেন সেই অমোঘ সত্যেরই সাক্ষী হয়ে রইল। শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে নিউজিল্যান্ড যে উচ্চতায় পৌঁছাল, তা নিশ্চিতভাবেই বিশ্ব ক্রিকেটে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সোফি ডিভাইন এবং ম্যাডি গ্রিনের বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে ভর করে কিউইরা শুধু ম্যাচেই ফেরেনি, বরং গড়েছে নতুন ইতিহাস।

শুরুর বিপর্যয় ও ব্যাকফুটে কিউইরা

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। কিন্তু শুরুতে সেই সিদ্ধান্ত এক চরম ভুল বলে মনে হচ্ছিল। দলীয় মাত্র ৫ রানের মাথায় ৩ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড তখন চরম বিপাকে। লিনসি স্মিথ তার জাদুকরী বোলিংয়ে সাজঘরে ফেরান ইসাবেলা গাজ, জর্জিয়া প্লিমার এবং অধিনায়ক অ্যামেলিয়া কারকে। প্লিমার এবং কার গোল্ডেন ডাকের শিকার হওয়ায় দলের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।

সোফি ডিভাইন ও ম্যাডি গ্রিনের পাল্টা আক্রমণ

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ সোফি ডিভাইন যেন দলের ত্রাণকর্তা হয়ে আবির্ভূত হন। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন ম্যাডি গ্রিন। দুজনের মধ্যকার এই জুটিটি কেবল রান সংগ্রহ করছিল না, বরং ইংল্যান্ডের বোলারদের চাপকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিচ্ছিল।

  • সোফি ডিভাইন: ৫৭ বলে ৮৭ রানের এক অনবদ্য ইনিংস। ৫টি চার এবং ৬টি বিশাল ছক্কা দিয়ে সাজানো ছিল তার ব্যাটিং।
  • ম্যাডি গ্রিন: ৪৮ বলে ৫৬ রানের একটি ধৈর্যশীল ও কার্যকরী ইনিংস।

এই দুই ব্যাটার মিলে পঞ্চম উইকেটে ১৫৮ রানের অবিস্মরণীয় একটি জুটি গড়েন। এই জুটি নিউজিল্যান্ড নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এটি ২০১০ সালে সুজি বেটস এবং সারা ম্যাকগ্ল্যাশানের ১০১ রানের আগের রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছে। এছাড়াও, এটি নারী টি২০ ইতিহাসে পঞ্চম উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

ইংল্যান্ডের বোলিং ও রান তাড়ায় ভারসাম্য

নিউজিল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের বিপরীতে ইংল্যান্ডের বোলাররা শুরুটা দারুণ করেছিল। লিনসি স্মিথ ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। লরেন বেল একটি উইকেট পেলেও দলের রান আটকে রাখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখেন। ইসিসহ অন্যান্য বোলাররা উইকেট না পেলেও রান দেওয়ার ক্ষেত্রে ছিলেন বেশ কিপটে।

ইংল্যান্ড তাদের রান তাড়ায় শুরু থেকেই বেশ ইতিবাচক ছিল। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে তারা মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান সংগ্রহ করে। ওপেনিং জুটি হিসেবে সোফিয়া ডাঙ্কলি এবং অ্যালিস ক্যাপসি ৩১ রান যোগ করে দলকে একটি ভালো ভিত্তি এনে দিয়েছিলেন।

সিরিজের সমীকরণ ও গুরুত্ব

ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার এই সিরিজটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ইংল্যান্ডের জন্য এই সিরিজ জয় মানে নিজেদের কন্ডিশনে আধিপত্য ধরে রাখা। এর আগে ওয়ানডে সিরিজ বৃষ্টির কারণে ড্র হওয়ায়, টি২০ সিরিজে জয়ী হয়ে ইংলিশরা স্বস্তি পেতে চেয়েছিল। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের জন্য এটি ছিল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটি হার তাদের সিরিজ থেকে ছিটকে দিতে পারত।

সোফি ডিভাইন ও ম্যাডি গ্রিনের এই ঐতিহাসিক পার্টনারশিপ একদিকে যেমন কিউইদের লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তেমনি ক্রিকেটের অনিশ্চয়তাকেও ফুটিয়ে তুলেছে। ১৭০ রানের পুঁজি নিয়ে নিউজিল্যান্ড এখন জয়ের স্বপ্ন দেখছে, যা এই সিরিজকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় আছেন দেখার জন্য যে, শেষ পর্যন্ত কার হাতে ট্রফি ওঠে। তবে এই ম্যাচটি যে সোফি ডিভাইন এবং ম্যাডি গ্রিনের সাহসিকতার গল্পের জন্য চিরকাল মনে রাখা হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

Avatar photo
Dev Patel

Dev Patel delivers real-time cricket updates, over-by-over summaries, and match-changing moments during IPL fixtures.