Report

ভাইটালিটি ব্লাস্টে ল্যাঙ্কাশায়ারকে হারিয়ে সারে-র দুর্দান্ত সূচনা

Hassan Raza · · 1 min read
Share

ভাইটালিটি ব্লাস্টের শুরুতেই সারে-র জয়জয়কার

কিয়া ওভালে ভাইটালিটি ব্লাস্টের নতুন মরসুমের উদ্বোধনী ম্যাচেই নিজেদের শক্তির জানান দিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন সারে। ল্যাঙ্কাশায়ার থান্ডারের দেওয়া ১৮৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে সারে ৬ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছে। এই ম্যাচে বল হাতে ল্যাঙ্কাশায়ার ভালো শুরু করলেও ব্যাট হাতে ব্রায়নি স্মিথের বিধ্বংসী ইনিংস ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ল্যাঙ্কাশায়ারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ল্যাঙ্কাশায়ার থান্ডার আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে। ইভ জোন্স ৩১ বলে ৫৬ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। উদ্বোধনী জুটিতেই তারা দারুণ ছন্দ দেখায়। ড্যানি গ্রেগরির প্রথম ওভারে ২২ রান তুলে ল্যাঙ্কাশায়ার ইনিংসের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে দেন জোন্স। অন্যদিকে, অভিষেক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক মেগ ল্যানিং ২২ বলে ৪০ রান করে দলের রানের চাকা সচল রাখেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ার ১৮৫ রান সংগ্রহ করে। সারে-র বোলারদের মধ্যে রিয়ানা ম্যাকডোনাল্ড-গে কোনো উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে কিপটে বোলিংয়ের পরিচয় দেন।

স্মিথের ব্যাটে সারে-র জবাব

১৮৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সারে শুরু থেকেই ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলারদের ওপর চড়াও হয়। অধিনায়ক ব্রায়নি স্মিথ দীর্ঘদিন রানখরায় ভুগলেও এই ম্যাচে স্বরূপে ফেরেন। তিনি ৩৫ বলে ৭১ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ১০টি চার এবং ৩টি ছক্কা। স্মিথকে দারুণ সঙ্গ দেন অ্যালিস ডেভিডসন-রিচার্ডস। ডেভিডসন-রিচার্ডস ৪৭ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তসমূহ

  • স্মিথের বিধ্বংসী শুরু: পাওয়ারপ্লে-র সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান স্মিথ। যদিও ৪২ রানে একবার ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই জীবন ফিরে পেয়ে তিনি অর্ধশতক পূরণ করেন মাত্র ২৭ বলে।
  • মাঠের অসাধারণ ফিল্ডিং: সারে-র ফিল্ডিং ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পেইজ স্কোফিল্ডের নিখুঁত থ্রো থেকে সেলেন স্মালের রান-আউট ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত ছিল।
  • শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা: জয়ের জন্য যখন সারে-র রানের প্রয়োজন ছিল, তখন ডেভিডসন-রিচার্ডস শেষ দিকে ছক্কা হাঁকিয়ে সাত বল বাকি থাকতেই দলের জয় নিশ্চিত করেন।

পরবর্তী লক্ষ্য

এই জয়ের ফলে আত্মবিশ্বাসী সারে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুত। অন্যদিকে, ল্যাঙ্কাশায়ার থান্ডার তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের পরেও বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে যে ভুলগুলো করেছে, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে। ল্যানিংয়ের অভিষেক পারফরম্যান্স ল্যাঙ্কাশায়ারের জন্য ইতিবাচক দিক হলেও, সারে-র সম্মিলিত প্রচেষ্টার কাছে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে হয় তাদের।

সব মিলিয়ে কিয়া ওভালের দর্শকরা একটি দুর্দান্ত টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সাক্ষী থাকলেন। স্মিথের এই ইনিংস কেবল সারে-র জন্যই নয়, বরং টুর্নামেন্টের উত্তেজনাকেও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। আগামী দিনগুলোতে সারে তাদের চ্যাম্পিয়ন সুলভ পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।