আইপিএল ২০২৬: তিলক ভার্মার মন্থর ব্যাটিংয়ে বিব্রত মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, গড়লেন ১৪ বছরের পুরনো রেকর্ড
আইপিএলে এক লজ্জার রেকর্ডের সাক্ষী তিলক ভার্মা
আইপিএল ২০২৬ মরশুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পারফরম্যান্স যেমন হতাশাজনক, তেমনি ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে তিলক ভার্মার ব্যাটিং সেই অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। চাপের মুখে দাঁড়িয়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করার পরিবর্তে তিলক ভার্মা যেভাবে ধীরগতিতে ব্যাট করলেন, তা দলের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৪ বছরের পুরনো এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড ভেঙে তিনি আইপিএলের ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন নেতিবাচকভাবে।
ইডেনের ঘূর্ণি ও তিলকের দিশেহারা ইনিংস
ম্যাচের শুরুতে ইডেন গার্ডেন্সের উইকেট ছিল বোলারদের স্বর্গরাজ্য। কেকআর-এর বোলাররা পিচের সুবিধা নিয়ে মুম্বাইয়ের টপ অর্ডারকে বেশ দ্রুতই প্যাভিলিয়নে ফেরাতে সক্ষম হয়। স্কোরবোর্ডে ২৩ রান তুলতেই মুম্বাই তিন উইকেট হারিয়ে বসে। এরপর বৃষ্টির কারণে খেলা সাময়িক বন্ধ হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা জুটি ইনিংস পুনর্গঠনের চেষ্টা করলেও, তিলক বারবার বল মিস করতে থাকেন। তার ব্যাটিংয়ে কোনো ছন্দ ছিল না এবং তিনি কার্যত চাপের মুখে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন।
১৪ বছরের রেকর্ড ভাঙার গল্প
কার্তিক ত্যাগীর বলে আউট হওয়ার আগে তিলক ভার্মা ৩২ বলে মাত্র ২০ রান সংগ্রহ করেন। তার এই ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৬২.৫০। আইপিএলের ইতিহাসে অন্তত ৩০ বল মোকাবিলা করা ব্যাটারদের মধ্যে এটিই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে সর্বনিম্ন স্ট্রাইক রেট। এর মাধ্যমে তিনি ২০১২ সালে জেমস ফ্র্যাঙ্কলিনের গড়া পুরনো রেকর্ডটিকে ছাপিয়ে গেলেন। সেই সময়ের টি-টোয়েন্টি খেলার ধরন আর আজকের পাওয়ার হিটিং ক্রিকেটের যুগে তিলকের এই ধীরগতির ইনিংসটি দলের সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
আইপিএল ২০২৬: মুম্বাইয়ের ব্যর্থতার চিত্র
চলতি মরশুমটি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য ভুলে যাওয়ার মতো। পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে অবস্থান করা দলটি ইতিমধ্যে প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে। তিলক ভার্মার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও এই ব্যর্থতার একটি বড় কারণ। ১২ ইনিংসে ৩২.২৬ গড়ে ৩৫৬ রান করলেও, তার খেলার ধরনে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। দলের সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তার কাছ থেকে যে ধরনের দায়িত্বশীল ইনিংস প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা পুরো মরশুম জুড়ে দেখা যায়নি। সূর্যকুমার যাদবের ফর্মহীনতা তিলকের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছিল ঠিকই, কিন্তু অভিজ্ঞতার পরিচয় দিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
শেষের দিকে লড়াই
তিলকের আউটের পর যখন মুম্বাই ৮৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন মনে হয়েছিল দলটি হয়তো ১০০ রানও পার করতে পারবে না। কিন্তু শেষদিকে কর্বিন বশ এবং দীপক চাহারের ৪২ রানের মূল্যবান জুটি মুম্বাইকে ১৪৭ রানের সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেয়। কার্তিক ত্যাগীর শেষ ওভারে ১৯ রান আসার ফলে মুম্বাই কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। বল হাতে কেকেআর-এর হয়ে সৌরভ দুবে, ক্যামেরন গ্রিন এবং কার্তিক ত্যাগী দুর্দান্ত বোলিং করেন। বিশেষ করে সুনীল নারিন তার ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নিয়ে মুম্বাইকে চাপে রেখেছিলেন।
উপসংহার
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১৪৭ রানের সংগ্রহ দাঁড় করালেও, ইডেনের এই পিচে কেকেআর-এর জন্য লক্ষ্যটি খুব বড় নয়। প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে কেকেআর-এর জন্য এই ম্যাচটি জেতা অত্যন্ত জরুরি। মুম্বাইয়ের বোলাররা যদি অসাধারণ কিছু করতে না পারে, তবে তিলক ভার্মার এই মন্থর ইনিংসটি ম্যাচ হারের বড় কারণ হিসেবে গণ্য হবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে না চললে যে কতটা মাশুল দিতে হয়, তিলক ভার্মার এই ইনিংসটি তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।
