Sooryavanshi’s 97 off 29 knocks SRH out – আইপিএল এলিমিনেটরে সূর্যবংশীর বিধ্বংসী ইনিংস: রাজস্থান রয়্যালসের বড় জয়
বৈভব সূর্যবংশীর রূপকথার ব্যাটিংয়ে সেমিফাইনালে রাজস্থান
চলতি আইপিএল মরশুমটি যেন তরুণ তারকা বৈভব সূর্যবংশীর জন্য একটি রূপকথার মতো। ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম নতুন করে লেখার নেশায় মত্ত এই ১৫ বছর বয়সী ব্যাটার এলিমিনেটর ম্যাচে যা করে দেখালেন, তা দীর্ঘকাল ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে। ২৯ বলে ৯৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে টুর্নামেন্ট থেকে কার্যত ছিটকে দিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত রাজস্থান রয়্যালস ৪৭ রানের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে কোয়ালিফায়ার ২-এ গুজরাট টাইটান্সের মুখোমুখি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
রেকর্ডের পাতায় সূর্যবংশীর রাজত্ব
ম্যাচটিতে সূর্যবংশী যেন এক অন্য মেজাজে ছিলেন। ক্রিস গেইলের দ্রুততম আইপিএল সেঞ্চুরির (৩০ বল) রেকর্ড ভাঙার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে দুর্ভাগ্যবশত, ইনিংসের ২৯তম বলে একটি আপার কাট শট খেলতে গিয়ে ডিপ থার্ড ম্যান অঞ্চলে ধরা পড়েন। যদি তিনি আর একটি বাউন্ডারি বা ছক্কা মারতে পারতেন, তবে ক্রিকেট বিশ্ব সম্ভবত আইপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির সাক্ষী হতো। তবুও, তার এই ইনিংসটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি হয়ে থাকবে। এই আসরে তিনি ইতিমধ্যে এক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ছক্কা মারার রেকর্ডও নিজের নামে করে নিয়েছেন।
রাজস্থান রয়্যালসের ইনিংসের বিশ্লেষণ
সূর্যবংশীর পাশাপাশি ধ্রুব জুরেলও ব্যাট হাতে দারুণ জ্বলে ওঠেন। তিনি মাত্র ২১ বলে ৫০ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস উপহার দেন। মূলত তাদের দুজনের ব্যাটে ভর করেই রাজস্থান রয়্যালস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। এক পর্যায়ে মনে হয়েছিল তারা ২৫০ রানের গণ্ডি অনায়াসেই পার করবে, কিন্তু শেষের দিকে কিছুটা ছন্দপতন হওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রার ঠিক সাত রান আগেই থামতে হয় তাদের। তবে এই বিশাল সংগ্রহই হায়দরাবাদের ব্যাটিং লাইনের জন্য পাহাড়সম চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জফরা আর্চারের বিধ্বংসী বোলিং
২৪৪ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ শুরুটা দারুণ করেছিল। ঈশান কিষাণ এবং ট্রাভিস হেড দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ১৫ বলে ৫১ রান যোগ করে রাজস্থান শিবিরে ভয়ের সঞ্চার করেছিলেন। কিন্তু তখনই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন জফরা আর্চার। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে গত রবিবারের ম্যাচেও তিনি দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলকে প্লে-অফে তুলেছিলেন। এদিনও তার হাত ধরে আসে জোড়া আঘাত। তিনি প্রথমে অভিষেক শর্মাকে ফিরিয়ে দেন এবং পরে কিষাণ ও হেড—উভয়কেই সাজঘরে পাঠিয়ে হায়দরাবাদের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় শেষ করে দেন। তার বোলিং ফিগার ছিল ৩-৫৮, যা চাপে পড়া দলের জন্য ছিল মরণ কামড়।
ফলাফল এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
শেষ পর্যন্ত সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১৯.৩ ওভারে ১৯৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। রেড্ডি (৩৮), অরোরা (৩৫) এবং কিষাণ (৩৩) চেষ্টা করলেও আর্চার এবং বার্গারের (২-২৬) নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা ব্যর্থ হয়। ৪৭ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রাজস্থান রয়্যালস। এই জয়ের ফলে রাজস্থানের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। আগামী শুক্রবার কোয়ালিফায়ার ২ ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে তারা। এখন দেখার বিষয়, সূর্যবংশীর এই ফর্মের ধারা পরবর্তী ম্যাচেও বজায় থাকে কি না। ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন সেই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের দিকেই।
